মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সংযোগ বন চাউতলি বিটে একটি মায়া হরিণকে গিলে খেয়েছে অজগর সাপ।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ১২ ফুট লম্বা অজগরের প্রায় ১৫ কেজি ওজনের ওই হরিণকে গিলে খেতে সময় লাগে দুই ঘন্টা।
প্রথমে বাম পায়ে কামড় দিয়ে হরিণটির আহত করে অজগরটি। পরে মাটিতে ফেলে দিয়ে হরিণটির সারা শরীরে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। শিকার পর্ব শেষ হতেই হরিণটির মাথার দিক থেকে গিলতে শুরু করে অজগরটি।
বনবিভাগের কর্মী ছাড়াও সেখানে তখন জড়ো হয় উৎসুক লোকজন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান সংবাদ পেয়ে সহকর্মীদের নিয়ে ছুটে যান বনে। তিনি বলেন, এটি প্রকৃতির সাধারণ নিয়ম, একই সঙ্গে প্রাণিদের খাদ্যশৃংখলের উজ্জ্বল উদাহরণ। এমন দৃশ্য প্রকৃতিতে অনেক হয়, কিন্তু চোখে দেখার সুযোগ হয় না। এখন বলা যায়, লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষিত রয়েছে।
তিনি বলেন, বনবিভাগে তার কর্মজীবনে এই প্রথম এরকম দৃশ্য তিনি দেখেছেন এবং এটিকে তিনি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। প্রায়ই অজগর খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ছুটে যায়। কিন্তু বর্তমানে এটি কমেছে। বলা যায় প্রাণীকূলের যে ইকো ব্যালান্স এই বনে ফিরতে শুরু করেছে।
সাপটির খাবার শেষ হলেও দীর্ঘক্ষণ ধরে সে সেখানেই অবস্থান করতে থাকে। তাই এটি যাতে বনের বাইরে না যায় এবং কেউ তাকে বিরক্ত না করে সেজন্য নজর রাখতে চাউতলী বিটের বনকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে পরিবেশ সংরক্ষণবিদ সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, এক সময় এই বনের সকল জীবযন্তু তাদের ন্যাচারাল খাবার খেয়েই সেখানে বসবাস করতো। বর্তমানে বনে গাছপালা কমে যাওয়ায় সেখান থেকে তাদের খাবারও যোগানও কমেছে।
তিনি জানান, অজগর সাধারণত ইঁদুর, খরগোশ, হরিণের বাচ্চা ধরে খায়। বনে এ জাতীয় খাবার না থাকায় প্রায়ই অজগর ছুটে আসে লোকালয়ে। ছাগল, মুরগী, হাঁস ধরে খায়।
সিতেশ রঞ্জন জানান, মানুষের হাত থেকে উদ্ধার করে এবং তাঁর সেবা ফাউন্ডেশনে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটা শতাধিক অজগর লাউয়াছড়া, চাউতলী ও রেমা কালেঙ্গা বনে অবমুক্ত করেছেন।







