আকরামুজ্জামান, যশোর প্রতিনিধি: যশোরের নয়োপাড়া থেকে উদ্ধার হওয়া বিশিষ্ট কলামিস্ট, লেখক, কবি ফরহাদ মজহার ‘পরিকল্পিতভাবেই ভ্রমণ’ করছিলেন বলে ধারণা করছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ। ‘এটা কোন অপহরণ নয়’ বলেও জানান ডিআইজি।
ফরহাদ মজহারকে ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র্যাব। ফরহাদ মাজহারকে ঢাকা আনা হচ্ছে।
খুলনার ফুলতলা থানায় র্যাব-পুলিশের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা জানানো হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা র্যাব-৬ এর সিইও রফিকুল ইসলাম।
রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের ‘হক ভবন’ থেকে সোমবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে স্বাভাবিক পোশাকে, স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বের হন ফরহাদ মজহার। ভোর ৫টা ২৯ মিনিটে তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের মোবাইল ফোনে ফরহাদ মজহার নিজেই জানান, কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।সেসময় তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানান তিনি। প্রয়োজন হতে পারে জানিয়ে ফোনে ফরহাদ মজহার নিজেই ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেন।
মোবাইল ট্রাকিংয়ের ম্যাধমে মোবাইলের লোকেশন সনাক্ত করে ফরহাদ মজহরকে উদ্ধারের অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহীনি। ঢাকার নিজ বাসা থেকে নিখোঁজের প্রায় ১৮ ঘন্টা পর সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এসময় ফরহাদ মজহার গাড়িতে স্বাভাবিক ছিলেন। তিনি খুলনার শিববাড়ি কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে খুলনা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। উদ্ধারের পর ফরহাদ মজহারকে সকলের সামনে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে।

উদ্ধার করেছে অভয়নগর থানা পুলিশ
অভয়নগর থানা পুলিশ হানিফ পরিবহনের একটি এসি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করেছে বলে জানান যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, এরপর র্যাব সদস্যরা তাকে নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করে।
হানিফ পরিহনের ৫০৫ নং এসি কোচটি যশোরের মণিহার স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে। এই গাড়িতে বসেই সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের তথ্য অনুযায়ী অভয়নগর থানার ওসি আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে অভয়নগর থানা পুলিশ নওয়াপাড়া থেকে হানিফ পরিবহনের এসি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে। তাকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়ার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় র্যাবের টিম। র্যাব সদস্যরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ফরহাদ মজহার খুলনার শিববাড়ি কাউন্টার থেকে নিজেই ঢাকার টিকিট কাটেন। গাড়িতে তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন।
মিস্টার গফুর নামে টিকেট
যাত্রীবাহী বাসটির সুপার ভাইজার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ফরহাদ মজহার তার বাসের আই-৩ সিটের যাত্রী ছিলেন। তিনি খুলনার শিববাড়ি কাউন্টার থেকে বাসে ওঠেন। বাসে উঠেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। নওয়াপাড়ার কাছাকাছি স্থান থেকে তিনি টিকেট চেক করেন। তার টিকিটে নাম লেখা ছিল মিস্টার গফুর। নওয়াপাড়ায় পৌঁছানোর পর পুলিশ তাকে গাড়ি থামাতে নির্দেশ দেয়। অভয়নগর থানা পুলিশ ফরহাদ মজহারকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর র্যাব সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়।
‘মোবাইলের চার্জার নিতেও ভুলেননি’
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি দিদার আহমেদ বলেন, (ফরহাদ মজহরকে) অপহৃত মনে হয়নি। একজন সুস্থ মানুষ কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় যে অবস্থায় থাকে, ঠিক সেভাবেই উনাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

“উনার সাথে একটা ব্যাগ আছে। সেই ব্যাগে উনার এক্সট্রা একটা জামা আছে, একটা গেঞ্জি আছে, কিছু টাকা পয়সা আছে, একটা মোবাইল আছে, একটা মোবাইল চার্জারও আছে। অর্থাৎ মোবাইলের চার্জারও নিতে উনি ভুলেননি। উনি নর্মালি পরিকল্পিতভাবেই জার্নি করছেন বলে মনে হলো।”
খুলনা র্যাব-৬ এর সিইও রফিকুল ইসলাম বলেন, নিউমার্কেটের গ্রিল হাউজে তিনি নাস্তা করেছেন। গ্রিল হাউজের মালিকের কাছ থেকে এই তথ্যটা আমরা কনফার্ম করলাম। তখনই আমাদের মাথায় আসলো তাহলে এই ব্যক্তি হয়তো ঢাকাগামী কোন বাসে যেতে পারে।
বাসের পাশের সিটের যাত্রী ঢাকার বায়িং হাউজে চাকরিরত খুলনার দৌলতপুর এলাকার বাপ্পী জানান, তিনি বাসে ওঠার সময় পাশের সিটের যাত্রী (ফরহাদ মজহার) ঘুমিয়ে ছিলেন। অল্প আলোর কারণে তিনি চিনতে পারেননি। তবে পুলিশ যখন তাকে বাস থেকে নামিয়ে নেয় তখন তিনি চিনতে পেরেছিলেন।
পাশের সিটের আরেক যাত্রী কুষ্টিয়া এলাকার শরিফুল জানান, তিনি পেশাগত কাজে খুলনার আবু নাসের হাসপাতালে এসেছিলেন। কাজ শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন। তিনি ও ফরহাদ মজহার একই কাউন্টার থেকে বাসে উঠেছেন। তিনি প্রথমেই তাকে চিনতে পেরেছেন। পরে পুলিশ ও র্যাব তাকে নিয়ে গেছে।







