পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট দেশের বাইরে থাকায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ঘাতকদের হাত থেকে বেঁচে গেলেও তাদেরকে হত্যার চেষ্টা কম হয়নি। স্বৈরাচার এরশাদের সময় থেকে শুরু করে ২১ আগস্ট তার বড় প্রমাণ। তবে সম্প্রতি দেশের বাইরের একটি অখ্যাত নিউজ পোর্টাল এবং একটি টিভি চ্যানেলের খবরে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার বিষয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় তার পক্ষে কোন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে দেশের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমও এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করে। বিদেশের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোন সংবাদ প্রকাশিত হলে সেই সংবাদ প্রকাশে দেশীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিযোগিতার খবর পুরনো। সেই প্রতিযোগিতায় এই খবর আরেকটি কালো অধ্যায় যোগ করলো। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংবাদটিকে ভুয়া বলে জানিয়েছে। একইসঙ্গে এমন ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কতা অবলম্বন এবং বিচার বিবেচনা প্রসূত মিডিয়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই অনুরোধের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি। আমরা মনে করি, এমন ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশের পূর্বে অবশ্যই ক্রসচেক এবং সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশবিরোধী পক্ষের টার্গেট আছেন বা থাকবেন, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে সত্যতা যাচাই না করে বিদেশি প্রতিবেদন দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোও প্রকাশ করবে এটা কাম্য হতে পারে না। কপি-পেস্ট কিংবা অনুমান নির্ভর অনুবাদ সাংবাদিকতার বদলে দেশের গণমাধ্যমে কতটুকু অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং নীতি নৈতিকতার চর্চা হয়, এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্টদের তা আবারও ভেবে দেখার সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি। অবশ্য বিদেশী গণমাধ্যমের বরাতে শনিবার বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এরকম সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করলেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কয়েক দফা ‘ক্রসচেক’ করে খবরটির সত্যতা না পাওয়ায় চ্যানেল আই এবং চ্যানেল আই অনলাইন তা প্রচার বা প্রকাশ করেনি। বিরোধীপক্ষকে ঘায়েল করতে কথায় কথায় যারা তথাকথিত গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এরকম খবর ছড়ায় কিংবা প্রচার বা প্রকাশ করে তাদেরকেও এখান থেকে আমরা শিক্ষা নিতে বলছি।








