চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সনি হত্যার সময় কোথায় ছিলেন অ্যালামনাইয়ের সদস্যরা: প্রধানমন্ত্রী

নারীদের আপন স্থান নারীদেরই তৈরি করে নিতে হবে

এ পর্যন্ত কয়জন ছাত্র হত্যার বিচার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মারামারির মাঝে সনি যখন মারা গেলো তখন কারা প্রতিবাদ করেছিল। সনি হত্যার সময় কোথায় ছিলেন অ্যালামনাইয়ের সদস্যরা। বুয়েটের যারা অ্যালামনাই তারাতো তখন মাঠেই নামতে পারেনি। বিচার চায়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সবাই কথা বলতে পারে। সবাই কথা বলার অধিকার পায়।

শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে মহিলা শ্রমিক লীগের দ্বিতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন: মেয়েদেরকে ধর্মের নাম করে আটকে রাখার কোন যুক্তি নেই। নারীর অধিকার নারীদেরই রক্ষা করতে হবে। আপন স্থান করে নিতে হবে। নারীদের অধিকার নারীরা নিজেরা তৈরি করে নেবে, নিতে হবে।

বুয়েটের ঘটনার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন: অপরাধীরা কোন দল করে সেটা বড় নয়, খুনিকে আমরা খুনি হিসেব দেখি। বুয়েটের ঘটনায়, আমি আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করিনি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছি।

ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করতে বলেছি। ভিডিও ফুটেজ নিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয় পুলিশ। ১০ দফা ৫ দফায় নামিয়ে আনার পরও তারা কেনো আন্দোলন করবে বুঝতে পারছি না।

আসামিদের পালিয়ে যাবারই সুযোগ করে দিলো কিনা জানি না। আন্দোলন যারা করলো তারাই ভালো বলতে পারবে।

কোন অন্যায় সহ্য করিনি, করবো না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ফেনী নদীর পানি বন্টনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন: যদি (পানির) নায্য অধিকার কেউ নিশ্চিত করতে পারে, সেটা শেখ হাসিনাই করেছে। আমরা গঙ্গার পানির হিস্যা করেছি।

‘ফেনী নদী খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার ভগবান টিলায় উৎপত্তি। ১৪০ কি.মি এর একটি নদী। যার শুধুমাত্র ৪০ কি.মি. ফেনীর ছাগলনাইয়া হয়ে বঙ্গোপসাগেরে পড়েছে। ভারতের সাবুরাং নামক এক জায়গা সেখানে মানুষ খাবার পানির অভাবে থাকে। একটা মানুষ যদি পান করার জন্য পানি চায়, সেখানে অতি বড় দুশমনও পানি দেয়। চুক্তি অনুযায়ী ১.৮ কিউসেক পানি নেবে ভারত।

আবার বলা হচ্ছে গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছি। সিলিন্ডার গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করি এসে আমাদের দেশে ভরা হয়। সেখান থেকে কিছু গ্যাস যাবে ত্রিপুরায়। ১৯৭১ সালে ত্রিপুরাবাসী আমাদের সাহায্য করেছিল। আর এটা আমরা এখন আমদানি করে রপ্তানি করছি, এতে আমাদের একটা রপ্তানি পণ্য বাড়বে। আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না।

বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: ভারত থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। বিনিময়ে আমরা এলপিজি দিচ্ছি। হিসাব নিকাশ করলে আমরাই বেশি লাভবান হচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

নারীদের উন্নয়নের নানা চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন: দেশকে দারিদ্রমুক্ত করতে হলে দেশকে শিক্ষিত করতে হবে। কিছুদিন আগেও বাবা-মা মনে করতো মেয়েকে বেশি শিক্ষিত করে কী হবে। সেই চিন্তা-ভাবনা দূর করার জন্য নারী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি।

‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে ৬০ ভাগ নারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। এ পর্যন্ত যত কাজ করেছি সবক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়েছি। বহু মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি যাতে তারা ঘরে বসে টাকা আয় করতে পারে।’

‘২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে পুনরায় কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করি। এর মাধ্যমে মেয়েরা বড় বড় জায়গায় কাজ পাচ্ছে। আগে স্বাক্ষরতার হার মাত্র ৪৫ ভাগ ছিলো। আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরে মায়েদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠান না কেনো, তারা বলতো কাজ করলে দুটো পয়সা পাবে। আমি তখন তাদের বলেছিলাম এই টাকাটা যদি আমি দেই।’

‘এখন ১ কোটি ৩৫ লক্ষ মা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তি পায়। যখন এটা করতে গেলাম ২০ লাখ মায়ের মোবাইল নেই। সেটাও আমরা কিনে দিয়েছি। এখন মাঝে মাঝে দেখছি মেয়েরা কোনো কোনো জায়গায় ছেলেদের থেকে ফলাফলে এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা চালু করেছি। অবহেলিত শ্রেণিকে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তাদেরকে আরও বেশি বেশি বৃত্তি দিচ্ছি যাতে করে তারা পড়ালেখা শিখে ভালো সুযোগ সুবিধা পায়।’

‘নারীদের উন্নয়নে কল্যাণে বিভিন্ন কাজ করেছি। কর্মজীবি নারীদের উন্নয়নের জন্য কর্মজীবী হোস্টেলের ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে সেখানে নারীরা নিরাপদে থাকতে পারে।’

‘নারীরা যেনো শিশুদের কর্মস্থলে রেখে কাজ করতে পারে সেজন্য সকল প্রতিষ্ঠানে শিশু দিবা যত্ন কেন্দ্র রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। অনেক জায়গায় এটা তৈরী করা হচ্ছে, আমরা করে দিচ্ছি।’

‘সারাদেশে ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। যারা মহিলা ব্যবসায়ী তারা যেনো সেখানে বিশেষ সুবিধা পায় সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। খেলাধুলায় মেয়েরা পিছিয়ে নেই। ক্ষেত্রবিশেষে দেখছি ছেলেদের থেকে মেয়েরােই বেশি ভালো করছে।’

‘৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখি সরকারি পর্যায়ে কোনো উচ্চ পদস্থ নারী কর্মকর্তা নেই। কেনো মহিলা বিচার বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে নেই। কোনো ডিসি, এসপি নেই। পদোন্নতি দিয়ে সেক্রেটারি বানাবো সেই ব্যবস্থাও ছিল না তখন।’

‘এসপি পদে নিয়োগ দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বাধার সম্মুখীন হলাম। পরে দেখা গেলো মেয়েরাও সব পারো। ঠিক একইভাবে সেনাবাহিনী বিমানবাহিনীতেও নারী আছে। কিছুদিন পর দেখা যাবে মেয়েরা যুদ্ধ বিমানও চালাচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মেয়েরাও সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। বিজিবিতে কোনো মেয়ে ছিলো না সেখানেও মেয়েদের নিয়োগ দিয়েছি।’

‘আমরা বিশ্বাস করি নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ না করলে উন্নতি হতে পারে না। সমাজকে সেভাবেই এগিয়ে নিলে উন্নতি হবে। ’

Bellow Post-Green View