চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সৌদি আরবে পরিবর্তনের ছোঁয়া

একবিংশ শতাব্দীতে এসে বিশ্ব সভ্যতা আধুনিক থেকে আধুনিকতর হচ্ছে। বিজ্ঞানের উৎকর্ষে একশ বছর পর মনুষ্য সভ্যতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা আগেভাবেই বলে দেয়া অসম্ভব। সভ্যতার উন্নয়নে সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী পুরুষ। মাতৃতান্ত্রিক আদিবাসী সমাজব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে দিনে দিনে তারা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। নারী এখন পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী। যুগে যুগে নারী লড়াই করে পুরুষের কাছ থেকে অনেক অধিকার অর্জন করেছে। উন্নত বিশ্বে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলছে নারী। সে বিবেচনায় অর্থবিত্তে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব উন্নত হলেও সে দেশের নারীরা যেন গুহাবাসী। সরকারের নির্দেশানুসারে সৌদি নারীরা বাবা, স্বামী বা ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া পড়াশোনা, ভ্রমণ ও অন্যান্য কাজ করতে পারে না। সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ গ্রহণের পরে অবশ্য এসবের কিছু কিছু ক্ষেত্রে খানিকটা শিথিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি সংক্রান্ত আদেশ জারি করে সরকার। বাদশাহ আদেশ জারি করার পর স্বামীরা এখন তাদের স্ত্রীদের গাড়ি চালানো শেখাচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নারীদের জন্য গাড়ি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে দেশের বাইরে গিয়ে সৌদি নারীদের যারা আগেই গাড়ি চালানো শিখেছে তারা রাস্তায় নামতে শুরু করেছে, যদিও আগামী বছরের জুন মাস থেকে সরকারি নির্দেশ কার্যকর হওয়ার কথা। সৌদি আরবই বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি ছিল না। বহু বছর ধরে চলা প্রচারণা আর প্রচেষ্টার পর সৌদি আরবের ইতিহাসে এই প্রথম নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেয়েছে। গাড়ি চালানোর অনুমতি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে দেশটির ভেতরে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছিল। তার ওপর ‘নারীদের গাড়ি চালানোর মতো বুদ্ধি নেই’- সৌদি আরবের এক ধর্মীয় নেতার এমন মন্তব্যে আসন্তোষ আরো বাড়তে থাকে। এরকম বিতর্কিত মন্তব্য করায় ধর্মীয় নেতা হিজিরিকে অবশ্য সকল ধর্মীয় কাজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সৌদি আরবের চরম রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়ার দাবিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে, বিনা অনুমতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে অনেক নারীকে কারাগারেও যেতে হয়েছে সৌদিতে। শেষ পর্যন্ত সেই অনুমতি মিলেছে। এছাড়া, সম্প্রতি প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের কোন স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকার পায় নারীরা। রিয়াদের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে জাতীয় দিবসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নারীরাও অংশগ্রহণ করে। সৌদি আরবের জাতীয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে এই আয়োজন করে জিইএ। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন আল তাকাফিয়ায় ৩০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোন নারী শিল্পীর গান প্রচারিত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটির রক্ষণশীল সমাজে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে, একে পরিবর্তনের পক্ষে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বিশ্ব। প্রযুক্তির সঙ্গে তথ্যের অবাধ প্রবাহের কল্যাণে সৌদি আরবের পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীকে আর চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি রাখা যাচ্ছে না। তারা নিজেদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে। অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করছে। সৌদি নারীরা অধিকার আদায়ে আরো সফল হোক সেটাই কামনা।

বিজ্ঞাপন