চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘স্যরি বস, মাফ করে দেন’

নব্বই দশকের জনপ্রিয় গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী। তার লেখা ৫০-৬০ টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ব্যান্ড তারকা ও এলআরবি’র কর্ণধার আইয়ুব বাচ্চু। আইয়ুব বাচ্চুর মাকে বলিস গান প্রথম লিখলেও ‘তবুও’ অ্যালবামে প্রথম গান লেখেন শিবলী।

দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আইয়ুব বাচ্চু ও শিবলীর মধ্যে আত্মার সম্পর্ক হয়েছিল। যখন তারা একসঙ্গে নতুন গান তৈরি করতেন একসঙ্গে আলাপ করে দুজনের মনের ভাব বিনিময় করতেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আইয়ুব বাচ্চু মারা যাওয়ার পর শিবলী ছুটে এসেছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ দেখতে।

হাসপাতালে দাঁড়িয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে লতিফুল ইসলাম শিবলী বলেন, বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে আমার বছর খানেক ধরে মান-অভিমানে ছিলাম। ভেবেছিলাম হঠাৎ দেখা হলে স্যরি বলে নেব। কিন্তু এভাবে তাকে দেখতে আসতে হবে, আমি কখনই ভাবিনি। আজ যদি উনি বেঁচে থাকতেন, দেখা হলে বলতাম- স্যরি বস, মাফ করে দেন।

Advertisement

আইয়ুব বাচ্চু যখন চট্টগ্রামের একটি ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শুরুর দিকে ‘মাথা মোটা রনক’ ও ‘বাবার চিঠি’ এই দুটো গান লেখেন তিনি। তবে শিবলীর লেখা আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে গাওয়া প্রথম হিট গান ‘কষ্ট’ অ্যালবামে ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি তাই তোমার কাছে ছুটে আসি’। এরপর শিবলীর লেখা স্ক্রু ড্রাইভার, নীল বেদনা, হাসতে দেখো গাইতে দেখো, কেউ সুখী নয়, মানুষ বড় একা, বড়বাবু মাস্টার, রাজকুমারী, আমি তোমার দূরে থাকি কাছে আসব বলে (আহা জীবন) এসব জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু।

শিবলী বলেন, আমি, বাচ্চু ভাই, জেমস ভাই খুব ফ্রেন্ডলি এবং আন্তরিক ছিলাম। আমাদের দুঃখ, প্রেম সব নিজেদের মধ্যে শেয়ার করতাম। উনি গিটার বাজাতেন, আমি কাগজ কলম নিয়ে বসতাম। এভাবে একটি উনার গিটারের টিউন থেকে বেরিয়ে আসে ‘সুখেরই পৃথিবী’ গানটি। এভাবে তৈরি হয়েছে ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’ গানটা। ১৯৯৪-১৯৯৮ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে থেকেছি, খেয়েছি, আড্ডা দিয়েছি। ওইসব বাচ্চু ভাইয়ের প্রায় সব অ্যালবামে আমার গান থাকতো।

উনি ভীষণ প্রডাক্টিভ ছিলেন। বসেই গান করে ফেলতেন, একবারেই। সর্বশেষ বছর দুয়েক ‘আগে না হয় যাচ্ছি ফিরে, সব পাখি ফেরে নিড়ে’ এই গানটি করি বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে। কিন্তু এখনও গানটি প্রকাশ হয়নি। এই গানটি করতে গিয়ে দুজনেই হাসতে হাসতে বলাবলি করছিলাম, আমরা বোধহয় মরার গান করে ফেলছি। তার মৃত্যুর খবর শোনার পরে এটা ফেসবুকে শেয়ার করি।

১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাক করেন গিটার লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু। তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধার পরে ঢাকায় জানাজা ও পরেরদিন শনিবার চট্টগ্রামে জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে সমাহিত হবেন এই গুণী সঙ্গীতব্যক্তিত্ব।