চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে সোচ্চার ছিলেন অনন্ত

সিলেটে নিহত ব্লগার ও লেখক অনন্ত বিজয় দাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা, আইএস ও ব্লগার হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ করছিলেন।

বিজ্ঞাপন

চাকরির পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ক ছোট কাগজ ‘যুক্তি’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। একুশে বইমেলায় তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে; ‘জীব বিবর্তনের সাধারণ পাঠ’ ও ‘ডারউইন একুশ শতকের প্রসঙ্গিক ভাবনা’। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক ব্লগার অভিজিৎ রায়ের ‘মুক্তমনা’ ব্লগের পাশাপাশি ‘পড়ুয়া’ ও বাঁধভাঙার আওয়াজসহ বিভিন্ন ব্লগে লিখতেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করতেন অনন্ত বিজয়।

মৌলবাদ, বিজ্ঞান নিয়ে নিয়মিত ব্লগের পাশাপাশি ফেসবুকে ব্লগার রাজীব,অভিজিৎ ও বাবুর হত্যাকাণ্ড, এসব হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ও আল-কায়েদার দায় স্বীকার, হত্যাকাণ্ড তদন্তে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও সাম্প্রতিক নারী নিপীড়নে পুলিশের ভূমিকাসহ নানা ইস্যু নিয়ে লিখেছেন তিনি।

হত্যার শিকার হওয়ার মাত্র দু’ঘন্টা আগেও একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে স্থানীয় সাংসদের ‘চাবুক মারা’ বিষয়ের সমালোচনা করে লিখেছিলেন, ‘‘…অধ্যাপকের প্রতি আপনাদের এতো গাত্রদাহের কারণটা কি? শুনেছি এই সাংসদের পিতা ছিলেন একাত্তরের পাকিস্তানের গণহত্যার সহযোগী শান্তি কমিটির প্রভাবশালী ব্যক্তি। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যলয়ের অধ্যাপক স্বাধীনতাবিরোধীদের বিপক্ষে একটি বজ্রকঠিন সাহসীকণ্ঠ।… সমীকরণটা বেশ সোজা”

দেশে ব্লগারদের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড নিয়েও সরব ছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে এসব হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস,আল কায়েদার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ৫ মে তিনি লিখেছিলেন, “মনে হচ্ছে আল-কায়েদার সাথে আইএসের মাঠ দখলের লড়াই খুব শিগগিরই। কেন জানি মনে হচ্ছে, এটা বাংলাদেশ ইস্যুতেই ঘটবে।… বাংলাদেশের যেসব জঙ্গি গ্রুপগুলো এতোদিন আল কায়েদার স্নেহধন্য পাবার জন্য ব্যতিব্যস্ত ছিল, তারাও আলকায়েদার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে সেলিব্রেটি জঙ্গিগ্রুপ আইএসের দিকে নজর দিয়েছে। এদিকে জাওয়াহারির বাণী প্রচারের পর আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখার এতোদিনে কোনো পারফর্মেন্স দেখাতে না পারায় একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল তাদের জন্য, এটা বোঝাই যায়। তাই অভিজিৎ দা, ওয়াশিকুর বাবু, অধ্যাপক শফিউল আলমসহ আরো কয়েকজনের হত্যাকাণ্ডের এতোদিন পর যখন তারা বিবৃতি দিয়ে দাবি করে এগুলো তাদেরই কাজ…”

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ব্লগার হত্যাকাণ্ড এবং পহেলা বৈশাখে নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলের দাবিতে মৌলবাদীদের প্রচারপত্র বিলি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিউল হত্যাকাণ্ড নিয়েও এপ্রিল-মে মাসে তিনি কয়েকটি পোস্ট দিয়েছিলেন।

সিলেটে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শহরের সুবিদবাজার এলাকায় নিজ বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ৪ জন মুখোশধারী তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এখনো কেউ এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি।

Bellow Post-Green View