বিশ্বব্যাপী মানুষের ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ঝুঁকির আশঙ্কা কমার কথা থাকলেও তা বেড়ে যাচ্ছে। তার সেইসব হয়রানির ঘটনা ঘটছে পরিচিত মানুষ, মানে পরিবার ও আশেপাশের লোকজনের কাছ থেকেই।
মাইক্রোসফট পরিচালিত এক জরিপ তথ্যে এসব জানা গেছে।
কী কারণে হয়রানি হচ্ছে, সেই বিষয়ে দ্বিতীয় বছরের মতো, ‘অপ্রত্যাশিত যোগাযোগ’ অনলাইন ঝুঁকির শীর্ষে রয়েছে। ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন অনলাইনে তাদের সাথে এমন কিছু মানুষ যোগাযোগ করেছে যেটা তারা চাননি। এটা গত বছরের চেয়ে ৪৩ শতাংশের চেয়ে দুই শতাংশ কম। এরপর অনলাইনে সবচেয়ে ঝুঁকি হচ্ছে ঠগ, প্রতারণা ও জালিয়াতি। সামগ্রিকভাবে ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা জরিপে এটা জানিয়েছেন। এ বছরই প্রথম এ ঝুঁকি জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপদ ইন্টারনেট দিবসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ‘সিভিলিটি, সেফটি অ্যান্ড ইন্টার্যাকশনস অনলাইন- ২০১৭’ শীর্ষক এক ডিজিটাল সভ্যতা সূচক জরিপ পরিচালনা করে মাইক্রোসফট। টিনএজার ও প্রাপ্তবয়স্করা অনলাইনে কী ধরণের ঝুঁকির সম্মুখীন হয় এবং অনলাইনে তাদের সম্পৃক্ততা ব্যক্তিগত জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে তার উপলব্ধি জানার উদ্দেশ্যে এ জরিপ পরিচালিত হয়।
এ জরিপ অনুযায়ী, ৬১ শতাংশের অনলাইনে হয়রানিকারীর ব্যাপারে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ৩৬ শতাংশ ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির জন্য দায়ীকে চেনেন। ১৭ শতাংশকে হয়রানি করেছে তাদের বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্য ছিলেন। ১৯ শতাংশ হয়রানি করা ব্যক্তি তাদের পূর্ব পরিচিত ছিল। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা বেশিরভাগ অনলাইনে হয়রানির ক্ষেত্রেই দায়ী বলে জানিয়েছেন ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা।
হয়রানির শিকার হবার পরে তার জবাব দেবার প্রবণতা বা প্রতিরোধ গড়ে তোলার হার গতবছরের চেয়ে কমে এসেছে। হয়রানিকারীকে সরাসরি প্রত্যুত্তর করেছেন, যা গত বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ কম যেখানে প্রত্যুত্তর দেয়ার সংখ্যা পূর্বের ১৭ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে, ৬৬ শতাংশ সম্পূর্ণরূপে অথবা কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বোধ করেছেন।
হয়রানি মোকাবিলায় ডিজিটাল সুরক্ষার বিষয়ে যেসব পদক্ষেপের সুপারিশ এসেছে, তারমধ্যে সহানুভূতি ও উদারতার সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করা এবং অনলাইনে সবাইকে মর্যাদা ও সম্মান দেয়া ছিল সবার উপরে। আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি ও ভিন্নমতের বিষয়ে সম্মান প্রদর্শন করা উচিৎ বলেও মতামত এসেছে। যোগাযোগ কিংবা সম্পৃক্ততার পূর্বে ভেবে নেয়া উচিৎ এবং গালিগালাজ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকা উচিৎ বলেও জানান জরিপে অংশ নেয়া মানুষরা। হয়রানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং হয়রানির শিকার অন্যকে সহায়তা করা অনলাইনে হয়রানি কমাবে বলে তারা মনে করেন। হয়রানির ঘটনা ঘটলে অনিরাপদ আচরণের প্রমাণ রেখে সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিক অভিযোগ করারও সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রতি জোর দেন।
২০১৬ সালে প্রথম ১৬টি দেশে জরিপ চালিয়েছিল মাইক্রোসফট, এবার জরিপটি ২৩টি দেশে পরিচালিত হয়। জরিপে আচরণগত, মনস্তত্বগত, যৌনাচারণগত ও ব্যক্তিগত বিষয়ে টিনএজার (১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী) এবং প্রাপ্তবয়স্কদের (১৮ থেকে ৭৪ বছর বয়সী) বর্তমানে অনলাইনে নাগরিকত্বের অবস্থা নিয়ে তাদের ধারণা ও উপলব্ধির কথা জানতে চাওয়া হয়েছিল।







