চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

’৫২ পর্যন্ত ১১ মার্চই ছিলো রাষ্ট্রভাষা দিবস

পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদেই বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত। তাঁর দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়। প্রতিবাদে পূর্ব বাংলায় ’৪৮ এর ১১ মার্চ দর্মঘট পালিত হয়। সেই ধর্মঘট থেকে ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান, অলী আহাদ, খালেক নেওয়াজসহ অনেকে গ্রেপ্তার হন। ’৫২ সাল পর্যন্ত ১১ মার্চ পালিত হতো রাষ্ট্রভাষা দিবস।  

পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই শাসক দল মুসলিম লীগ একমাত্র ঊর্দূকে রাষ্ট্র ভাষা আর পূর্ব বাংলার সচেতন মানুষ ও ছাত্ররা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে কোন সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই পোষ্ট কার্ড, এনভেলপ, রেলওয়ে টিকেট, মানি অর্ডার ফর্মসহ সব সরকারি প্রকাশনায় বাংলাকে বাদ দিয়ে শুধু ইংরেজীতে ও উর্দূতে ছাপায় মুসলিম লীগ সরকার। এর প্রতিবাদে ১৯৪৮ সালের  ২৩ ফ্রেবুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ঊর্দূর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন কুমিল্লার গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত। কিন্তু তা প্রতাখ্যাত হয়।  

ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন,  গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত যখন গণপরিষদের ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে বাংলার প্রস্তাব করেন তার প্রবল বিরোধীতা হয় এবং প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। এই প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় যে আন্দোলন হয় তাকে আমরা বলি ’৪৮ মার্চের আন্দোলন।

Advertisement

গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি প্রত্যাখ্যাত হলে ফুঁসে ওঠে পূর্ব বাংলা। তমুদ্দিন মজলিস সহ ছাত্ররা এর প্রতিবাদে ১১ মার্চ ধর্মঘট আহবান করে। এবং ধর্মঘটের আহবানে সাড়া দেয় সাধারণ মানুষ। পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসে ছোড়ে এবং ছাত্র নেতা শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদ. খালেক নেওয়াজসহ অনেককে গ্রেপ্তার করে।

ভাষা সংগ্রামী ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা কার্জন হল পার হইয়া, এখন যে শিক্ষা ভবন তা ছিলো না, ঐখানে কি একটা সরকারি লাল বিল্ডিং ছিলো সেই পর্যন্ত গেছি আমরা। কিন্তু ঠিক ঐ জায়গাটায় বেরিকেট দিছে। বিপ্লবী অনেককেই এ্যারেস্ট করে নিয়ে গেছে। আমাকে ধরতে পারে নাই। হল পর্যন্ত গেছিলো অ্যারেষ্ট করতে। যে বের হয় তাকেই অ্যারেষ্ট করে।

১১ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত টানা আন্দোলন চলে বাংলায়। ১৫ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের চীফ মিনিস্টার খাজা নাজিমুদ্দীন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি স্বীকার করে আন্দোলনকারীদের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হন। সেই আন্দোলনের পেক্ষাপটেই গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ৪৮’এর ১৯ মার্চ ঢাকা সফর করেন।

ভাষা সংগ্রামী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে রাষ্ট্রভাষা দিবস পালিত হতো ১১ মার্চ। (১৯৪৮, ’৪৯, ’৫০, ’৫১)। কিন্ত ’৫২ সাল থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারি হয়ে গেলো রাষ্ট্রভাষা দিবস।