চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও জয়ের পথে ট্রুডো

কানাডার সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি তুলনামূলক বেশি আসন নিয়ে জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ভোটগণনা শেষ না হলেও এখনই বোঝা যাচ্ছে, দ্বিতীয় মেয়াদে জয় পেয়ে গেলেও এবার আর পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না দলটি।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে কম আসন নিয়ে ‘সংখ্যালঘু সরকার’ গঠনের অর্থ হলো দলটিকে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা বিষয়ক সিদ্ধান্তের জন্য পার্লামেন্টে আসন পাওয়া অন্যান্য দলের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। ক্ষমতায় থাকার জন্য ট্রুডো ও তার দলকে অন্যান্য দলের ওপর নির্ভর করতেই হবে।

বিজ্ঞাপন

এবারের নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটগণনা অনুসারে, ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি পেয়েছে ১৫৭টি আসন। তার সঙ্গে ১২১টি আসন নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আছে বিরোধী দল কনজার্ভেটিভ পার্টি। ২০১৫ সালের নির্বাচনে লিবারেল পার্টি ১৮৪টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করেছিল। ওই সময় কনজার্ভেটিভরা পেয়েছিলেন ৯৫টি আসন।

এবারের নির্বাচনে পপুলার ভোটের হিসাবে কনজার্ভেটিভরা এগিয়ে থাকলেও মোট আসনের হিসাবে পিছিয়ে রয়েছেন।

কানাডার সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে একটি রাজনৈতিক দলকে জাতীয় নির্বাচনে ৩৩৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ১৭০টি জয় করতে হবে। সংবিধান অনুসারে ২৯৫টি নির্বাচনী জেলার প্রত্যেকটিতে একটি আসন ছাড়াও বিভিন্ন শর্ত ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে কিছু অতিরিক্ত আসনের বরাদ্দ রয়েছে। তাই সবগুলোতেই আলাদা করে আসন হিসেবে নির্বাচন হয় এবং সবগুলো আসন মিলেই গণনা করে সরকার গঠন হয় কানাডায়।

৩৩৮টি আসন নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১০৫ জন সিনেট সদস্য নির্বাচন করেন।

বিজ্ঞাপন

ফলাফল অনুসারে আপাতত তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্লক কুইবেকোয় (৩২) এবং নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (২৪)। অবশ্য চূড়ান্ত ফলাফলে পুরো হিসাবেই পরিবর্তন আসতে পারে।

গতবারের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার কারণ মনে করা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুতে ট্রুডোর প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারার ব্যর্থতাকে।কানাডার জাতীয় নির্বাচন-সংখ্যাগরিষ্ঠতা

২০১৫ সালের নির্বাচনে জাস্টিন ট্রুডো ক্ষমতায় এসেছিলেন ‘প্রকৃত পরিবর্তন’ এবং প্রগতিশীলতার আশ্বাসের মধ্য দিয়ে। কিন্তু চার বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি নিজের কথা রাখতে না পারার অভিযোগ নিয়ে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন বেশ কিছু ক্ষেত্রে।

যেমন, পরিবেশ রক্ষা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর ট্রান্স মাউন্টেন তেলের পাইপলাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পে সমর্থন দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতির উল্টো কাজ করেছেন।

অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কার আনার যে কঠিন ওয়াদা ট্রুডো করেছিলেন তা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রায় সাথে সাথেই বাতিল করে দেন তিনি। যার ফলে বামপন্থি ভোটারদের অনেকেই ক্ষিপ্ত তার প্রতি।

কিন্তু সবকিছুর পরও ২৪ জন কানাডীয় বিশেষজ্ঞের পরিচালিত একটি স্বাধীন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাস্টিন ট্রুডো তার প্রতিশ্রুতিগুলোর ৯২ শতাংশই সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে রক্ষা করেছেন, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে কানাডার কোনো সরকার করেনি।

আর এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া হলেও দ্বিতীয় মেয়াদে লিবারেল পার্টির জয়ের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Bellow Post-Green View