চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হলিউডে অভিনয় করে পেয়েছিলেন ‘দেশবিরোধী’ খেতাব

বলিউডের খলনায়ক বলতেই সবার প্রথমেই যেই নামটি মাথায় আসে সেটি হলো প্রয়াত অমরেশ পুরীর নাম। তার জনপ্রিয় ডায়ালগ ‘মোগ্যাম্বো খুশ হুয়া’ আজও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক হিট। প্রায় চার শতাধিক  ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করা এই অমরেশ পুরী একাধারে যেমন জনপ্রিয় ছিলেন ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্টিতে, ঠিক তেমনি দাপট দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

হলিউড সিনেমাতে অমরেশ পুরী কাজ করেছিলেন অস্কারজয়ী হলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গের সাথে। কি অবাক হলেন তো? হ্যাঁ, স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য টেম্পল অব ডুম’ সিনেমায় অমরেশ পুরীকে প্রধান ভিলেন চরিত্র ‘মোলা রাম’ হিসেবে বাছাই করেছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ।

বিজ্ঞাপন

তবে অবাক করা বিষয় হলো প্রথমে ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য টেম্পল অব ডুম’-এ অভিনয়ের জন্য রাজি ছিলেন না অমরেশ। পরে আরেক বিখ্যাত নির্মাতা অ্যাটেনবরোর অনুরোধে রাজি হন তিনি। সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য মাথা কামিয়ে ফেলতে হয়েছিল অমরেশ পুরীকে। তবে পরবর্তীতে তার সেই টেকো মাথার স্টাইল হিন্দি সিনেমায় এতটাই জনপ্রিয় হয় যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই স্টাইল ধরে রেখেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে স্টিভেন স্পিলবার্গের সাথে কাজ করার প্রসঙ্গে অমরেশ পুরী একটি সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, আমি একজন ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও স্পিলবার্গের সঙ্গে কাজ করার সময় আমার তাকে নিজের তুলনায় একবারও আলাদা মনে হয়নি। এবং তারও আমার ভারতীয় হওয়া নিয়ে কোন সমস্যাই ছিল না।

কিন্তু সেসময় হলিউড সিনেমাতে কাজ করার জন্য ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল অমরেশ পুরীকে। ফলে পরবর্তীতে হলিউডে তার আর কোন কাজ দেখার সুযোগ হয়নি দর্শকদের।

ফিল্ম ক্যারিয়ারে অমরেশ পুরী চারবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন। প্রথম জিতেছিলেন ‘মেরি জং’ (১৯৮৬), এরপর ‘ঘাতক’ (১৯৯৬) ও ‘ভিরাসাত’ (১৯৯৭) ছবির জন্য। তবে ২০০২ সালে ‘গাদার: এক প্রেমকথা’ ছবির জন্য তিনি এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এছাড়া তিনি দুই বার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছিলেন।