ভারতের একটি সরকারি হাসপাতালে গত কয়েক দিনে অন্তত ৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিল পরিশোধ না করার কারণে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় উত্তর প্রদেশের হাসপাতালে এত শিশুর একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে ৬০ শিশুর মৃত্যুর পর সেখানে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ওই হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার পর সেখানে সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এ কারণে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন তারা।
বিবিসি জানায়, প্রদেশের গোরখপুর জেলার বাবা রাঘব হাসপাতালে সোমবার থেকে শুরু হয়ে মাত্র পাঁচ দিনে ওই ৬০ শিশু মারা যায়। এর মধ্যে ৩০টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত দু’দিনের মাঝেই।
মারা যাওয়া বেশিরভাগ শিশু হয় নবজাতক ইউনিটে ছিল, নয়তো এনসেফালাইটিসে ভুগে চিকিৎসাধীন ছিল।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওই সময় রোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা হাসপাতালের স্টাফদের সঙ্গে মিলে ম্যানুয়েল ব্রিদিং ব্যাগের সাহায্যে বাচ্চাদের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার তীব্র চেষ্টা করছিল।
গোরখপুর জেলা কর্মকর্তা অনীল কুমার স্বীকার করেন, বিল পরিশোধ নিয়ে অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাসপাতালের সমস্যা তৈরি হয়েছিল।
তবে তিনি এ-ও বলেন, অনেক রোগীকেই যেহেতু গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল, তাই অনেক শিশুর মৃত্যু এমনিতেও ঘটে থাকতে পারে।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিংও এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন যে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সঙ্কটের কারণে এসব মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের ডিনকে বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসক শনিবারই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় মারা গেছে শিশুরা। অথচ উত্তর প্রদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, অন্য কারণও রয়েছে তাদের মারা যাওয়ার পেছনে। তবে সেই কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছুই বলা হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্য ও দলিলাদির ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, অক্সিজেন সরবরাহকারী সংস্থাটি একাধিকবার হাসপাতালকে বিল মিটিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে। টাকা না মেটালে একটা পর্যায়ে যে তাদের পক্ষে অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হবে না, সেটাও জানিয়েছিল তারা।








