চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সত্যজিৎ-বিজয়ার প্রেমের গল্পটা ঠিক যেন বলিউড সিনেমা

শেষ পরিণতি সুখের হলেও, সুখের আগে অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে। বলা হচ্ছে কিংবদন্তী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের বাস্তব জীবনের প্রেমের কথা। তার প্রেমের গল্প ছিল ঠিক যেন বলিউড সিনেমা! মানিক (সত্যজিৎ রায়) ও বিজয়া (সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী) ৮ বছর প্রেম করে বিয়ে করেছেন গোপনে। এরপর দুই পরিবারকে রাজি করানোর জন্য এগিয়েছেন সুপরিকল্পিত ভাবে।

কিশোরীকালে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে বিজয়ার। তবে তখন প্রেম ছিল না। একে অপরের প্রতি দুর্বলতার বিষয়টি বুঝতে পারেন ১৯৪০ সালে প্রতিদিন একসঙ্গে গান শোনার সময়। প্রেমে ডুবে থাকা এই জুটি তখনও বুঝতে পারছিলেন না কী করে পরিবারকে রাজি করাবেন এই বিয়েতে।

বিজয়ার চেয়ে বয়সে কিছুটা ছোট ছিলেন সত্যজিৎ। তারা কাছের আত্মীয়ও ছিলেন। বিয়ে হওয়া নিয়ে সংশয় ছিল। তাই তারা প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কখনো বিয়েই করবেন না। তবে তাদের ভাগ্যে অন্য কিছু ছিল।

সিনেমায় ভাল কাজের খোঁজে বিজয়া মুম্বাই চলে যান। সেসময়ে সত্যজিৎ রায় তার প্রেমিকাকে নিয়মিত প্রেমপত্র দিতেন। মাঝে মাঝে কলকাতা থেকে মুম্বাই চলে যেতেন বিজয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য। সময়ের সাথে সাথে তাদের ভালবাসা আরও গভীর হচ্ছিল। তারা দুজনেই বুঝতে পারছিলেন, ঘর তাদের বাঁধতেই হবে।

সত্যজিৎ রায়ের পরিবারকে না জানিয়ে মুম্বাইতে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেন তারা। বিষয়টি মাকে জানান বিজয়া। কিন্তু মা রাজি হননি। এরপর ১৯৪৮ সালের ২০ অক্টোবর বিজয়ার বোনের বাড়িতে সাত পাকে বাঁধা পড়েন এই জুটি।

বিজ্ঞাপন

রিসেপশনের ছোট আয়োজন করা হয়। সেখানে পৃথ্বীরাজ কাপুর ও তার স্ত্রী উপস্থিত হয়ে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ জানান।

পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে বিজয়া রায় জানিয়েছেন, তিনি কল্পনাও করেননি মানিকের সঙ্গে তার বিয়ে হবে। বিয়েটা যখন হলো, সুখ আর দুঃখ পাশাপাশি তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেল। বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে হয়েছিল তাদের। এমনকি একসঙ্গে থাকতেও পারতেন না তারা।

বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে সত্যজিৎ রায় বাড়িতে বলেন, ‘বিজয়া ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে পারবো না আমি।’ অনেক বাধা-বিপত্তি পেড়িয়ে সত্যজিৎ রায়ের মা রাজি হন। এই জুটি দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ১৯৪৯ সালের ৩ মার্চ। এবার পুরোপুরি বাঙালি রীতিতে হয় বিয়ে।

বলা হয় ‘প্রত্যেক সফল পুরুষের পেছনে একজন নারীর ভূমিকা থাকে’। বিষয়টি সত্যজিৎ রায়ের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সত্য। ‘পথের পাঁচালী’ থেকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত সত্যজিৎ রায়ের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিলেন বিজয়া। পেছনে থেকে দিয়ে গেছেন অনুপ্রেরণা, সামনে থেকে করেছেন সহায়তা।

বিজয়া লেখালেখি শুরু করার আগেও নিজের সব স্ক্রিপ্ট তাকে পড়িয়ে নিতেন সত্যজিৎ। একটি পেনসিল ধরিয়ে দিতেন হাতে, স্ক্রিপ্টে কোনো পরিবর্তন করা প্রয়োজন হলে তা করার জন্য। যে কোনো কাজে পরামর্শ নিতেন স্ত্রীর কাছ থেকে। বিজয়ার বেশিরভাগ পরামর্শই সত্যজিৎ উচিত মনে করতেন। – টাইমস  অব ইন্ডিয়া

বিজ্ঞাপন