টাঙ্গাইলের আলোচিত জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অবশেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
রোববার সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত।
বেলা ১১টার দিকে মামলার বাদী ও নিহত ফারুক আহমদের স্ত্রী নাহার আহমেদের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় সোয়া ঘণ্টাব্যাপী তিনি আদালতের কাছে সাক্ষ্য দেন।
তার আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে অসুস্থতার কারণে রানাকে আদালতে হাজির না করায় এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চারবার পিছিয়ে যায়।
আগামী ২০ মার্চ মামলার বাদীকে জেরা ও পরবর্তী স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার প্রধান আসামি সংসদ সদস্য আমানুর রহমান রানার বিচার চেয়ে আদালত চত্বরে মিছিল করে বিচারপ্রার্থীরা। অন্যদিকে রানার সমর্থকরা মুক্তির দাবিতে মিছিলের চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রোববার সাক্ষীর জন্য মামলার বাদী নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ, ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন ও মেয়ে ফারজানা আহমেদ মিথুনের হাজিরা দেয়া হয়। মামলার অন্য আসামি, কারাগারে আটক আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী ও মো. সমিরকে আদালতে হাজির করা হয়। একই সঙ্গে জামিনের মুক্ত থাকা তিন আসামি মাসুদুর রহমান, ফরিদ আহম্মেদ ও নাসির উদ্দিন নুরুকেও আদালতে হাজির করা হয়।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
এই মামলায় এমপি রানা ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪জন আসামি রয়েছে।
গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।








