‘এটা খুবই ক্লোজ ম্যাচ ছিল। বোলাররা যেভাবে শুরু করেছিল, তা অবিশ্বাস্য ছিল। আমাদের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। জুটি গড়ার অভাব ছিল। আমার শেষ পর্যন্ত খেলে যাওয়া উচিৎ ছিল। আমরা এটা নিয়ে কাজ করতে চাই।’
মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক আসরে আরেকটি স্মরণীয় জয়ের খুব কাছে থেকে ফিরে এভাবেই হতাশা ঝরেছে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির কণ্ঠে। সঙ্গে টেনেছেন ব্যাটিং ব্যর্থতা কথা।
লো স্কোরিং শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কেবল ৪ রানে হেরে হাতছাড়া হয়েছে সুযোগ। ব্যাটারদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার খেসারত ভালোভাবেই দিয়েছে টিম টাইগ্রেস। অথচ ক্যারিবীয়দের ৯ উইকেটে ১৪০ রানে আটকে দিয়ে বাংলাদেশের জয়ের রাস্তাটা ছিল সহজই।
‘আমরা কন্ডিশনকে ভালোভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছিলাম। মেয়েদের বলছিলাম শুধু ঠিক এলাকায় বল করো। ডট বল করলে উইকেট আসবে। আমরা যদি অনেক ম্যাচ খেলতে পারতাম, তাহলে এই অভিজ্ঞতাগুলো আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারতাম।’ ম্যাচ শেষে বলেছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক।
‘হতাশা তো আসলেই, এসব ম্যাচ অনেক ক্লোজ একটা ম্যাচ। অনেক বড় সুযোগ ছিল আমাদের, আরও দুটি পয়েন্ট নেয়ার আসলে। আমাদের অনেক বড় একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। এটার জন্য সবার মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক।’
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে এত কম রানে আটকানো এবং খুব কাছে গিয়ে হারা। শেষ পর্যন্ত নাহিদা অনেক লড়াই করেছে। আরেকজন ব্যাটার সাপোর্ট করলে হয়ে যেত। আমি যদি শেষ পর্যন্ত থাকতাম। একটা জুটির চেষ্টা করেছিলাম, ইনিংস বানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কারণে আমার ওই জায়গায় আউট ক্ষতির কারণ হয়ে গেছে। পরের ম্যাচে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’
লো স্কোরিং ম্যাচে পরিকল্পনা করে ঠাণ্ডা মাথায় উইকেটে টিকে থাকলেও এসে যেত অনায়াস জয়। সহজ সেই কাজটি করতে পারেনি বাংলাদেশ। নিগার দিলেন ব্যাখ্যা।
‘আমাদের আসলে মূলত পরিকল্পনা ছিল এসব উইকেটে যেভাবে খেলার, মানে ১০ ওভার করে ভাগ করে খেলার। হয়ত লক্ষ্য কম ছিল, কিন্তু আমাদের প্রক্রিয়ায় ১৪১ রান যত কম ওভারে করা যায়। ৩০-৩৫ ওভারের ভেতর শেষ করা। উইকেট মন্থর ছিল। এসব উইকেটে লো স্কোরিং ম্যাচে শেষের দিকে চাপ পড়ে যায়। ওটাই পরিকল্পনা ছিল আমরা আমাদের, প্রক্রিয়া মেনে ওভাবেই খেলব। যতদ্রুত শেষ করা যায় আরকি।’
‘দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় স্লো ডাউন করতে হয়েছে। বুঝতে হবে কখনো পেস অন করতে হবে, কখনো পেস অফ। যদি পেস অন করে খেলা হতো, খেলাটা দ্রুত শেষ হতো। আমরা হয়ত জুটি বানাতে সময়টা একটু বেশি নিয়েছিলাম। আমাদের ঘাটতি ছিল ফিল্ড সেটআপ যেখানে ছিল সেখানে উইকেট দিয়ে এসেছি। তাদের বোলিংয়ের বিপক্ষে এর থেকে ভালো ব্যাট করা দরকার ছিল। যা করতে পারিনি।’
৬০ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারানোকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলছেন নিগার, ‘তা তো অবশ্যই। পরপর উইকেট পড়লেই চাপ বেড়ে যায়। এটাই আমাদের ভুগিয়েছে। ওই জায়গায় আর ১০-১৫ রানের যদি জুটি করতে পারতাম বা উইকেট না পড়ত। টপ অর্ডারে ব্যাটাররা যদি আর ৫টা করে রান বেশি করত, হয়তবা ম্যাচ এতটা ক্লোজই হতো না। এর আগেই রেজাল্ট পেয়ে যেতাম।’







