ধূমপান যেমন ক্যানসারের প্রধান কারণ, তেমনি শরীরে মেদ বা চর্বি জমাও ক্যানসারের দ্বিতীয় কারণ। তাই মেদকে ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর মনে করেন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সায়েন্সের প্রধান সাইমন স্টিভেনস।
যুক্তরাজ্যে এক ডায়াবেটিস কনফারেন্সে সাইমন স্টিভেনস বলেন, অতিরিক্ত স্থূলতা বা মেদ ক্যানসার হওয়ার দ্বিতীয় প্রধান শর্ত। এমনকি ডায়াবেটিস টাইপ ‘টু’ জন্য যে হারে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বিশ্বে বাড়ছে এর ফলে চিকিৎসা ও জটিলতার জন্য বার্ষিক এনএইচএসের বাজেটের প্রায় নয় শতাংশই ব্যয় হয়ে যায়।
টাইপ ‘টু’ ডায়বেটিসের কারণসমূহ
– বয়স ৪৫ এর বেশি হলে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
– শরীরের অতিরিক্ত ওজনের কারণে।
– উচ্চ রক্তচাপের কারণে।
– শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেশি থাকলে।
– পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের কারণে।
– শরীরের উপকারী HDL কোলেস্টরলের মাত্রা কম থাকলে।
– ৯ পাউন্ডের বেশি ওজনের সন্তানের জন্মদান করলে
– ডিপ্রেশনের কারণে।
– অধিক পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খেলে।
– অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে।
– ধুমপান করলে অথবা কোন ধুমপায়ীর সাথে বসবাস করলে।
তবে এরই মধ্যে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা স্থূলতা মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি কর্মসূচিও চালু করেছে।
এক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২২ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যে অতিরিক্ত স্থূলতার হার বেশি।
স্টিভেনস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন বলা যেতে পারে অতিরিক্ত ওজন ধূমপানের মতই ক্ষতিকারক একটা সংকটে নিয়ে যেতে পারে।’
যুক্তরাজ্যের এনএইচএস প্রধান নির্বাহী বলেন, তারা এরই মধ্যে তাদের হাসপাতালে চিনিযুক্ত পানীয় এবং অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত খাবার রাখা থেকে বিরত রয়েছেন। এর ফলে আমরা ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক ফল দেখতে পেয়েছি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ১০ জনের মধ্যে গড়ে ৯ জনের ডায়াবেটস টাইপ ‘টু’ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশি। একমাত্র স্বাস্থ্যসম্মত একটা ডায়েট প্ল্যান এবং লাইফস্টাইলের পরিবর্তনই পারে এই সমস্যা থেকে সমাধান করতে।
তবে শঙ্কা প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের দাতব্য ও গবেষণা সংস্থা ‘ডায়াবেটিস ইউকের’ পরিচালক বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ টাইপ ‘টু’ ডায়াবেটিস ঝুঁকিতে আছেন।
তাই অতিরিক্ত ওজন এবং ডায়াবেটিস টাইপ ‘টু’ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। যেসব ফলমূল সবজি শস্য জাতীয় খাবার ও বাদামে ফাইবারের পরিমাণ বেশি সেগুলো বেশি করে খেতে হবে। চেষ্টা করতে হবে স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি খাবার খাওয়ার।
এর সাথে সাথে অতিরিক্ত ওজন টাইপ টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। তাই উচ্চতা এবং বয়স অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে খাবার তালিকা তৈরি করে ফেলতে হবে।
এছাড়া প্রতিদিন নিয়মমাফিক হাঁটাহাঁটি এবং ব্যায়াম আপনার ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যাদের ইতিমধ্যে টাইপ ‘টু’ ডায়াবেটিস হয়ে গেছে তাদের অতি অবশ্যই উচিত ধূমপান ছেড়ে দেওয়া।
এটি টাইপ টু ডায়াবেটিসকে আরো ভয়ংকর করে তুলবে। ধূমপান ইনসুলিন রেজিস্টেন্স এর সমস্যাকে আরো প্রকট করে তোলে। যার কারণে শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।








