চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হচ্ছেটা কী!

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে খুব দ্রুতই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দৈনিক নতুন মৃত্যু ও আক্রান্ত শনাক্তের যে পরিসংখ্যান সরবরাহ করা হয়- তা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। যদিও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনেক আগেই এ নিয়ে সরকার ও জনগণকে সতর্ক করে দিয়েছিল। কিন্তু নিদারুণ বাস্তবতা হলো, সরকার বা জনগণ কেউই সেই সতর্কতাকে গায়ে মাখেনি। তার পরিণতিতে যা হওয়ার কথা ছিল, ঠিক তাই হয়েছে।

এরই মধ্যে গতকাল শনিবার কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা ১৪ হাজারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মৃত্যুর এই সংখ্যার মধ্যে নতুন করে এক হাজার মানুষের নাম যোগ হয়েছে মাত্র ১৫ দিনে। আমরা জানি, চলতি মাসের ১১ তারিখে ১৩ হাজার মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সেই সংখ্যা ১৪ হাজার ৫৩ জনে গিয়ে ঠেকেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

যদিও এমন পরিস্থিতি আমাদের কাছে নতুন নয়। গত এপ্রিলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছিল; তখন মাত্র ১০ দিনে এক হাজার মানুষের মৃত্যু আমরা দেখেছি। সেই মাসের ১৯ তারিখে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড (১১২ জন) হয়েছিল। আজ রোববার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১১৯ জনের। দুইদিন আগেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু (১০৮ জন) দেখেছিল দেশ।

করোনাভাইরাস নতুন করে যখন চোখ রাঙাচ্ছে, তখন সরকার তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ‘শাটডাউন’ কিংবা ‘কঠোর লকডাউন’ দিয়ে। গত শুক্রবার তথ্য অধিদপ্তর এক তথ্য বিবরণী দিয়ে জানায়, ২৮ জুন থেকে শুরু হবে ‘কঠোর লকডাউন’। ওই সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য সবকিছুই বন্ধ থাকবে। কিন্তু এমন ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরকারের সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়। নতুন সিদ্ধান্তে বলা হলো, ২৮ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘সীমিত পরিসরে’ লকডাউন থাকবে। আর ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের জন্য শুরু হবে ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন।

বিজ্ঞাপন

এত দ্রুত সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত পাল্টে যাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানান বিভ্রান্তি তৈরি হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আমরা এরই মধ্যে দেখেছি, করোনা নিয়ন্ত্রণে ‘বিধিনিষেধ’ এর নামে যা-তা চলছে। বলা হচ্ছে, ‘বিধিনিষেধ’ অথচ সব কিছুই চলছে ফ্রি স্টাইলে। গণপরিবহণে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গাড়ি চলার কথা। কিন্তু তা শুধু কাগজে-কলমেই। বাস্তবতা হলো, সব আসন ভর্তির পরও দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে আবার হঠাৎ করে ঘোষণা দেওয়া হলো; রাজধানী ঢাকাকে করোনা থেকে রক্ষায় এর আশেপাশের ৭ জেলায় লকডাউন চলবে। এসব জেলা থেকে কোনো যানবাহন রাজধানীতে ঢুকতে পারবে না। কিন্তু এরপর দেখা গেল, সেসব জেলা থেকে যেমন হাজারে হাজারে মানুষ আসছে, তেমনি আসছে যানবাহনও। এই সিদ্ধান্তে লাভ কি হলো? ওই জেলাগুলো থেকে মানুষ আসা ঠেকানো গেল না।

আমরা দেখেছি, গত বছরের মার্চে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা ছিল। যে কারণে সঠিক সময়ে করোনা পরীক্ষা না হওয়া, হাসপাতালে আসন সঙ্কট, চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতা, নিম্ন আয়ের মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মতো বড় বড় বিষয় সামনে চলে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় না থাকলে সামনের দিনগুলোতে আমাদের আরও ভুগতে হবে। অতিগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে হেলাফেলা করার কোনো সুযোগ নেই।