চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। ওয়ানডে দলে দেশসেরা ব্যাটসম্যানকে পেয়ে স্বস্তিতে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। তবে বিপত্তি অন্য জায়গায়। তামিম ফেরায় উইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগার স্কোয়াডে ইনফর্ম ওপেনারের সংখ্যাটা চার। একাদশ গঠনে ভাবনার দুয়ার প্রসারিত হচ্ছে তাতে। সিরিজপূর্ব সংবাদসম্মেলনে মধুর এই সমস্যা নিয়ে জানা গেল অধিনায়কের চিন্তাও।
ইমরুল, লিটন, সৌম্য আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তামিমের ওপেনিং পার্টনার তাদের মধ্য থেকে কে হবেন, এ প্রশ্ন কয়েকদিন ধরেই ভেসে বেড়াচ্ছে মিরপুরে! প্রধান নির্বাচক ও কোচ স্টিভ রোডস যাকে বলেছেন স্বাস্ব্যকর প্রতিযোগিতা। একই প্রসঙ্গ মাশরাফীর সামনে আনা হল শনিবার, একটু অন্যভাবে। প্রশ্নকর্তা জানতে চাইলেন এক বা একাধিক ওপেনারকে নিচের দিকে ব্যাটিং করানোর পরিকল্পনা আছে কিনা; এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি অধিনায়ক।
‘অনেক কিছুই হতে পারে, কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। আলোচনা হচ্ছে। সাম্প্রতিক অতীতে কয়েকজন ওপেনার নিচে ব্যাটিং করেছে। ইমরুল ছয়ে ব্যাটিং করেছে। অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছে। সৌম্য ফাইনালে সাত নম্বরে নেমে দারুণ ব্যাটিং করেছে। এরকম কিছুও হতে পারে। বিশ্বকাপের কথা ভেবে আমরা এমন কিছু করতেও পারি।’
যারা রানের মধ্যে আছেন এমন কাউকে বাইরে বসিয়ে রাখার পক্ষপাতী নন মাশরাফী। ওপেনিংয়ে যাদের জায়গা হবে না তাদের খেলতে হতে পারে লোয়ার-মিডলর্অডারে। এশিয়া কাপেই যেমন ইমরুল-সৌম্য খেলেছেন ছয়-সাত নম্বরে।
‘মধুর সমস্যা হল, সবাই ফর্মে আছে টপঅর্ডারে। যেটা আমরা অনেক দিন থেকে চাচ্ছিলাম। একটা সিদ্ধান্তে যেতেই হবে। ভালো হলে মনে হবে এটাই ঠিক আছে। খারাপ হলে মনে হবে যে রান করেও বাদ গেছে হয়ত ওকেই খেলালে ভালো হত। কথাবার্তা অনেক চলবে। এখনো অনেকের চিন্তা-ভাবনা আছে। কোচ, নির্বাচকদের সঙ্গে আলাপ করে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে দল ১৬ সদস্যের। হোম সিরিজের স্কোয়াডে এত ক্রিকেটার রাখা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করেই। বিশ্বকাপ দলের চিন্তায় থাকা সব ক্রিকেটারকে পরিচর্যা ও চোখে চোখে রাখতে খেলতে সুযোগ দেয়ারও পক্ষে মাশরাফী।
‘আমাদের ১৬ জনের যে স্কোয়াড আছে। যদি দেখেন, সাধারণত হোমে ৪ জন রাখা হয়। বেশি হলে ১৫ জন। এখানে ১৬ জন রাখার কারণ যাতে তাদের আত্মবিশ্বাসে মরিচা না পড়ে। মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকে। এই জায়গায় এখানে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেকজন সাম্প্রতিক সময়ে ভালো খেলেছে বা খেলছে, তাদেরকে একসঙ্গে রাখা।’
২ মাস ২০দিন পর খেলতে নেমে বিসিবি একাদশের হয়ে ৮৩ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছেন তামিম। এ বাঁহাতি ওপেনার একাদশে অটোমেটিক চয়েস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো সৌম্যও উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছেন ১০৩ রানের ঝলমলে ইনিংস।
স্কোয়াডের আরেক ওপেনার ইমরুল সবশেষ সিরিজে তিন ম্যাচে করেছেন ৩৪৯ রান, ছিল দুটি সেঞ্চুরি। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইমরুলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন দাস। তার এক ম্যাচ আগেই এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে লিটন খেলেছিলেন ১২১ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস।
ওপেনারদের মাঝে রানের তুমুল প্রতিযোগিতা দিচ্ছে দারুণ কিছুর আভাস। মধুর এ সমস্যাই টিম ম্যানেজমেন্টকে সুযোগ করে দিচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের সামনে সেটি আসছে চ্যালেঞ্জ হয়ে। যেখানেই ব্যাটিং করার সুযোগ আসুক, পারফর্ম করে বিশ্বকাপ খেলার দাবী জানানোর সুযোগ যেখানে।







