চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের খসড়া করেছেন একটি পত্রিকার সম্পাদক: তাপস

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে যে রায় দেয়া হয়েছে; তার ড্রাফট (খসড়া) একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক করে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘এই রায়ে বিষয়ের বাইরে ভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলা হয়েছে। কিছু অপশক্তি ষড়যন্ত্র করেছে। আমরা জানি কারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত। একে একে আমরা তাদের মুখোশ উন্মোচিত করবো।”

গত ১ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় । সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায় প্রকাশ করা হয়।

পাশাপাশি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের যে সংশোধন আনা হয় তা সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলেও রায়ে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে, গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

তাপস বলেন, “আমরা জানি এই ড্রাফট কোথা থেকে এসেছে। একটি  ইংলিশ পত্রিকার সম্পাদক এই ড্রাফট করে দিয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যগুলো অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানাই।”

বিজ্ঞাপন

ওই প্রতিবাদ  সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম ও সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকট আব্দুল মতিন খসরু, ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ. ম. রেজাউল করিম, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মজুমদার প্রমুখ।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাশ করা হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়।

তবে সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন।

ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

এরপর হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। গত ৮ মে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের উপর শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে আপিল বিভাগে মতামত উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০জন বিজ্ঞ আইনজীবী।

গত ৩ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন। আপিল খারিজের ওই রায়ের ফলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ই বহাল থাকে।

বিজ্ঞাপন