শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে ৩ টি গির্জা ও ৩ টি হোটেলে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে আরও ৪ শতাধিক মানুষ।
হতাহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে এখনো হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। বিস্ফোরণের ধরন সম্পর্কেও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, রাজধানী কলম্বোর সেইন্ট অ্যানথনি’স উপাসনালয়ে রোববার সকালে প্রার্থনার অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে অর্ধশতাধিক মানুষকে কলম্বোর প্রধান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে এই গির্জাতেই। এরপরই একে একে অন্য লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বিস্ফোরণ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তীব্র বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনসহ পুরো এলাকা কেঁপে উঠেছিল।
হতাহতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ বোম্ব স্কোয়াড সূত্র।

রাজধানীর কোচচিকাড়ে এলাকার সেইন্ট অ্যানথনি’স ছাড়াও কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগম্বোর কাটুয়াপিতিয়া এলাকার সেইন্ট সেবাস্টিয়ান’স চার্চ এবং রাজধানীর উত্তরে অবস্থিত বাটিকালোয়া শহরের আরেকটি উপাসনালয়ে ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত প্রার্থনা অনুষ্ঠানে কাছাকাছি সময়ে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।
এছাড়া কলম্বোর তিনটি প্রধান পর্যটন হোটেল দ্য শ্যাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড এবং কিংসবারি হোটেলে বোমা বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনও জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ইতোমধ্যে বিস্ফোরণ পরবর্তী কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নেগম্বোর সেইন্ট সেবাস্টিয়ান’স চার্চের ভেতরের ছবি আছে কিছু। সেখানে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের ফলে ভেঙে পড়েছে গির্জার ছাদ, বিক্ষিপ্ত আসনগুলোতে রক্ত।
চার্চের ফেসবুক পেজে সাহায্যের আবেদন
বিস্ফোরণের কিছু সময় পর সেইন্ট সেবাস্টিয়ানের ফেসবুক পেজে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেয়া হয়: ‘আমাদের গির্জায় একটি বোমা হামলা হয়েছে। আপনাদের পরিবারের সদস্যরা যদি এখানে থাকে তবে দয়া করে আসুন এবং সাহায্য করুন।’
বোমা বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলগুলোতে গেছেন প্রশাসন মন্ত্রী মানো গণেশান। সাংবাদিকদের বলেছেন, ভয়াবহ হামলাগুলোতে তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত।
জরুরি বৈঠক
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমেসিংহে বিস্ফোরণের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে ক্যাবিনেট সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি।







