চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত দেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার

মহান একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরেই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার।

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি পালন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনভর গ্রহণ করা হয়েছে নানান কর্মসূচি। অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ০১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। এরপর বিভিন্ন বিভাগ, হল, অনুষদ, সংগঠন, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কলা ভবনের সামনে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। শহীদ মিনারটির স্থপতি শিল্পী রবিউল হুসাইন। ২০০৪ সালের ৬ নভেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

শহীদ মিনারটিতে ১৯৫২ সালের সব অর্জনের ভিত্তি বিবেচনা করে এর ভিত্তিমঞ্চের ব্যাস রাখা হয়েছে ৫২ ফুট’ এবং ১৯৭১ সালের অবিস্মরণীয় মর্যাদার প্রতি সম্মান জানিয়ে ভিত্তিমঞ্চ থেকে উন্মুক্ত আকাশগামী তিনটি স্তম্ভের উচ্চতা রাখা হয়েছে ৭১ ফুট।

‘১৯৫৪’, ‘৬২’, ‘৬৬’, ‘৬৯’, ‘৭০’, ‘৭১’-কে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ভিত্তিমঞ্চে ব্যবহার করা হয়েছে আটটি সিঁড়ি, যা এই ধারাবাহিকতার প্রতীক।
ঊর্ধ্বগামী স্তম্ভ তিনটির একটি বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, দ্বিতীয়টি মাটি-মানুষ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং তৃতীয়টি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

দৃঢ়তার প্রতীক ত্রিভুজাকৃতির ঋজু কাঠামোর মিনারের স্থাপত্যশৈলীতে বিধৃত হয়েছে সেসব জাতীয় বীরত্বগাথা যারা মায়ের ভাষা, ভূমির জন্য যূথবদ্ধ হয়ে লড়েছেন, জীবন দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বিজ্ঞাপন