চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সোশ্যাল মিডিয়া তারকাদের নজরদারিতে রাখবে ডেনমার্ক

ফলোয়ারদের ওপর প্রভাব সৃষ্টিকারী জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া তারকাদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক সরকার।

ফটো শেয়ারিং অ্যাপ ইনস্টাগ্রামে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ফলোয়ার থাকা সোশ্যাল মিডিয়া তারকা ফাই লরসেন নিজ অ্যাকাউন্টে একটি আত্মহত্যার চিরকুট পোস্ট করার ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি জানিয়েছে, ফাই লরসেন আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তা জানিয়ে একটি নোট লিখে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। তারপর আত্মহননের চেষ্টা করেন তিনি।

এ ঘটনার পর টানা দু’দিন লেখাটি তার অ্যাকাউন্টে সবার দেখার জন্য উন্মুক্ত ছিল। দু’দিন পর ফাইয়ের পরিবার সেটি সরিয়ে ফেলতে সফল হন। ইনস্টাগ্রামে আরেকটি পোস্ট দিয়ে ফাইয়ের পরিবার নিশ্চিত করেছে, এখনো বেঁচে আছেন তিনি। বর্তমানে ফাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফাই লরসেনের আত্মহত্যার চিঠিতে ৩০ হাজারের বেশি লাইক এবং ৮ সহস্রাধিক কমেন্ট পড়েছে। এরপরই এটি নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে ডেনমার্ক জুড়ে। আলোচনা চলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টিকারী বা ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার’দের অনলাইন কনটেন্টগুলোকে কীভাবে নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা যায়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ডেনমার্কের শিশু ও শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী রোজেনক্রানজ থেইল বিবিসি’কে বলেন, ইনফ্লুয়েন্সারদের অবশ্যই অন্য যে কোনো গণমাধ্যমের মতোই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পোস্ট করার ব্যাপারে ‘সম্পাদকীয় দায়িত্বশীলতা’ মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘একটি পত্রিকা বা গণমাধ্যমের সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির যেমন নিজের মাধ্যমের আধেয়র বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হয়, তেমনি আপনি যখন আপনার পেজে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ফলোয়ার পাবেন, তখন আপনারও একটি দায়িত্ববোধ থাকতে হবে।’

‘সুতরাং উদাহরণ হিসেবে এখানে বলা যায়, গণমাধ্যমের জন্য ড্যানিশ নীতিমালা বলছে, আপনি আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ব্যাপারে কিছু লিখতে পারবেন না যদি না তা জনস্বার্থে হয়। একই নীতিমালার প্রয়োগ আমরা সামাজিক মাধ্যমেও দেখতে চাই,’ বলেন মন্ত্রী।

ড্যানিশ সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এই নীতিমালা লঙ্ঘন করলে তার সেই পোস্ট সরিয়ে ফেলা হবে। এছাড়া যে জনপ্রিয় তারকার মোট ফলোয়ার একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় পৌঁছাবে তাদের ওই অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর রাখতেও বাধ্য করা হবে।

অ্যাডমিন রাখার বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে রোজেনক্রানজ থেইল যুক্তি দেন, ফাই লরসেনের পরিবার চেষ্টা করেও দু’দিন আত্মহত্যার চিরকুটটি ইনস্টাগ্রাম থেকে সরাতে পারেনি কারণ তার অ্যাকাউন্টে আর কারও অ্যাকসেস ছিল না।

তাই এসব জনপ্রিয় ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এমন লোক বা বোর্ড রাখতে হবে যারা প্রয়োজনে অনুপযোগী পোস্ট সরিয়ে ফেলতে পারে।

Bellow Post-Green View