চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সৌদিতে ৪০০০ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকিতে

সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়মের বাধ্যবাধকতায় হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৪ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। সৌদি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিল্ডিং কোড মেনে নিজস্ব ভবন থাকতে হবে। প্রায় আট লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সন্তানদের পড়াশুনার জন্য মাত্র দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলা ও ইংরেজী শাখা) ভাড়া করা আবাসিক ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। নিজস্ব ভবন তৈরী না করলে প্রতিষ্ঠান দু’টি বন্ধ করে দেবার নোটিশ দিয়েছে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রনালয়, জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান দু’টির চেয়ারম্যান কাজী নেয়ামুল বশির ও ডাঃ আঃ মান্নান।

বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সহ একাধিক মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলা স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম ফারুক ও ইংরেজী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল কাইউম।

সৌদি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে বৈদেশিক শিক্ষা বিভাগের আইন মোতাবেক অভিভাবক দ্বারা গঠিত ভিন্ন দু’টি পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে স্কুল দু’টি পরিচালিত হয়ে আসছে।

Advertisement

বাংলা শাখায় ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্য সুচীতে নার্সারী থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা করছে আড়াই হাজার ছাত্র ও ছাত্রী। ইংরেজী শাখায় ব্রিটিশ কারিকুলামে ক্যামব্রিজ পাঠ্যক্রমে প্রি-নার্সারি থেকে “এ” লেভেল পর্যন্ত পড়াশুনা করছে পনের শত ছাত্র ও ছাত্রী। দু’টি প্রতিষ্ঠানেরই পড়াশুনার মান বেশ ভাল। বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়টি ঢাকা বোর্ডের প্রথম দশটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্থান করে নেয়া ছাড়াও প্রতি বছরই এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীরা বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় একাধিক বৃত্তি অর্জন করে। ইংরেজী মাধ্যমের প্রতিষ্ঠানটি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে “এ” এবং “ও” লেভেল পরীক্ষায় ওর্য়াল্ড মেধা তালিকায় একাধিকবার বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে।

সৌদি নিয়মে স্কুল দু’টি বন্ধ হয়ে গেলে পড়াশুনা নিয়ে বিপাকে পড়বে চার হাজার বাংলাদেশী শিক্ষার্থী। অনেকেরই পড়াশুনার অব্যাহত রাখতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে আসতে হবে দেশে। প্রতিষ্ঠান দু’টি বন্ধের আশংকায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবার।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও স্কুল ভবন নির্মাণে আর্থিক অনুদান পেলে চার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে নিশ্চিত করা যেতে পারে।