চট্টগ্রাম থেকে: লাল বলের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সাদা বলের যাত্রা শুরু করতে চলেছেন ইবাদত হোসেন। বুধবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে গতি তারকা পেসারের অভিষেক হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সুযোগ এলে কী করতে হবে, ইবাদতকে বুঝিয়ে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। অধিনায়কের পরামর্শ অনুযায়ীই কষছেন সাফল্যের ছক।
সিরিজ শুরুর আগে ইবাদতের মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে শুধু অধিনায়ক তামিমের কথাই। চ্যানেল আই অনলাইনকে সাক্ষাৎকারে টাইগার পেসার জানিয়েছেন আফগান-সিরিজে নিজের ভূমিকা ও লক্ষ্যের কথা।
টেস্ট ক্রিকেটে ইকোনমি নিয়ে তেমন চিন্তা না করলেও চলে। এখন তো ওভারে কত রান খরচ করলেন, সে হিসেবও করতে হবে।
ইবাদত: আমার কাছে যেটি মনে হয়, যদি ভালো টেস্ট বোলার হতে পারি, ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি খেলা খুব সহজ হয়ে যাবে। টেস্টে যখন নতুন বলে বোলিং করি একই লেংথে করার চেষ্টা থাকে। যেহেতু বল সিমে হিট করি, যদি ওই লেংথে করতে পারি কিছুটা কঠিন হবে ব্যাটসম্যানদের জন্য। নতুন বলটা শুধু লেংথে হিট করে যাবো, যেটি তামিম ভাই আমাকে বলেছেন। ওয়ানডেতে দশ ওভার মাত্র বোলিং করার সুযোগ পাবো, প্রথম চেষ্টা থাকবে নতুন বলে বল করলে লেংথে হিট করা। আর পুরাতন বলের যে ব্যাপারটা, বিপিএলে যেটি করেছিলাম, স্লগ ওভারে এসে শুধু ইয়র্কার বা শুধু বাউন্সার, পরিস্থিতি অনুযায়ী যেগুলো পারি সেটি করার চেষ্টা করব।
অধিনায়ক আর কী কী বলেছেন আপনাকে?
ইবাদত: চট্টগ্রামে যেদিন প্রথম অনুশীলন করেছি, তামিম ভাইকে নতুন বলে বোলিং করেছি। খুব ভালো হচ্ছিল বোলিং। নেট থেকে বেরিয়ে সে খুব ভালো বলেছে। বলেছে, এভাবে যদি করতে পারিস তোর জন্য এবং আমাদের দলের জন্য ভালো হবে। যেটি করছিলাম, নতুন বলে সুইং করাচ্ছিলাম, উনাকে জাস্ট লেংথে হিট করছিলাম। এটাই উনি আমার কাছে প্রত্যাশা করেন। ওটা করলে খুব কঠিন হবে ব্যাটসম্যানের জন্য এটিই বলেছেন। আর বলেছেন, তোকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ওটাই করতে হবে। অধিনায়কের চাওয়াকেই প্রাধান্য দেব। সে কী চাচ্ছে সেটি মাথায় রেখেই বোলিং করব।

চট্টগ্রামের উইকেট স্পোর্টিং হয়। ব্যাটিং-বোলিং দুই পক্ষই সফল হতে পারে এখানে। অবশ্য সেজন্য বাড়তি কিছু করতে হয়। সেই চ্যালেঞ্জে আপনার বোলিংয়ের যে গতি সেটি কতটা সহায়ক হতে পারে?
ইবাদত: দেখেন, আমাকে আপনারা সবাই চেনেন ফাস্ট বোলার, যে জোরে বল করতে পারে। তো আমার মূল শক্তি হচ্ছে গতি। সাথে সুইং নিয়ে কাজ করেছিলাম ওটিস গিবসনের (সদ্যবিদায়ী পেস বোলিং কোচ) সাথে। সেটাও নিয়ন্ত্রণে আসছে। পেস, সুইং ও অ্যাকুরেসি- এ তিনের সমন্বয়ে এই সিরিজটা শুরু করতে চাই।
বিপিএল শেষেই ওয়ানডে সিরিজ সামনে চলে এলো। প্রতিপক্ষ দল সম্পর্কে আপনারা যারা নতুন অনেকেরই ধারণা কম। অল্পসময়ে আফগান খেলোয়াড়দের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে কতটা জানতে পারছেন?
ইবাদত: চার দিন আগে আমাদের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট ওদের ব্যাটসম্যান-বোলারদের কিছু ভিডিও ফুটেজ দিয়েছে। দেখলাম ওদের ব্যাটার যারা আছে কে কী রকম। কে কোন জায়গায় বল করলে ডট বেশি পাওয়া যায় বা ডিসমিসাল পাওয়া যায়। এগুলো দেখছিলাম গত দুই দিন ধরে।

নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্টে দুর্দান্ত করার আত্মবিশ্বাস ওয়ানডের পথচলার শুরুতে কতটা উজ্জীবিত রাখছে আপনাকে?
ইবাদত: আমরা ভালোভাবে বছরটা শুরু করতে পেরেছি। যেটি আগে কখনো হয়নি নিউজিল্যান্ডে, আমরা টেস্ট জিতে ইতিহাস করে ফেলেছি। ওখান থেকেই আমার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ওখান থেকে বিপিএলেও যা করতে চেয়েছিলাম তাই হয়েছে। যে আত্মবিশ্বাসটা আছে সেটি দিয়েই সাদা বলের জার্নি শুরু করব। সেই আত্মবিশ্বাস আমাকে উজ্জীবিত করে।
আফগানদের ৩-০তে ওয়ানডে সিরিজ হারানোর লক্ষ্যের কথা বলেছেন। সত্যিই কি সেটি সম্ভব?
ইবাদত: অবশ্যই। দেখেন, ওয়ানডেতে আমারা খুবই ভালো দল। বিশ্বকাপ সুপার লিগের পয়েন্টে আমরা দুই নম্বরে আছি। আমাদের লক্ষ্য ৩-০। ইনশাআল্লাহ, ৩-০তেই সিরিজ জিতব।
সেই সাফল্যে নিজের নামও নিশ্চয়ই জড়াতে চাইবেন?
ইবাদত: এখনো তো অভিষেক হয়নি। শুরুটা ভালো করতে চাই। চাই দেশের হয়ে ভালো কিছু করতে। অবদান এমন হোক, আমার কারণে দল জিতবে।








