স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অজেয় থেকেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমেছিল বাংলাদেশ। জয় তাই প্রত্যাশিতই ছিল। স্কটিশ মেয়েরা নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে চ্যালেঞ্জে ফেললেও তা উতরাতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। ১০ বছরের অপেক্ষার পর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পাওয়া জয় ও ব্যক্তিগত অর্জনের মেলবন্ধনে বিশ্বকাপের সূচণাপর্ব হয়ে উঠল বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বাংলাদেশের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে ১০০তম টি-টুয়েন্টি ম্যাচে নামা বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতির কাছে জয়টি বিশেষ কিছু। এ ম্যাচেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টুয়েন্টিতে শততম শিকারের দেখা পেয়েছেন সহ-অধিনায়ক বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার।
বিশ্বকাপে এবারই প্রথম খেলছে স্কটিশরা। ১০ বছরের জয়খরা কাটাতে এই ম্যাচকেই পাখির চোখ করেছিল বাংলাদেশ। টানা চারটি বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে হার দলকে যন্ত্রণা দিচ্ছিল ভীষণভাবে। সেই অপেক্ষার অবসান হলো অবশেষে। জয় ছাপিয়ে এই প্রাপ্তি জ্যোতির কাছে তাই আরও বড় কিছু।
‘অনেক অনেক দিন ধরে এই মুহূর্তটির অপেক্ষা করছিলাম আমরা, ১০ বছর ধরে। এবার এখানে আমার সময় আমাদের মনে হয়েছে, এখনই সময়, এখনই পালা আমাদের সেই জয়ের দেখা পাওয়ার। আমাদের কাছে এই জয় মানে অনেক কিছু। শুধু আমাদের জন্য নয়, যত মেয়েরা ভালো করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, সবার কাছেই এই জয়ের অর্থ অনেক কিছু।’
স্কটল্যান্ডকে বড় লক্ষ্য দিতে না পারলেও বোলিং নৈপুণ্যে ধরা দিল অসাধারণ এক জয়। চার আসর পর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বিজয়ের হাসি বাংলাদেশের মেয়েদের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় জ্যোতির দলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হল প্রত্যাশা মিটিয়ে। টাইগ্রেস অধিনায়কের শততম টি-টুয়েন্টি ম্যাচটি আরও স্মরণীয় হয়ে রইল।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্কটিশ মেয়েদের ১৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১২০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রতিপক্ষ দল ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১০৩ রান।
বড় স্কোর না করেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের উইকেটে আমাদের একটু থিতু হওয়া প্রয়োজন ছিল। শুরুর দিকে ব্যাট করাটা সহজ ছিল না। সাথি ও সোবহানা ভালো ব্যাট করেছে এবং জুটি গড়ার চেষ্টা করেছে। আমাদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে দ্রুত কিছু উইকেট পড়েছে। তবে প্রচণ্ড গরম ছিল, অনেক কিছুই আমাদের হাতে ছিল না। উইকেটও নতুন। সব দিক মিলিয়ে রানটা খারাপ ছিল না।’
‘আমরা জানতাম যে আমাদের স্পিন বোলিং আক্রমণ খুব ভালো, মারুফাও ভালো করছে। আমরা তাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।’








