চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাইকমান্ডের সঙ্গে বৈঠকের পর আশাবাদী সম্মেলন প্রত্যাশীরা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে সম্মেলন আয়োজনের দাবিতে ছাত্রলীগের একটি অংশ প্রকাশ্যে সরব হওয়ার পর সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ তাদের দাবি নাকচ করলেও ‘আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের আশ্বাসে’ সম্মেলন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদী হয়ে উঠছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে ‘বৈঠক করেছেন’ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা এনামুল হক শামীম এবং দেলোয়ার হোসেন। বৈঠকে ছিলেন ছাত্রলীগের দুই সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি ও আরেফিন সিদ্দিক সুজন, যুগ্ম সম্পাদক সায়েম খান এবং শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এই দুই নেতার সঙ্গে দেখা করার পর তারা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান মেহেদী হাসান রনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মেহেদী হাসান রনি বলেন: আমরা সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে ৭টা ১০ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামূল হক শামিম এবং বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর আমরা ওবায়দুল কাদের স্যারের সঙ্গেও দেখা করেছি। এনামুল হক শামীম ভাই আমাদের বলেছেন, ছাত্রলীগকে গতিশীল করার জন্য যা যা করা দরকার সেটা করা হবে। তোমরা নিশ্চিত থাকো।

বৈঠকে উপস্থিত আরেকটি সূত্র জানায়: ওবায়দুল কাদের উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বলছি তো সম্মেলন হবে।

এর আগে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে সংগঠনটির সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক এবং সম্পাদক পর্যায়ের একাধিক নেতা সম্মেলনের দাবিতে গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘সম্মেলন প্রত্যাশী নেতাকর্মীবৃন্দ’র ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় তারা নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করছেন। এদের মধ্যে ছিলেন সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, আদিত্য নন্দী এবং যুগ্ম সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রত্যাশী অংশের অন্যতম নেতা সায়েম খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ৯২ সালের আগে ছাত্রলীগে নিয়মিত সম্মেলন হলেও তারপর থেকে নিয়মিত কমিটি হচ্ছে না। দুই বছরের কমিটি চার বছর পার করছে। এটা অলিখিত সংস্কারে পরিণত হয়ে সংগঠনের ওপর কুসংস্কার হয়ে চেপে বসেছে। তখন একটা অচলায়তন তৈরি হলো। আর এই অচলায়তনকে দেখিয়ে তারাও ক্ষমতায় জেঁকে বসতে চাচ্ছে।

‘‘এই অচলায়তন ভাঙার যে প্রচেষ্টা, গঠনতান্ত্রিক যে বাধ্যবাধকতা সেই জায়গা থেকে আমরা সম্মেলন চাই। কিন্ত তারা (শীর্ষ নেতৃত্ব) গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়ায় আমরা মনে করছি যে সম্মেলন নিয়ে আমাদের কথাবার্তা বলা দরকার, গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণে। কারণ এই অচলায়তনের ফলে সংগঠনের সুনাম নষ্ট হয়ে, অনেক নেতার জীবনও নষ্ট হয়।’’

তবে সভাপতি সোহাগের দাবি: যারা সম্মেলন নিয়ে কথা বলে, তারা সংগঠনের ভালো চায় না। তিনি বলেন: যারা সম্মেলন নিয়ে কথা বলে, তারা প্রকৃতপক্ষে ছাত্রলীগকে দেখেনি, ছাত্রলীগের ইতিহাস জানে না এবং ছাত্রলীগের নিয়ম কানুন তারা জানে না। কারণ আমরা যখন সবগুলো ইউনিটের কমিটি গঠন শেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবো, তখন তিনিই সম্মেলনের ডেট দিবেন। এটা নিয়ে কথা বলার কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

সম্মেলন প্রত্যাশীদের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন: কারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে আমরা তা দেখিনি, জানিও না। এটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে ব্যস্ত। এসব ছোটখাটো বিষয় দেখার সময় নেই।

এ ধরনের ঘটনা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নয় দাবি করে তিনি বলেন: সম্মেলন যে কেউ চাইতেই পারে। এটা তো চাওয়ার বিষয় না। তারা বোঝে না বলেই চায়। এটা দ্বন্দ্ব হতে যাবে কেন?

শিগগিরই সম্মেলনের  সম্ভাবনা নাকচ করে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন: সবগুলো সাংগঠনিক ইউনিটে সম্মেলন হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন: আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের সব সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি হবে, আমরা সব গুছিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করবো। তারপর তিনিই ঠিক করবেন কবে আমাদের সম্মেলন হবে।

ছাত্রলীগ সভাপতি এবং দপ্তর সম্পাদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত আড়াই বছরে মোট ১০৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে সম্মেলন হয়েছে ৫৮টি ইউনিটের। বাকী রয়েছে আরও ৫১টি।

সবগুলো ইউনিটের কমিটি আপনারাই করে যেতে চান কি না এবং সবগুলো কমিটি করতে যদি দীর্ঘ সময় লেগে যায় সেক্ষত্রে কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সোহাগ বলেন: অবশ্যই আমরা সবগুলো ইউনিটে কমিটি করে যেতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আমরা যেমন প্রতিটি ইউনিটে সম্মেলন করি, তেমনি বাকী ইউনিটগুলোর সম্মেলন শেষ করে আমরা তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট উত্থাপন করবো। তারপর বলবো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সব কিছু শেষ হয়েছে। তখন তিনিই সবকিছু করবেন।

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিতর্ক
২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে উপসম্পাদক ও সদস্য পদের ২৬টি শূন্য রাখা হয়। শূন্যপদের বিপরীতে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে সদস্য করা হয়। গত বছরের মে মাসে আবার কিছু পদ দেওয়া হয়। ২০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন শাখার দেড় শতাধিক নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। সঙ্গে আপলোড করেন সভাপতি ও সম্পাদকের সই করা চিঠি।

ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগে কোন তালিকা ছাড়াই গণহারে পদ দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন: আমাদের কমিটির সদস্য ৩০১ সদস্যের। একজনও বেশি নয়। নতুন করে কাউকে পদ দেওয়া হয়নি, কেবল শূন্য হয়ে যাওয়া পদগুলো পূরণ করা হয়েছে।