জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক ও লেখক আবুল কাসেম ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত ফয়সল আরেফিন দীপনকে বিএনপির কর্মী বানানোর অপচেষ্টাকে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন ম্যাগাজিন ‘সাপ্তাহিক’র সম্পাদক গোলাম মোর্তাজা।
চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে আমি দীপনকে চিনি। তখন আমরা ইন্টারমিডিয়েট ১ম বর্ষের ছাত্র ছিলাম। এরপর থেকে দীপন মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিলো।
সে যদি বিএনপি করতো তাহলে আমি জানতাম। আমরা এমন এক সমাজে বসবাস করি যেখানে সকলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাখতে হয়। দীপনেরও বিএনপির দু’এক জনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে সে যদি বিএনপি করতো তাহলে আমার জানা থাকতো।
এর আগে গত ১ নভেম্বর, নিহত ফয়সল আরেফিনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘নিহত ফয়সল আরেফিন দীপন জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত একজন নিবেদিত সংগঠক ছিলেন।
পরে ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই মিলাদের আয়োজন করে বিএনপি।
এসময় বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন বলেছিলেন, ‘দীপন সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তবে তিনি শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করতেন। তিনি জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।’
এ প্রসঙ্গে মোর্তাজা বলেন, যে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কথা বলা হচ্ছে। সেটা শান্তিনগরে। দীপনের চলচল বলতে যেটা বোঝায় সেটা টিএসসি-আজিজ সুপার মার্কেট-নিউমার্কেট এ অঞ্চল ঘিরে। তবে সে কেনো শান্তিনগরের জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সদস্য পদের জন্য আবেদন করতে যাবে?
তবে দীপন জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সদস্য ছিলেন। তবে সেটা মেজর জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত পাঠাগারে নয়।
এ প্রসঙ্গে দিপনের ছোটবেলার বন্ধু অদ্বিতী কবির কেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান-‘বেশ অনেকদিন ধরেই আমাদের ছোটবেলার বন্ধু ফয়সাল আরেফিন দীপনকে বিএনপি’র সমর্থক ইত্যাদি বলে কুৎসিতভাবে কালার দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। দীপন জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহ সভাপতি ছিল- এই তথ্যটির ওপর ভর করে শুরু হয়েছে এই জঘন্য অপবাদের। আসল ঘটনা জানার কারও দরকার হয়নি। ঘটনাটি এই-
১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক ওয়াজিউর রহমানের ছেলে, আমাদের ছোটবেলার আরেক বন্ধু জিয়াউর রহমান পানিতে ডুবে মারা যায়। সেই জিয়ার স্মৃতিতে পরের বছর থেকে একটি পাঠাগার স্থাপিত হয় এবং বাৎসরিক একটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট শুরু হয়। ঐ জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহ সভাপতি ছিল দীপন। এখানে কোন রাজনীতি নেই, আছে প্রয়াত বন্ধুর প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসা।’






