চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৭১ কে ‘সেভেন্টি ওয়ান’ বলা যদি অন্যায় হয়ে থাকে, ক্ষমা চাইছি: শুভ

‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির প্রিমিয়ার শোতে আরিফিন শুভ ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবির শুটিংয়ের পোশাক ও মাথায় বঙ্গবন্ধু লেখা টুপি পরে আসেন। ওই অনুষ্ঠানে ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবিটি দেখার সাথে দেশপ্রেমের তুলনা করেন অভিনেতা। আহবান জানানোর এক পর্যায়ে তিনি, ৭১ কে ‘সেভেনটি ওয়ান’ এবং ৫২ কে ‘ফিফটি টু’ বলেন। এ বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে পেজে আপলোড করা এক ভিডিও বার্তায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে এবং ক্ষমা চেয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছেন শুভ।

অভিনেতা বলেছেন, এই ভিডিও বার্তাটি করতে আমাকে কাছের কিছু মানুষ নিষেধ করেছেন। কিন্তু আমার মনে হলো, আসলে কতক্ষণ চুপ থাকা যায়? যারা আমাকে ভালোবাসেন না অথবা বাসতে চাননা তাদের মন্তব্যের কোনো প্রতিউত্তর কখনও দেইনি। আমাকে ক্ষমা করবেন যদি ভুল কিছু বলে থাকি।

মিশন এক্সট্রিম মুক্তি পেয়েছে। আমাদের অনেক ত্যাগের, অনেক পরিশ্রমের চলচ্চিত্র। সেটাকে যারা ভালোবাসা দিচ্ছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আর যারা ভালোবাসা দিচ্ছেন না, তাদেরকেও অনেক ভালোবাসা। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি, একদিন হয়তো তাদের ভালোবাসা পাবো।

‘মিশন এক্সট্রিম’র প্রিমিয়ারে আমার পরনে যে কাপড় ছিল, সেটা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন, কটূক্তি, জল্পনা কল্পনা। মনে হলো, কখনো না কখনো মানুষকে কথা বলতে হয়, নিজের যায়গাটা পরিষ্কার করতে হয়।

এবছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মার্চ, ‘বঙ্গবন্ধু’র শুটিং করেছি। মাঝে বিরতির পরে এখন আবার করছি। ‘বঙ্গবন্ধু’র শুটিং চলাকালীন পুরোটা সময়, আমার গায়ে যে কাপড়টি দেখছেন, সেটা অফস্ক্রিনেও পরে থেকেছি। এটা আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস, যে চরিত্রটিতে কাজ করছি, সেই চরিত্রে বসবাস করার জন্য। এখানে আহামরি কোনো বিষয় নেই।

আপনাদের যদি মনে থেকে থাকে, ‘বঙ্গবন্ধু’র প্রথম পর্বের শুটের সময়েও আমি এই কাপড় পরে থাকতাম অফ স্ক্রিনে। তখনও মাথায় কিছু পরে থাকতাম না। কিন্তু এখন যারা আমাকে ফলো করেন, তারা দেখে থাকবেন আমি সবসময়ে মাথায় কিছু না কিছু পরে থাকি। এর একটি কারণ আছে, যে কারণটি আমি বলতে চাই, কিন্তু বলবো না। তাতে আমার অন্য একটি ছবি ‘নূর’-এর ক্ষতি হবে। সেটা সারপ্রাইজ। আমি যখন কাজ করি তখন কাউকে জানাতে চাই না, কাজ প্রকাশ পেলে জানাই। ‘নূর’-এর শুট-এর পরে আমাকে যারা দেখেছেন, মাথায় কিছু না কিছু পরা থাকে। প্রিমিয়ারের দিন বঙ্গবন্ধুর শুটিং থেকেই আমি আসি। স্বভাবসুলভ ভাবে সেই কাপড়টাই পরে গেলাম। ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিতে ৭ই মার্চের দর্শক যারা ছিলেন, তাদের অনেকের মাথাতেই এই টুপিটি ছিল। টুপিটি পছন্দ হলো। ভাবলাম এটাই মানাবে পোশাকের সাথে, পরে চলে যাই।

বিজ্ঞাপন

‘সেভেন্টি ওয়ান’ আর ‘ফিফটি টু’ নিয়ে অনেক মানুষের অনেক কথা। ভুল ক্ষমা করবেন। আসলে অনেকদিন ধরেই আমাকে অনেক ইংরেজি স্ক্রিপ্ট পড়তে হচ্ছে। সেগুলোতে সেভেন্টি ওয়ান, ফিফটি টু, ফরটি এইট, ফরটি নাইন পড়তে হচ্ছে।

মিশন এক্সট্রিমের গল্পটা যখন প্রথম শুনেছি, সেখানে একটি জিনিস স্পষ্ট ভাবে পেয়েছিলাম, তা হলো দেশপ্রেম। দেশের প্রতি ভালোবাসা, মায়া। প্রথম পর্ব যারা দেখেছেন, তারা হয়তো উপলব্ধি করেছেন। যখন দ্বিতীয় পর্ব আসবে, তখন আশা করছি আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে যে মিশন এক্সট্রিম দেশকে ভালোবাসার ছবি। সেখান থেকেই ওই কথাটা আমার বলা।

৭১ কে ‘সেভেন্টি ওয়ান’ বলাটা যদি আমার অন্যায় হয়ে থাকে, আমি ক্ষমা চাইছি, ৫২ কে যদি ‘ফিফটি টু’ বলাটাকে আমার অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষমা করবেন। একান্ন তো বলিনি, সেভেন্টি থ্রি তো বলিনি। ‘সেভেন্টি ওয়ান’ বলে কী অপরাধ করেছি আমি সেটা বলেন? যদি অপরাধ হয়ে থাকে ক্ষমা করবেন।

বাকি রইলো ‘মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমার দর্শক কতটা চাচ্ছেন, কতটা চাচ্ছেন না। কতটা ভালো লেগেছে, কতটা লাগেনি। ১৯ কোটির দেশে কোভিডে হল কমে ৩০-৩৫টি আছে। যদি একটি হলও খুলে থাকে ‘মিশন এক্সট্রিম’র জন্য, সেটা কি আমাদের অন্যায় হয়ে গেছে? কিছু হল মালিক যদি দর্শক আশা করে থাকেন, সেটা কি অন্যায় হয়ে গেছে?

আমি ক্ষমা প্রার্থনা করে বলতে চাই, যে আমি জন্মগত ভাবে মহান অভিনেতা হয়ে জন্মগ্রহণ করিনি। যারা আমাকে কিছুটা চেনেন, তারা জানেন যে আমি চেষ্টাটা করি, কতটা পারি জানিনা। আমি তো মানুষ, মানুষের ঊর্ধ্বে নই। ভুল ট্রুটি হতেই পারে। এইযে হল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমরা চেষ্টা করছি। সেই চেষ্টাটা কেন অনেকের ভালো লাগছে না? কার ক্ষতি হচ্ছে?

আপনাদের যার ছবি ভালো লাগে, হলে গিয়ে দেখুন। আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের বাজেট নেই। টেকনিক্যাল রিসোর্সেস নেই। কিছুই নেই অলমোস্ট। দর্শক হলিউড-বলিউডের কাজের সাথে আমাদের তুলনা করছেন। আমরা কি ভেবেছি এত বড় দেশে আমাদের হল নেই, আমরা কি ভেবেছি এত বড় দেশে রিসোর্সেস নেই?

পরিশেষে এটাই বলবো, মিশন এক্সট্রিম আমাদের সততার সাথে চেষ্টা করার প্রয়াস। আপনাদের ভালো লাগলে সেটা আমাদের অনুপ্রেরণা, ভালো না লাগলে সেটা আমাদের শুধরোবার প্রয়াস। মিশন এক্সট্রিমের প্রথম পর্ব এসেছে, দ্বিতীয় পর্বও আসবে। দ্বিতীয় পর্ব দেখে আপনারা হতাশ হবেন না। আপনাদের যার কাজ ভালো লাগে, তার কাজই দেখতে চান। আমাদের সিনেমাটা আবার জেগে উঠুক, আমাদের চেষ্টাটা কিছুটা হলেও সার্থক হোক।

বিজ্ঞাপন