‘অন্ধকারে জ্বালিয়ে আলো’-স্লোগানকে সামনে রেখে দুই দিনব্যাপী রাজধানীর ধানমন্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে স্বর্ণ কিশোরীর চতুর্থ জাতীয় কনভেনশন। সোমবার সন্ধ্যায় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে কনভেনশনের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। এসময় স্বর্ণ কিশোরীর চেয়ারম্যান ফারজানা ব্রাউনিয়াসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট জন।
দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৫ হাজার কিশোরী উপস্থিত হয়েছেন রাজধানীতে। মশাল দিয়ে শিখা প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে সোমবার সন্ধ্যার পর স্বর্ণ কিশোরীর চতুর্থ কনভেনশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় দেশের কিশোরীদের সচেতনতায় কাজ করার জন্য স্বর্ণ কিশোরীর সমস্ত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
স্বর্ণ কিশোরী জাতীয় চতুর্থ কনভেনশনে উপস্থিত পাঁচ হাজার কিশোরীর সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারীরা এখন অসম্ভবকে সম্ভব করতে জেগে ওঠেছে। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে দেশের দুই কোটি নারী যখন দেশ বদলে দেয়ার শপথ নিবে তখন সত্যি সত্যি দেশটা বদলে যাবে। নারীর অগ্রগতিতে সব সময় সঙ্গে আছে আমাদের সরকার। বিশেষ করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেকোনো ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতিতে আনন্দিত হন। তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন।
অন্যদিকে স্বর্ণ কিশোরীর চুতর্থ কনভেনশনের উদ্দেশ্য জানিয়ে ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফারজানা ব্রাউনিয়া চ্যানেল আই প্রতিদিনকে বলেন,কিশোরীদের বয়সন্ধি কালের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরি করতে প্রতি বছরেই আয়োজন করা হয় জাতীয় এই কনভেনশন।

দেশকে নেতৃত্ব দিতে মেয়েদের যোগ্য করে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে ২০১২ সাল থেকে স্বর্ণ কিশোরী নিয়ে যাত্রা শুরু করেন ফারজানা ব্রাউনিয়া। কিশোরীদের শক্তি ও বুদ্ধিতে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখন বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি। এরপর আমাদের বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটিয়েছে। কিন্তু এখনো বাল্য বিবাহের শিকার হচ্ছে ৫০ শতাংশ মেয়ে, এখনো ৫০ শতাংশ নারী পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এমনকি তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশের রক্ত স্বল্পতাও রয়েছে। তাহলে কি করে ২০৪১ সালে সোনার বাংলা গড়তে নারীদের ভূমিকা থাকবে? আর আমরা চাই, বাল্য বিবাহ ও নারীর পুষ্টিহীনতা দূর করে একটি সুন্দর আগামি গড়ে তুলতে। শুধু তাই না, আমরা বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখা সোনার বাংলা গড়তে স্বর্ণ কিশোরীরা সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে। স্বর্ণ কিশোরীরা সেই দিনটির জন্যই প্রস্তুত হচ্ছেন।
নারীর এগিয়ে যাওয়ায় দুটি বাধা। একটি হচ্ছে বাল্য বিয়ে, আরেকটি অপুষ্টি। এই দেশে বাল্য বিবাহকে মিউজিয়ামে পাঠাতে পারলেই অন্ধকারে আলো জ্বেলে ওঠবে বলে মনে করেন বিশিষ্ট জনরা।
২০১২ সাল থেকে কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে আসছে স্বর্ণ কিশোরী ফাউন্ডেশন। বাল্য বিবাহ রোধ এবং সুস্থ্য কৈশোর গঠনের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনাই স্বর্ণকিশোরীর লক্ষ্য। স্বর্ণ কিশোরীর চতুর্থ কনভেনশন উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী ও নোবেলজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী।








