চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সফটওয়্যার পার্কে যাওয়ার আগে অবাণিজ্যিক এলাকা ছাড়তে চায় না বেসিস

প্রয়োজনীয় সংখ্যক সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অবাণিজ্যিক এলাকায়-ভবনে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ চায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়ে়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

এজন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

অবাণিজ্যিক এলাকায় আইটি কোম্পানিগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে আজ বুধবার বেসিস মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো হিসেবে ২৮টি হাইটেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পার্ক নির্মাণসহ ঢাকাতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ করা গেলে সফটওয়্যার ও আইটিইএস প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোনো অবাণিজ্যিক অফিস স্পেস ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না।’

বেসিস সভাপতি জানান, গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি, মিরপুর ও উত্তরা থেকে অবৈধ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ ও আবাসিক এলাকা থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাণিজ্যিক এলাকাতে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এর ভিত্তিতে সম্প্রতি রাজউক-এর একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা গিয়ে উত্তরায় বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠান সলিউশন নাইন লিমিটেড এর অফিসে একই অভিযোগে তালাবন্ধ করে দিয়ে এসেছেন। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এভাবে কোনোপ্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করলে তাদের ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীনই হচ্ছে না, বরং সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ইতোপূর্বে একই কারণ দেখিয়ে উত্তরা এলাকায় অপর একটি প্রতিষ্ঠান তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বেসিস-এর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান বলেন, ‘আমেরিকা, ইউরোপ ও জাপানের মতো বিভিন্ন দেশের সাথে টাইমজোনের পার্থক্য রয়েছে। তাদের সঙ্গে সময় মিলিয়ে কাজ করার জন্য অনেক অফিস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হয়। তাছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত জনবল মোটামুটি নীরবেই কাজ করে এবং এতে বহিরাগত মানুষের আনাগোনা বা কোলাহল হয় না। এজন্য তাদের কাজের জন্য আবাসিক বা অবাণিজ্যিক এলাকাই ভালো।’

বেসিস জানায় সংগঠনটির ১ হাজার ১’শ সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮’শর বেশি প্রতিষ্ঠান ঢাকা শহরের অবাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থান করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক জনবল কর্মরত আছে।

বেসিস এর দাবি,গত অর্থ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী অবাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় বাজারে বিনিয়োগ করেছে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ এবং আইটি ও আইটিইএস খাত থেকে রপ্তানি আয় করেছে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত তথা বেসিস সদস্যরা।

এই অবস্থায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অবাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য রাজউক চেয়ারম্যান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং একইসাথে এই অব্যাহতি সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করার অনুরোধ জানান বেসিস সভাপতি।