চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাহসী জবাবে কোচকে চমকে দিয়েছিলেন স্মিথ!

যেভাবে জফরা আর্চারের বুলেটগতির বল ঘাড়ে লেগেছিল, স্টিভেন স্মিথ ফিরতে পারবেন মাঠে সেটা আশাই করেননি অনেকে। শেষপর্যন্ত ঠিকই খেলায় ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। পৌনে একঘণ্টার মতো বাইরে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে লড়েছেন বুক চিতিয়ে। খেলেছেন ৯২ রানের লড়াকু ইনিংস।

লর্ডস টেস্টে অজিদের প্রথম ইনিংসের ৭৭তম ওভার। দ্বিতীয় বলে আর্চারের বাউন্সার। বল যেয়ে আঘাত হানে স্মিথের বাঁ-কানের নিচ ও ঘাড়ের মাঝ অংশে। আঘাত পেয়ে উইকেটে লুটিয়ে পড়েন এ ডানহাতি। চিকিৎসক ছুটে এসে পরীক্ষা করে নিয়ে যান মাঠের বাইরে। স্মিথ তখন ৮০ রানে।

বিজ্ঞাপন

ড্রেসিংরুমে যখন সেবা নিচ্ছিলেন, তখন স্মিথের কাছে গিয়েছিলেন অজি কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। জিজ্ঞেস করেছিলেন আর মাঠে ফিরতে পারবেন কিনা। জবাবে স্মিথ কী বলেছেন সেটাই চতুর্থদিন শেষে শুনিয়েছেন তার গুরু।

‘ও(স্মিথ) ড্রেসিংরুমে ঢুকেই আবার মাঠে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে গেল। জিজ্ঞেস করলাম তুমি ঠিক আছো তো? আমার অন্য খেলোয়াড়রাও কিন্তু তৈরি আছে। আমি তোমাকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিতে চাই না। যদিও তুমি নিজেই সবসময় সেই রাস্তাই বেঁছে নাও।’

বিজ্ঞাপন

জবাবে স্মিথের উত্তর ছিল, ‘আমি ঠিক আছি। আমি শুধু খেলতে চাই। যদি ব্যাটিং না করি তাহলে তো অনার্স বোর্ডে আমার নাম উঠবে না!’

শিষ্যের মুখে এমন উত্তর শুনে চমকেই গিয়েছিলেন ল্যাঙ্গার! এরপরও চাননি মাঠে ফিরে যান স্মিথ। কারণ দ্রুতগতির বলে আহত হওয়ার পাশাপাশি কনুইয়ের চোট নিয়েও খেলতে হচ্ছিল ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে। এ কারণে সামনের পায়ে ভর করে ডিফেন্সিভ খেলতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে খেলতে হচ্ছিল আগ্রাসী।

দুই চোট নিয়ে খেলতে না নামার জন্য স্মিথকে বেশরকম অনুরোধ করেছিলেন ল্যাঙ্গার। স্মিথ সেটা কানেই তোলেননি, ‘ওকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি। দরজা আটকে আলাদাভাবে অনুরোধ করেছি। দুই-তিনবার সবার সামনে জিজ্ঞেস করেছি। ও শুধু বলে গেল আমি ঠিক আছি। সব ঠিক আছে কোচ। আমি প্রস্তুত। এরপর আর কী করার থাকে বলুন!’

শেষপর্যন্ত মাঠে নেমে অবশ্য লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তুলতে পারেননি স্মিথ। ১৬১ বলে ৯২ রানে থেমেছে তার লড়াকু ইনিংসটি। বোর্ডে নাম না উঠলেও সাহসী ইনিংসে যে সবার মনে জায়গা করে নিয়েছেন তা আর না বললেও চলে!

Bellow Post-Green View