বাড়তি কাজের চাপ নিতে নিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হওয়া,এমনকি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়ার ঘটনা জাপানে নতুন নয়। এরপরও কিছু মানুষ প্রয়োজনে কিংবা অভ্যাসবশত স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও বেশি সময় অফিসে বসে থাকেন। এমন ওভারটাইম করা কর্মীদের অফিস থেকে বাড়ি পাঠাতে মজার এক পদ্ধতি চালু করতে চায় জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান।
সন্ধ্যার পরও যে কর্মীরা ডেস্কে বসে থাকেন তাদেরকে ড্রোন দিয়ে গান শুনিয়ে অফিস থেকে বের হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে ড্রোনটি। এই ড্রোনে আবার যে-সে গান নয়, একেবারে ঐতিহ্যবাহী স্কটিশ বিদায় সংগীত বাজিয়ে শোনানো হবে।
কর্মীদের বাড়তি সময় কাজ করা থেকে বিরত রাখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তাইসেই নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাইসেইকে ড্রোন ও প্রযুক্তি সহায়তা করছে ব্লু ইনোভেশন ও এনটিটি ইস্ট নামের প্রতিষ্ঠান।
পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, আগামী বছরের এপ্রিল নাগাদ ক্যামেরা লাগানো ড্রোন উড়বে অফিসের ভেতরে, খুঁজবে অতিরিক্ত সময় কাজ করা কর্মীদের। পেলেই তাদের মাথার ওপর উড়তে উড়তে শোনাবে ‘সময় অনেক হয়েছে এবার বাড়ি যাও’ জানানো স্কটিশ গান।
তবে তাইসেই এর এমন অভিনব উদ্যোগকে বাস্তবতার সঙ্গে রসিকতা হিসেবে দেখছেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই এই ধরণের উদ্যোগকে বোকামি বলছে।
এটা কোনো কাজেই আসবে না বলে সাফ জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব শিজুউকার ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশনের অধ্যাপক সেইজিরো তাকেশিতা।
কারণ তিনি মনে করেন: অতিরিক্ত সময় কাজ করার পরিবেশ প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করে রেখেছে। এর ফলে কর্মীরা মানসিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এখন সমালোচনার মুখে প্রতিষ্ঠানগুলো এই সমস্যা সমাধানে যে কিছু একটা করছে সেটাই দেখাতে এমন হাস্যকর উদ্যোগ।’
ওসাকা ইউনিভার্সিটির সোশিওলজির অধ্যাপক স্কট নর্থ বলেন:এই যান্ত্রিক বিড়ম্বনায় হয়তো কর্মীরা অফিস থেকে বের হবে,কিন্তু কোম্পানির কাজ শেষ করার বেধে দেয়া সময়মতো কাজ শেষ করতে কাজকেই তারা সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন,‘আসলেই ওভার টাইমের মতো শারীরিক-মানসিক সংকটের জন্ম দেয়া সমস্যা সমাধান চাইলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের ওপর থেকে কাজের চাপ কমাতে হবে।’
জাপানের অফিসগুলোতে অতিরিক্ত কাজের চাপে কর্মীদের বেহাল দশা নতুন কিছু নয়। গত অক্টোবরে জাপানের বিজ্ঞাপনি সংস্থা ডেনসুকে শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হয়। কারণ এখানে এক মাসে ১৫৯ ঘণ্টা ওভারটাইম করেও চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন এক তরুণী।







