ছেলে হারানো মায়ের কান্না যেনো থামছে না। বাবা সবার মধ্যে নিজের ছেলে খুঁজে ফেরেন। পরিবারের সদস্য ছাড়া বাকী সবাই ভুলে গেছেন বিজ্ঞান লেখক ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে।
১২ মে সুবিদবাজারগস্ত নিজ বাসার সামনে উগ্রবাদীর হামলায় খুন হন বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত কুমার দাশ। সেই ঘটনার দু’মাস পার হয়েছে।
প্রথম দিকে ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও এখন আর আইন শৃঙ্খলাবাহিনী খোঁজ নেন না এই পরিবারের। ব্লগার অনন্তের হত্যা বিচারের দাবি আন্দোলন, মিডিয়া কাভারেজ সবকিছুই থেমে গেছে একনিমেষেই। কেবল মাত্র পরিবারের সবচেয়ে মেধাবী ছেলেকে হারানোর যন্ত্রনা বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম সিলেট টুডে টোয়েন্টিফোরকে ব্লগার অনন্ত’র বড় ভাই রত্মেশ্বর দাশ বলেন, পরিবারের কেউ এখনো দুঃখসহ স্মৃতি ভুলতে পারছে না। ছেলের শোকে মা ঘুমাতে পারেন না। হঠ্যাৎ ঘুম আসলেও ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠেন। বাবা সবসময় অনন্তকে সবার মধ্যে খুঁজে বেড়ান।
অনন্তর ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট সমর বিজয় শীল জানান, এই পরিবারের এখনও বেশীরভাগ সময় রান্না হয় না। কেউ খায় না। সবাই সবসময় মনমরা হয়ে থাকেন। তিনি আরো বলেন, অনন্ত হত্যা মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর হবার পর এক কর্মকর্তা বাসায় খোঁজ নিয়েছিলেন। এরপর প্রশাসনের আর কেউ কোনো কর্মকর্তা খোঁজ নেননি। মামলার অগ্রগতির সম্পর্কেও কিছু জানি না।
দুই বোনের মধ্যে ছোট অনন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা, আইএস ও ব্লগার হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন। সেকারণেই তিনি দীর্ঘদিন উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে ছিলেন।
চাকরির পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ক ছোট কাগজ ‘যুক্তি’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন অনন্ত বিজয় দাশ।
একুশে বইমেলায় তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে; ‘জীব বিবর্তনের সাধারণ পাঠ’ও ‘ডারউইন একুশ শতকের প্রসঙ্গিক ভাবনা’। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক ব্লগার অভিজিৎ রায়ের ‘মুক্তমনা ব্লগের পাশাপাশি ‘পড়ুয়া ও বাঁধভাঙার আওয়াজসহ বিভিন্ন ব্লগে লিখতেন তিনি।







