ইরানের ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। ছয় জাতি চুক্তির শর্ত পূরণ করায় অর্থনৈতিক অবরোধ থেকে মুক্তি পেলো দেশটি।পরমাণু প্রকল্পে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ছয় জাতিকে দেয়া কথা রেখেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ’র ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ মুক্ত হলো ইরান। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে ইরানের অবরোধ মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন ইরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি।
তিনি বলেন,‘ইরান পরমাণু চুক্তি প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলো’। এই ঐতিহাসিক মুহুর্তে ভিয়েনায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ।
অবরোধ মুক্তিতে জাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এক টুইট বার্তায় রুহানি লিখেছেন,‘ পরমাণু চুক্তি সফল হলো’।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা উদ্বেগ প্রশমনে ২০০৬ সালে শুরু হয় ছয় জাতি আলোচনা। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০১৫ সালের জুলাইতে স্বাক্ষরিত হয় ছয় জাতি-ইরান ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি।
অবরোধের শুরু যেভাবে: ২০০২ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কানাঘুষা শোনা যেতে থাকে। ইরান বার বার তার পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে আসলেও পশ্চিমারা তা বিশ্বাস করেনি। বরং তাদের আশঙ্কা হয় যে ইরান হয়তো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে।
ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বিতর্কিত হয়ে পড়ে। তবুও ইরান পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে না আসায় দেশটির ওপর চার দফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘ, ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সমমনা দেশগুলো।
ইরানের জ্বালানীখাত ও আর্থিকখাতে অবরোধ দেশটির অর্থনীতিকে প্রায় অচল করে ফেলে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০১৩ সালের হিসেব অনুযায়ী দেশটির প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে আসে।
অবরোধের অবসানে ইরানের পদক্ষেপ:
আইএইএ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ইরান পরমাণু প্রকল্পগুলোর সেন্ট্রিফিউজ ব্যাপক হারে কমিয়েছে। এতোদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা ভারী-তরলের ‘আরাক’ নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইরান।
প্রতিদানে যা পেলো ইরান:
দীর্ঘদিনের অবরোধ মূলত ছিলো ইরানের জ্বালানীখাত ও বাণিজ্যসহ আর্থিকখাতে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে এখন থেকে ইরান যা পারবে-
-বিশ্ব বাজারে জ্বালানী তেল রপ্তানির সুযোগ পাবে বিশ্বের চতুর্থ তেল উৎপাদনকারী দেশটি। বিশ্বজুড়ে বাজারজাত করতে পারবে পেট্রোকেমিকেল পণ্য।
– ভারী সমরাস্ত্র ও পরমাণু প্রযুক্তি সরবরাহ করা যাবে দেশটিতে-অস্ত্র রপ্তানি করতে পারবে ইরান।
– জব্দ হওয়া রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদ ফিরে পাব।
-আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনা বাধায় আবার স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরে যেতে পারবে।
– অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করতে পারবে ইরান।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক পদক্ষেপ:
অবরোধ তুলে নেয়ার ঐতিহাসিক মুহুর্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বরফ গলাতে দু’দেশ কয়েকজন বন্দিকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় ইরানের হাতে আটক ৪ মার্কিন নাগরিক মুক্তি পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে আছেন ওয়াশিংটন পোস্টেও সাংবাদিক জ্যাসন রেজাইয়ান।
তিনি ২০১৪ সাল থেকে ইরানের কারাগারে ছিলেন। ইরানের বন্দিমুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ৭ ইরানি বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে।






