চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সরকার প্রধানের নির্দেশ যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয়

গত কয়েকদিন যাবৎ দেশে সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসবকে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে এক শ্রেণির ধর্মান্ধ মৌলবাদি মতলববাজের দল। কথিত কোরান অবমাননার কথা বলে কুমিল্লায় একটি পূজা মণ্ডপে হামলা চালানো হয়। তারপর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প। সামাজিক গণ মাধ্যমের অপব্যবহার করে এক শ্রেণির ধর্মান্ধ গোষ্ঠি দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর নারকীয় তাণ্ডব চালায়। ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের পরিচিতিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। দেশে বিদেশে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। সারাদেশ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লে সরকারও কঠোর হতে শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

দেশের বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন: প্রধানমন্ত্রী যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তদন্ত করে যারা এসব ঘটনার সূত্রপাত করল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতি এসব ইস্যুতে মতবিনিময় করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন: আজকের কেবিনেট মিটিংয়ে এটা স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, খুব কঠোর অ্যাকশনে যেতে হবে। যারা যারা জড়িত আছে তাদের অবশ্যই ধরতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে বলতে হবে যে রিঅ্যাকশন করা যাবে না। কেউ যদি কোরআনের অবমাননা করে, কোরআন আমাকে কোনো অথরিটি দেয়নি যে আমি গিয়ে তার ধর্মের কোনো কিছু গিয়ে ভাঙব। সেটা ঠিক না হোক, আরও বড় অপরাধ হলেও এটা সকলকে খেয়াল রাখতে হবে, ইসলাম ডাস নট গিভ এনি অথরিটি টু এনি মুসলিম।হোম মিনিস্টিারের সাথে আমরা গত কয়েকদিন ধরে এটা হ্যান্ডেল করছি। আজও হোম মিনিস্টারকে বলেছেন, ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়েছে টু টেইক অ্যাকশন। যারা এগুলোর সূত্রপাত করল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের ধরতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা আছেন, তাদের বলা হয়েছে জনগণের সাথে শেয়ার করার জন্য যে, ছোটখাটো কোনো টুইস্টিং কেউ করলে রিঅ্যাকশন করতে পারবে-এটা ইসলাম অনুমোদন করে না।

বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার এসব ঘটনায় মোট ৭১টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৪৫০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আমরা আশা করি বাংলাদেশের আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে বজায় রাখতে এখনই দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার। সরকার প্রধানের এই নিদের্শ যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে তত মঙ্গল দেশের জন্য। এটি ইতিহাসে একটি কলংকজনক ঘটনা হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদা মারাত্মক ক্ষুণ্ণ করেছে। সুতরাং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিই পারে এই কলঙ্ক মোচনের উপায়। আমরা আশা করবো প্রশাসন দক্ষতার সাথে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সরকারের সামর্থ প্রকাশ করবে। সরকার দ্রুততম সময়ে এই হামলা ভাঙচুরের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এসব করতে সাহস না পায়।

বিজ্ঞাপন