চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘১ থেকে ৩ লাখ মানুষ প্রেক্ষাগৃহে গেলেই ছবি সুপারহিট হয়’

সাইফ চন্দন হলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা। তার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘ছেলেটি আবোলতাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’। গত বছর নিরবকে নিয়ে ‘আব্বাস’ নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছেন। নতুন করে তিনি বানাচ্ছেন তারকাসমৃদ্ধ ছবি ‘ওস্তাদ’। আরও কয়েকটি ছবি রয়েছে তার হাতে। করোনাকালে ঘরবন্দী থেকে আগামির সম্ভাবনাময় এ নির্মাতা কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে…

করোনায় দীর্ঘদিন ঘরবন্দী থেকে কী করলেন?
সিনেমার চিত্রনাট্য ও গল্প প্রেজেন্টেশনের উপর অনলাইন কোর্স করেছি। করোনায় ঘরবন্দী সময়ে মাথায় নতুন নতুন গল্প এসেছে। নতুন একটির চিত্রনাট্য শেষ করেছি। কোরবানি ঈদের পরই কাজ শুরু করবো। আরও একটা ছবির চিত্রনাট্যের লাইন আপ শেষ করেছি। সেপ্টেম্বর এটার কাজ শুরু হবে। লকডাউনের মধ্যেই প্রযোজককে গল্প দিয়েছি। উনি পছন্দ করেছেন এবং সাইনিং মানিও পাঠিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আপনার নির্মাণাধীন ‘ওস্তাদ’ ছবি মুক্তির কী হবে?
পরিস্থিতি ঠিকঠাক হলে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেব। এছাড়া তো কিছু করার নাই। এরইমধ্যে সমিতির নেতারা সরকারের সাথে কথা বলেছেন। দেখি কি হয়! আমার ‘ওস্তাদ’ ছবির ডিজিটাল রাইট বিক্রি হয়ে গেছে। কয়েকটা স্পনসর কোম্পানি টাকাও দিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থায় তো মুক্তির জন্য অপেক্ষা ছাড়া কিছুই করার নাই।

বিজ্ঞাপন

নতুন করে প্রযোজকদের কীভাবে লগ্নিতে আনা যায়?
আমি আশাবাদী মানুষ। আশা করছি সময় লাগলেও করোনা পরবর্তী সময়ে পরিবেশ ভালো হয়ে যাবে। নতুন করে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, মানুষও আগের চেয়ে বেশি সিনেমা হলে যাবে, ছবি দেখবে। তবে আমাদের চ্যালেঞ্জ আসবে। দর্শক চালাক এইটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। শুধু অপরিণত নায়ক নায়িকা দিয়ে কাজ করালেই হবেনা। তাদের অভিনয়, নাচ, ফাইটিং, উচ্চারণ এবং সাবলীল উপস্থাপন পর্দায় নিয়ে আসতে হবে৷ এতে কাজ ভালো হবে। আর ভালো কাজ এলে পুঁজি ফেরার নিশ্চয়তা থাকবে। তাহলে প্রযোজক লগ্নি করতে উৎসাহিত হবেন। আমি আজ পর্যন্ত যেকটা ছবি নির্মাণ করেছি সবগুলোতেই নতুন প্রযোজক ছিলেন। আগামীর ছবিতেও নতুন এবং বর্তমানের নতুন আসা প্রযোজকরাই থাকছেন। আমার জানা মতে, নতুন আরো কয়েকজন প্রযোজক সিনেমা নির্মাণে আসবেন এবং তারা ব্যবসা নিশ্চিত করেই আসবেন।

আপনার পরিচালিত ‘আব্বাস’ কম বাজেটে নির্মিত গুছানো একটি ছবি। শুনেছি ‘ওস্তাদ’ ও সীমিত বাজেটে বানাচ্ছেন। কম টাকায় ভালো কাজ করা কি সম্ভব? আপনার পলিসিটা কি?
‘আব্বাস’ ৩২ লাখ টাকার ছবি। নির্মাণাধীন ‘ওস্তাদ’ ছবিও ৪০ লাখ টাকার ছবি। তাই বলে ছবির কোথাও অ্যারেঞ্জম্যান্ট বা শিল্পী তালিকা দূর্বল মনে হবে না। আমার কাজের পলিসি খুব সহজ। যে কয়দিন শুটিং করি শিল্পীদের কল টাইম থাকে সকাল ৬ টায়, আর প্যাকাপ টাইম রাত ১১ টায়। একটু কষ্ট হয় কিন্তু টাকা নষ্ট করতে তার চেয়ে বেশী কষ্ট হয়। এভাবে কাজ করলে কম টাকায় ছবি সম্ভব।

আব্বাসের সাকসেস পার্টি দিয়েছিলেন। অনেকেই তখন বলেছিলেন ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ ছবির সাকসেস পার্টি দিয়েছেন?
৩২ লাখ টাকা বাজেটের ছবি আব্বাসে ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ ছবি নয়। বিভিন্ন টেকনিক অবলম্বন করার ফলে টাকা উঠে আসে। ডিজিটাল রাইটস, বেঙ্গলগ্রুপ, স্টার পাইপসহ কয়েকটা স্পন্সর মিলিয়ে ২৭ লাখ টাকা পাই। এছাড়া প্রথম সপ্তাহে হল থেকে পাই ১২ লাখ টাকা। পরে একমাস অল্প কয়েকটা হলে চলেছিল। ৫০ হাজার, ৮০ হাজার করে কয়েক কিস্তিতে টাকা পেয়েছি। সিনেমা হল থেকে পুরো টাকা তুলতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। আমার খরচ হয়েছিল যেটা সেটা বিভিন্নভাবে তুলে নিয়েছি। তাই আবার বলছি, আব্বাস পুরোপুরি ব্যবসাসফল ছবি। আরও একটা মজার কথা বলছি। আমার ‘ওস্তাদ’ ছবিতে খরচ হচ্ছে ৪০ লাখ টাকার মতো। শুটিং শেষের আগেই ১৮ লাখ টাকার মতো ডিজিটাল রাইটস, স্পন্সর দিয়ে তুলে নিয়েছি।

ছবি বানাতে গিয়ে অনেকসময় তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। একজন পরিচালকের অবস্থান থেকে আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে শিল্পীদের নিয়ে কিছু বলুন…
একটা কথা প্রায়শই শুনি অমুক পরিচালক ফেঁসে আছেন, তমুক পরিচালক বেচারা শিল্পীর পিছে পিছে ঘুরছেন কয়টা দিন শিডিউলের জন্যে। এই দয়া টাইপ কথা শুনতে চাইনা। আপনি আর্টিস্ট। এ যাবৎ আপনি ৫টি, ১০ টি, ২০ টি, ৩০ টি, ৪০ টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। আপনার পিছনে বিনিয়োগ হয়েছে ১০ কোটি টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত। এরপরও আপনি আপনার গ্রহণযোগ্যতা আনতে পারেননি। কয়েক লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক চান কিন্তু আপনাকে দেখার জন্যে ১ লাখ মানুষও প্রেক্ষাগৃহে যায়না। যা সত্যিই দুঃখের।

অথচ বাংলাদেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের মধ্যে ১ থেকে ৩ লাখ মানুষ প্রেক্ষাগৃহে গেলেই একটা ছবি হিট সুপারহিট হয়। টাকা উঠে আসে। অতএব, প্লিজ পরিচালকদের দয়া দেখাবেন না। মাতব্বরি করবেন না। পরিচালকদের দেখানো পথেই পথ চলুন। তাহলেই সুন্দর সুন্দর চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ তৈরি হবে। অপছন্দ হলে, শুরুতেই ছবি করবেন না বলে দিন। হাল ছাড়বেন না। সবাই যে যার জায়গা থেকে সৎ থাকুন। ইনশাআল্লাহ আমরা করোনা পরবর্তী সুন্দর চলচ্চিত্র পরিবেশ পাবো। সরকারও আশা করছি আমাদের চলচ্চিত্রের পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে সহযোগিতা করবে।

পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেন। আপনার আল্টিমেট গোল কোনটা?
পরিচালনা বেশি উপভোগ করি। তবে অভিনয় করলে শান্তি পাই। আমার ভাই বন্ধু নির্মাতা, প্রযোজক এবং কাছের মানুষরাও চায় আমি অভিনয় করি। আল্টিমেট গোল কি, সেটা সময়ই বলবে! উপভোগের পাশাপাশি মনে শান্তি নিয়ে বাঁচতে চাই। কে কি বললো, তা আমার কাছে মূখ্য নয়।