ভক্তরা পুরনো ভালোবাসা ফিরে পেতে শুরু করেছেন। ক্লাবকেও অনেকে জোর করছেন যেন ফেরানো হয় নেইমারকে। ভক্তদের চাপে অভিমান ভুলে তাই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে ন্যু ক্যাম্পে ফেরানোর প্রস্তুতি শুরু করছে বার্সেলোনা। গোলডটকম জানাচ্ছে এমন তথ্যই।
কাতালান ক্লাবটির অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে গোলডটকম প্রতিবেদনে লিখেছে, নেইমার আর পিএসজির মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন বেশ গভীরভাবেই নজরে রাখছে বার্সা। ২০১৭ সালে ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে প্যারিসে পাড়ি জমানোর পর ট্রফি আর গোলের পর গোল করেও খুশি নন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার, সেটাও মাথায় রাখছেন বার্সা পরিচালকরা।
কয়েকজন বার্সা পরিচালকের সঙ্গেও নাকি যোগাযোগ আছে নেইমারের। অথচ কয়েকমাস আগেও যা মনে হচ্ছিল অসম্ভব! ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর পেপ সেগুরারের সম্প্রতি দেয়া এক বক্তব্যেও ইঙ্গিত মিলেছে দুপক্ষের বরফ গলতে শুরু হওয়ার। সেগুরা জানিয়েছিলেন, নেইমার চাইলে ফিরতে পারেন তবে উদ্যোগটা নিতে হবে নেইমারকেই।
নেইমার আর পরিচালকরা চাইলেই আবার হবে না, খেয়াল রাখতে হবে ভক্তদের আবেগের দিকেও। গত বছর যাদের মনে দাগা দিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, তাকে আবারও মেনে নেবেন কিনা সেই ভক্তরা এমন এক আশঙ্কাও ছিল পরিচালকদের মনে।
সেই শঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে বার্সার। কারণ ভক্তরাই নাকি এখন ক্লাবকে চাপ দিচ্ছেন নেইমারকে ফেরানোর জন্য। সেক্ষেত্রে শুধু ছোট একটা কাজ করতে হবে নেইমারকে। ন্যু ক্যাম্পে ফিরে ভক্তদের কাছে চাইতে হবে ক্ষমা!
আরেকটি বিষয় নিয়েও মাথাব্যথা আছে বার্সাকর্তাদের। সেটা হল- নেইমারের বেতন। পিএসজিতে বর্তমানে ৪০ মিলিয়ন ইউরো বেতন পান বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার। বার্সাতে এরচেয়ে বেশি পান কেবল মেসিই। দুজনের জন্য এমন আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক ঢালা সম্ভব নয় ক্লাবের পক্ষে। তবে আছে সুখবরও! গোলডটকম জানাচ্ছে, ফেরার জন্য নিজের বেতন কমাতে রাজি নেইমার।
ফিরতে হলে পুরনো এক ভূতকে ঘারে চাপিয়ে ফিরতে হবে নেইমারকে। তা হল- সান্তোসের করা ‘ডিআইএস মামলা’। বার্সাকে জড়িয়ে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের সাবেক ক্লাবের এই মামলা স্পেনে ফিরলেই আবারও জীবিত হবে। পুরনো সেই কেলেঙ্কারি মাটি চাপা দিতে না পারলে স্পেনে ফেরাই দায় হবে নেইমারের। বার্সার এক পরিচালক গোলডটকমকে এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি কথা বলেছেন।
পিএসজিকে রাজী করানো আরেক হ্যাপা হবে বার্সার জন্য। পাহাড় পরিমাণ বিনিয়োগ আর ২০২১ সাল পর্যন্ত চুক্তি করিয়ে নেইমারকে ২০১৯ সালে ছাড়বে কী ফরাসি ক্লাবটি? এখানেও উদ্যোগটা নিতে হবে ব্রাজিলিয়ান তারকাকেই। যেভাবে বার্সা ছেড়ে এসেছিলেন নেইমার, সেখানে ফিরতে হলে পিএসজিকেও রাজী করাতে হবে সেভাবেই। সেটা কীভাবে সম্ভব তা কেবল নেইমারেরই ভালো জানার কথা!









