চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সৌদিতে দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ভূমিকায় সন্তুষ্ট প্রবাসী বাংলাদেশিরা

করোনা প্রতিরোধ

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সৌদি আরবে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই  সৌদি সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে বর্তমানে কোন লকডাউন কারফিউ না থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর কড়াকড়ির কারণে দ্বিতীয় ঢেউয়ে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মহামারী করোনার বিস্তার।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত সৌদি আরবে মোট সংক্রমণের সংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ২শ ৮১ জন।২৮ এপ্রিল কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩ জন। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৬ হাজার ৯শ ৩৫ জন স্থানীয় এবং প্রবাসী করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এরমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন  এক হাজার ৩৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪শ ৫৪ জন।

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে সৌদি আরবে। শুরুতে ব্যাপক হারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় সৌদি নাগরিক ও সৌদি আরবে বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীদের মাঝে। সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন শহরে লকডাউন পরবর্তীতে কারফিউ জারি করে সৌদি সরকার। তারপরেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছিল। তার মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছিল প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এরমধ্যে জেদ্দা কনস্যুলেটের অধীনে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে ৪শ ৯৪ জন ।

তবে প্রথমবারের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃতের সংখ্যা যেমন কমেছে তেমনি প্রবাসীদের মৃত্যুর হারও তার সাথে পাল্লা দিয়ে কমতে শুরু করে এর পিছনে সবচেয়ে বড় বেশি ভূমিকা পালন করেছে সৌদি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যবিধি ওপর জোর দিয়েছে সরকার যার কারণে দ্বিতীয় ঢেউয়ে তেমনটা সুবিধা করতে পারেনি মহামারী করোনাভাইরাস। সৌদি সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ, জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী চিকিৎসকদের নিয়ে সাধারণ প্রবাসীদেরকে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়ার জন্য ডক্টরস পুল গঠন, সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন কারফিউ চলাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন প্রবাসীদের মাঝে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া, সৌদি সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূতাবাসে- কনস্যুলেটে কন্সুলার কার্যক্রম চালু রাখা বিশেষ করে করোনায় আক্রান্তসহ বিভিন্ন কারণে মৃত প্রবাসীদের স্থানীয়ভাবে দাফন এবং বাংলাদেশ প্রেরণে দ্রুত সময়ে এনওসি প্রদান, পাসপোর্ট রি-ইস্যু রিয়াদ জেদ্দাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে কন্সুলার সেবা অব্যাহত রাখা পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মোতাবেক প্রবাসীদের দোরগোড়ায় কন্সুলার সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রবাসী সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল  রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

এসব কারণে প্রবাসীদের মধ্যে অনেকটা সহায়ক ভূমিকা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে করোনা কালীন সময়ে। জীবন বাজি রেখে প্রবাসীদের এসব সেবা দিতে গিয়ে দূতাবাস এবং কনস্যুলেটের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

করোনার ঊর্ধ্বগতি সময়ের মধ্যে গত ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সাবেক আইজিপি ডঃ মোহাম্মদ  জাবেদ পাটোয়ারীকে নিয়োগ দেয়। রাষ্ট্রদূত কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে দূতাবাস এবং জেদ্দা কনস্যুলেটে অনিয়ম দুর্নীতি অস্বচ্ছতা দূর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সৌদি প্রবাসীদের মধ্যে দূতাবাসের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা, করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন প্রবাসীদের জন্য সৌদি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মানব সম্পদ ও শ্রমমন্ত্রীসহ বিভিন মন্ত্রী, ওআইসির মহাসচিব, বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নর ,আল-জুবাইল এবং ইয়ানবুর রয়েল কমিশন এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক এর মাধ্যমে সৌদি শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংক্রমণের মধ্যেও দফায় দফায় বৈঠক করেন।

এছাড়া বিশেষ করে দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে কর্মরত বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীর অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নারী গৃহকর্মীদের সাথে অসদাচরণের কারণে কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারীকে পদচ্যুত বদলি সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ায় সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং প্রবাসী সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ দূতাবাসের এসব রাষ্ট্রদূতের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সম্প্রতি জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের যোগ দিয়েছেন কনসাল জেনারেল নাজমুল হক। যোগদানের তিন দিনের মাথায় কনস্যুলেটে কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালু সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যা ২ আগস্ট ২০২০ সাল থেকে করোনা ভাইরাসের কারণে সৌদি সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কনস্যুলার সেবা বন্ধ রেখেছিল জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

বিজ্ঞাপন