১৯৬৩ সালে জার্মান লিগ বুন্দেসলিগা নামকরণের পর থেকে প্রতি মৌসুমেই খেলেছে হামবুর্গ। আসছে মৌসুমে সেটি খেলেছিল লিখতে হবে। কারণ আগামী মৌসুমে অভিজাত লিগটিতে আর খেলা হচ্ছে না তাদের। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে বুন্দেসলিগা থেকে প্রথমবারের মত অবনমিত হয়েছে হামবুর্গ। প্রিয় দলের এমন লজ্জা সইতে না পেরে ক্ষোভে-দুঃখে মাঠেই আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন দলটির সমর্থকরা!
শনিবার রাতে অবনমন এড়াতে বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি কোলন বনাম ভল্ফসবুর্গের ম্যাচের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হয় হামবুর্গকে। মনশেনগ্লাডবাখকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের কাজটা ঠিকই সেরেছে হামবুর্গ। কিন্তু ম্যাচের মাঝামাঝি সময়েই জানা যায় কোলনকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভল্ফসবুর্গ। তাতে কোলনের সঙ্গে দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যেতে হয় হামবুর্গকেও।
দলের এমন বিপর্যয় মানতে পারেনি হামবুর্গ সমর্থকদের একাংশ। অবনমন নিশ্চিত জেনেও যখন মাঠে খেলছিলেন খেলোয়াড়রা, তখনই পটকা-ফ্লেয়ার ছুঁড়ে মারেন তারা। যার কিছু কিছু মাঠেও এসে পড়েছে। গোলপোস্টের সামনে আগুন জ্বলেছে। কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে মাঠের একটা অংশ। বাধ্য হয়ে ম্যাচ ১৬ মিনিট বন্ধ রাখতে হয় রেফারিকে।
সব সমর্থকই এমন কাণ্ডে জড়িত ছিলেন সেটিও নয়। অধিকাংশ দর্শকই তখন নিজেদের প্রিয় মাঠে আগুন দেয়াকে মানতে পারেননি। যারা এমনটা করেছেন তাদের উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে গলা ফাটিয়েছেন ভদ্র সমর্থকরা, ‘আমরাই হামবুর্গের জনগণ, তোমরা তা নও! ওদেরকে বের করে দেয়া হোক!’
পরে রেফারির খেলা শেষের বাঁশি বাজা মাত্রই খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কান্নায় ভেঙে পড়েন সমর্থকরা।
শেষ কয়েক মৌসুম ধরেই কোনরকমে অবনমন এড়িয়ে আসছিল হামবুর্গ। এবার ভাগ্যকে পাশে পায়নি। দলটির কিংবদন্তি উয়ি সিলার বলেছেন, ‘আমরা কয়েক বছর ধরেই ভাগ্যকে পাশে পাচ্ছিলাম। কিন্তু ভাগ্য কিন্তু সবসময় পাশে থাকে না, এটা জানা উচিত ছিল আমাদের।’








