চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে জানাজার পর মিজানুর রহমান খানকে ফুলেল শ্রদ্ধা

আইন-আদালত ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকতায় নিজেকে অনন্য অবস্থানে নেওয়া সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানালেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত মিজানুর রহমান খানের প্রথম নামাজের জানাজায় অংশ নেন বিচারপতি, আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ শোকাহত পরিবারের সদস্যরা। এই জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো: রুহুল কুদ্দুস, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী, বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর ও সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজাসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জানাজা শেষে মিজানুর রহমান রহমান খানের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম। এরপর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এবং জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের জানাজা শেষে মরদেহ প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান (৫৩)। এর আগে করোনার নমুনা পরীক্ষায় গত ২ ডিসেম্বর তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর গত ৫ ডিসেম্বর তিনি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হন। শারীরিক সমস্যা বাড়লে গত ১০ ডিসেম্বর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার বিকেলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান ১৯৬৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঝালকাঠির নলছিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন ১৯৮৮ সালে। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতায় থাকা মিজানুর রহমান খান ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত যুগান্তর–এর বিশেষ সংবাদদাতা ও সহকারী সম্পাদক ছিলেন। এরপর সমকাল–এর উপসম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। সর্বশেষ প্রথম আলোয় যোগ দেন ২০০৫ সালের ১ নভেম্বর। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারের সপক্ষে জনমত গঠনে তিনি ভূমিকা পালন করেন। তিনি বইও লিখেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সংবিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক’ (১৯৯৫), ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের স্বরূপ’ (২০০৩), ‘১৯৭১ আমেরিকার গোপন দলিল, মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড’।