চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা মাজহারুল

নারী নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর করা মামলায় ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম মাজহারুল আনামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে মিরপুরের দারুস সালাম এলাকার মাজার রোডে তার বাসা থেকে মাজহার আনামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের (দারুস সালাম) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মাহমুদা আফরোজ লাকী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোফাজ্জল হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আসামি মাজহারুল আনামকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে মাজহারুল আনামসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্ত্রী ফিরোজা পারভীন।

বিজ্ঞাপন

বাকি আসামিরা হলেন- কামরুল ইসলাম, মাকসুদ আনাম, মিলি, ফুয়াদ, সাগর সরকার ও নাজমা আক্তার মুন্নি।

মামলার এজাহারে ফিরোজা পারভীন  স্বামীকে লম্পট ও চরিত্রহীন উল্লেখ করে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন ২০০৮ সালে মাজাহারুল আনামের সঙ্গে বিয়ে হয় ফিরোজা পারভীনের। তাদের ১১ বছর বয়সী এক ছেলেও আছে। তাদের ছেলে শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বিয়ের পর ব্যবসার কথা বলে মাজাহারুল আনাম ফিরোজা পারভীনের পরিবারের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা এনেছিলেন। সম্প্রতি আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল এবং শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে মামলার এজাহারে দাবি করেছে ফিরোজা পারভীন।

তিনি অভিযোগ আরও উল্লেখ করেন, যৌতুকের জন্য গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ফিরোজা পারভীনকে মারধর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ফিরোজা পারভীনের ভাই ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করান। আপসের উদ্দেশ্যে গত ২৫ জানুয়ারি মাজাহারুল আনামের বাসায় যান ফিরোজা। যৌতুকে টাকা না নিয়ে বাসায় ঢোকায় মাজাহারুল আনাম চুলের মুঠি ধরে ফিরোজাকে কিল ঘুষি ও লাথি মারেন। বাঁশের লাঠি দিয়েও আঘাত করা হয়। এ সময় অন্যান্য আসামিরা ফিরোজাকে মারধর করে রক্তাক্ত করে এবং তার প্রতিবন্ধী সন্তানকেও মারধর করে।এছাড়াও মামলার প্রধান আসামি মাজাহারুল আনাম তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখে বালিশ চাপা দেয়।

পরে ফিরোজার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আসামিরা পালিয়ে যায়।ফিরোজাকে গুরুতর রক্তাক্ত আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম মাজহারুল আনাম অস্ত্র মামলার আসামি।অবৈধ অস্ত্র থাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।