চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি তুচ্ছ মনে হয়: ববি

‘সুচিত্রা সেনের মতো দু-একটা কাজ করতে চাই’

২০১০ সালে ‘খোঁজ- দ্য সার্চ’ এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। এরপর কাজ করেছেন দেশের তারকা অভিনেতাদের বিপরীতেও। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে আছে বেশ কয়েকটি দর্শকপ্রিয় সিনেমা।

বাংলা চলচ্চিত্রের ‘বিজলী’ খ্যাত এই নায়িকার জন্মদিন বুধবার (১৮ আগস্ট)। করোনার কারণে এবারও দিনটিতে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখছেন না এই নায়িকা। তার পরিবারের সদস্যরা আছেন অস্ট্রেলিয়াতে, তাই অনেকটা একাকী জন্মদিন কাটাচ্ছেন ববি। দুপুরে মুঠোফোনে ববি কথা বলেন এই প্রতিবেদকের সাথে, যেখানে জন্মদিনের প্রসঙ্গ ছাড়াও উঠে আসে বর্তমান চলচ্চিত্রের হালচাল…

এবার আপনার কততম জন্মদিন?
হা হা হা…। জানাটা কী খুব গুরুত্বপূর্ণ? অনেকেই কিন্তু জানে। কারণ, আমার পাসপোর্টে সঠিকভাবে দেয়া আছে, ফেসবুকেও উল্লেখ করা। যদি কারও বেশি জানার প্রয়োজন হয়, একটু খুঁজলেই হয়তো পেয়ে যাবে।

জন্মদিন কীভাবে কাটাচ্ছেন?
ছোট খালার সঙ্গে আছি। এখানে রাত ১২টায় সারপ্রাইজ কেক কেটেছি। শুরু থেকে সবাই ফোন, ফেসবুকে সবাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। খুব ভালো লাগছে। শেওড়াপাড়াতে একটি এতিমখানায় যাব। প্রায়ই সেখানে যাই। পরে ব্যবসায়িক পার্টনার, স্টাফরা আছে। তারা তো নাছোড়বান্দা। এজন্য তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাবো।

জন্মদিন আসে যায়। আপনার কাছে বিশেষ এ দিনে উপলব্ধি কী?
বাবাকে সবচেয়ে বেশি মিস করি। এদিনে আরও বেশি মিস করছি। উনি যখন বেঁচে ছিলেন এই দিনটা খুবই স্পেশাল কাটতো। বিভিন্নভাবে উনি সারপ্রাইজ করতেন। আমার পছন্দের কেক, খাবার রাখতেন। কিন্তু আমি আগেই বুঝে ফেলতাম। কারণ, বাবা খুব সহজসরল মানুষ ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আপনার জীবনে সবচেয়ে সুখের অনুভূতি মিশে আছে কোন বছরের জন্মদিন ঘিরে?
২০১৪ সালে প্রচুর ব্যস্ততা ছিল। ওই বছরের জন্মদিনে এতিম বাচ্চাদের সঙ্গে সারাদিন ছিলাম। বাচ্চাগুলো এখন বড় হয়ে গেছে। শুধু জন্মদিনের জন্য না, সেবার কয়েকজন বাচ্চার ব্যক্তিগত কাজ করতে পেরেছিলাম। ওরা এতো খুশি হয়েছিল! ওইবারের জন্মদিনটা বেশি মনে পড়ে। মনে পড়লে সবচেয়ে ভালো লাগে, তাদের জন্য সত্যি সত্যি কিছু করতে পেরেছিলাম। তখন আমার মনে হয়েছিল, আমি যেন বিশ্ব জয় করে ফেলেছি! এই অনুভূতি ভুলব না। প্রতিবার যখন জন্মদিন যায়, মনে হয় জীবন থেকে আরেকটা বছর চলে গেল। কী করলাম জীবনে? আরও কতকিছু করতে হবে। তবে সবাই খুব কেয়ার করে, ভালোবাসে এটা আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বাবা মারা যাওয়ার পর এটা আরও বেশি ফিল করি। কোভিডের মধ্যেও অনেকে খোঁজ নিয়েছে এটা যে কত বড় আশীর্বাদ ফিল করি। তখন টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ি সবকিছু তুচ্ছ মনে হয়।

কী কী করতে চান, যেগুলো আপনাকে ভাবায়। শুনি তো…
স্ক্রিনে গ্ল্যামারে পূর্ণ ববিকে দেখেছেন দর্শক। কিন্তু ব্যক্তি ববি কেমন সেটা দর্শক দেখেনি। খুব সাদামাটা কিছু চরিত্র যেটা আমি সত্যি সত্যি অনুভব করি, এ ধরনের কাজ করতে চাই। আমার বাবা সুচিত্রা সেনকে খুব পছন্দ করতেন। তার মতো দু-একটা কাজ করতে চাই। ‘পিকু’ সিনেমায় দীপিকা পাড়ুকোনের যে চরিত্র তেমন সহজ সরল চরিত্র করেছিলেন যা মানুষ নিজের সঙ্গে মেশাতে পারে তেমন কাজ করতে চাই।

অনেকেই শুটিং করছেন। আপনি কবে থেকে শুটিংয়ে নামবেন?
২৫ আগস্ট কোভিড প্রতিরোধী দ্বিতীয় ডোজ নেব। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে একেবারে নতুন কাজ নিয়ে শুটিংয়ে নামবো। অনেকগুলো কাজ জমে আছে। চিত্রনাট্য বেছেই আগামী মাসে নেমে পড়বো।

ঢালিউডের প্রথম সুপারহিরো ধাঁচের সিনেমা ‘বিজলি’ প্রযোজনা করেছেন। সিনেমা প্রযোজনার অভিজ্ঞতা কেমন?
অনেককিছু ভেবেচিন্তে প্রযোজনা করতে হয়। কারণ, সিনেমা প্রযোজনা করতে অনেক প্রতিবন্ধকতা আসে। সিনেমার প্রতি যাদের সত্যিকারের টান, করবোই মনোভাব যাদের থাকে তারাই সেগুলো টপকাতে পারে। নারীর ক্ষমতায়ন আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। সেটাই কাজ দিয়ে দেখাতে চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়, আমাদের দেশের নারীরা আরও সুপার উইমেন। কারণ, এতো সংকটের মধ্যেও তারা এগিয়ে যাচ্ছে। আমিও নিজেও। মানুষ অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। তবে আমার অভিজ্ঞতার জায়গা, সিনেমা নির্মাণ আরও বেশি সহজতর হওয়া উচিত। নিয়মনীতি করলে প্রযোজকরা লাভলান হবেন।

ইন্ডাস্ট্রিতে দিনের পর দিন অস্থিরতা বাড়ছে। বিষয়টি আপনাকে ভাবায়?
হ্যাঁ, আমি গত দেড়বছর ধরে ভাবছি এর চেয়ে বেশি খারাপ আর কী হতে পারে! তাছাড়া অস্থির সময় পুরো বিশ্বজুড়ে। ধৈর্য্য ধরতে হবে। অন্যদের তুলনায় আমাদের শেখার আগ্রহটা কম। আমার বিশ্বাস, কোভিড আমাদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। কোভিডের পর সিনেপ্লেক্সগুলো যখন আবার খুলে যাবে মানুষ আবার হলে যাওয়া শুরু করবে। কোভিড বলেই মানুষ ওটিটিতে সিনেমা দেখছে। এটা খুবই ইতিবাচক দিক। মানুষ কোনো না কোনো মাধ্যম থেকেই কাজ দেখছে। তবে আমার ব্যক্তিগত ধারণা হচ্ছে, সিনেমার দেখার আসল মজা হলে সিনেমা হলে।

বিজ্ঞাপন