চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হেফাজত আর করোনাভাইরাস উভয়ের চরিত্র বড়ই জটিল

গত কদিন ধরেই দেশে সবার মুখে দুটো কথা শুনা যাচ্ছে৷ এক, হেফাজতের তাণ্ডব মোদিকে ঘিরে। দুই ,করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে অস্বাভাবিক ভাবে। জনজীবনে বলতে গেলে কোন স্বস্তির পরিবেশ নেই ২০২০ থেকে এ পর্যন্ত। বিগত এক বছর ধরে পেটেভাতে খাওয়া মানুষগুলো করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে জীবন বাঁচতে চেষ্টা করছে। কিন্তু আবারও করোনার হানাতে এখন আগামী দিনে কি হবে তা নিয়ে শঙ্কিত। তথাপি দেশের মানুষের চাল চলনে উদাসীনতার অন্ত নেই। এর কারণ হলো বাঙালি জাতি নিয়ম মানতে শিখেনি। তাই করোনার স্বাস্থ্যবিধিকে না মেনে নিজে ভালো আছে এটা প্রমাণ করে বীরত্ব প্রকাশের মাধ্যমে বিপদ ডেকে আনে। এমনকি কিছু কুসংস্কারকে আঁকড়ে ধরে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় করোনাকে বড় লোকের রোগ বলে।

করোনাভাইরাসের চরিত্রের মত নানাভাবে সময় বুঝে জনগণ ও দেশকে অস্থির করে তুলছে দেশের ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো। মুজিব বর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন নিয়ে হেফাজত যে তাণ্ডবলীলা ঘটিয়েছে তার কোন যুক্তি আছে কিনা তা এখনো মানুষ বুঝে উঠতে পারেনি। তিনি এলেন এবং বীরদর্পে চলেও গেলেন। আর তার আগমন ঠেকাতে গিয়ে আন্দোলনের নামে শুন্য হলো কিছু মায়ের কোল। ইসলামের দোহাই দিয়ে ধর্মের লেবাসধারী নেতারা বিশ্বের কাছে দেশের সম্মান নষ্ট করছে স্বাধীনতার ৫০বছরে মাহেন্দ্রক্ষণে। এরা আসলে কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে তার উত্তরটা জানা প্রয়োজন। বিশ্বের কাছে বারংবার দেশকে মৌলবাদ প্রমাণের প্রচেষ্টা করাটা এদের মুখ্য বিষয় কিনা তাও খতিয়ে দেখা উচিত।

বিজ্ঞাপন

মার্চের শুরু থেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকলেও দেশে উৎসব সমাবেশ কোন কিছুই নিয়ন্ত্রিত নেই। ২৬ মার্চের পর করোনার শনাক্ত ও মৃত্যু হার লাগামহীন হয়ে পড়ে। এ চরিত্রহীন ভাইরাসকে বিশ্ব কবে সামলাতে পারবে তা এখনো অজানা। ধারণা ছিল শীতে এ রোগের প্রকোপ বাড়বে। কিন্তু ঘটনা হলো উল্টো। গরমের শুরুতে একেবারেই নতুন রূপে এ রোগ আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সারাবিশ্ব আবার দিশেহারা।

একদিকে করোনার টিকা হাতে পেয়েও রোগ থেকে মুক্তি মিলছে না দেশের মানুষের। অন্যদিকে ইসলামি রাজনৈতিক দল হেফাজত সরকার সমর্থিত হয়েও ধবংস করছে রাষ্ট্রের সম্পদ। স্বাধীনতা মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিকে ভেঙ্গে দেয়ার ছবি দেখে বিস্মিত হতে হয় জনগণকে। প্রকৃতপক্ষে ইসলামি দলগুলোর চরিত্র বুঝা দায়। না ঘরকা না ঘটকা – এমন অবস্থায় থেকে এরা পরের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজের আখের গোছাতে চায়। সময় বুঝে সরকারের তোষামোদি করে আবার উল্টো পথে হেঁটে ভুমিকা রাখে বিরোধী দলের।

দেশের রাজনীতিতে এখন মূলত বিরোধী দল বলতে সংসদ বা মাঠের রাজনীতিতে কেউ তেমনভাবে নেই। বরং গণতন্ত্রের নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় সরকারের সুবিধা ভোগী হেফাজতের বর্তমান কর্মকান্ড আওয়ামী লীগকে ব্যথিত করে। তাদের কার্যক্রম দেখে অনেক সময় মনে হয় হেফাজত অন্য কারো মদদপুষ্ট বিরোধী দল। তাই আত্মিকভাবে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে সমর্থন করে তাদের কাছে হেফাজতের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে অপমান করা মানে নিজের আদর্শকে কষাঘাত করা।যার বেদনা মনের অজান্তে লুকিয়ে থাকা দেশপ্রেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের মাটিতে মৌলবাদের স্থান কোনদিন হবে না। এখানকার মানুষ ধর্মান্ধ হলেও ধর্মীয় উগ্রতাকে প্রশয় দেয় না বলে ভোটের রাজনীতিতে তাদের ক্ষমতায় আসীন হবার দিবাস্বপ্নটা অধরাই রয়ে যাবে। তাই রাজনৈতিকভাবে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন তাদের ভাবতে হবে অতীতের ইতিহাস থেকে। জামায়াত, হেফাজত বা অন্য ইসলামি দলগুলো ক্ষমতার দোসর হতে পারে তবে জনগন সরাসরি তাদের ভোট দিয়ে দেশ চালানোর অধিকার দিবে না।

অতি আদরে সন্তানকে যেমন মানুষ করা যায় না তেমনি ভাবে রাজনীতির দাবা চালে দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষলেও সে যে ছোবল মারবেই এটা অবধারিত সত্য। কওমি মাদ্রাসা থেকে জন্ম নেয়া হেফাজত তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য যেমন সরকারের গুনগান গাইতে কালক্ষেপণ করে না তেমনিভাবে ধর্মের মিথ্যা দোহাই দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করতে যে পারে তার প্রমাণ সাময়িক কালের ঘটনা প্রবাহ। এরা কখনো মাঠে নামে ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদে আবার কখনো বিদেশি অতিথির আগমনক হেতু তৈরি করে। আসলে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে মানুষ মারতে আর জনগণের সম্পদ ধবংস করতে দ্বিধা করে না।

তবে উন্নয়নের পথে চলা আওয়ামী সরকারের প্রতি দেশের মানুষের ভরসা রাখতে চায়। তারা মনে করে বঙ্গবন্ধুর আত্মজ শেখ হাসিনা পিতার মত দেশের মানুষকে আগলে রাখবে সকল সমস্যা থেকে। পেশি শক্তির কাছে মাথা নত করতে পারে না শেখ হাসিনা এবং আত্মনিবেদিত আওয়ামী কর্মী ও সমর্থকরা।

করোনাভাইরাস ক্ষুদ্র এক অদৃশ্য বস্তু। অথচ প্রকৃতি এ ভাইরাস দিয়ে বারবার জানান দিচ্ছে পার্থিব শক্তি বড় তুচ্ছ অপার্থিব শক্তির কাছে। অর্থ, রাজনৈতিক পেশী শক্তি কিংবা ক্ষমতা দম্ভ সব কিছুই এক নিমিষে বিলীন হয়ে যায় তার প্রমান প্রকৃতি দিয়ে যাচ্ছে কোভিড -১৯ দিয়ে। তবুও মানুষ নিজের ভেতরে আত্ন সংশোধনের উপলব্ধিটা অনুভব করতে পারে না। তাই হয়তো পৃথিবী থেকে চরিত্রহীন করোনা ভাইরাসটা বিদায় নিচ্ছে না।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)