চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শেষ ভালো না তবু সব ভালো

শেষ ভালো যার সব ভালো… কথাটা কি সবসময় ঠিক? অবশ্যই না। তাহলে তো বলতে হবে শেষ টেস্ট জিতে পাকিস্তানের পুরো সফরটাই ভালো হয়ে গেছে!

অন্যদিকে সেই প্র্যাকটিস থেকে শুরু করে ওডিআই সিরিজ, টি-টুয়েন্টি ম্যাচ একতরফা জিতে, প্রথম টেস্টটা অবিশ্বাস্যভাবে ড্র করেও এক টেস্ট হেরে সব খারাপ হয়ে গেলো বাংলাদেশের? অবশ্যই না!

এই সিরিজের বাংলাদেশকেই মনে রাখবে ক্রিকেটদুনিয়া, পাকিস্তানকে না।

এটা আমরা সবাই বুঝি শেষ খেলায় ওভাবে না হারলে আমাদের আনন্দটা কানায় কানায় পূর্ণতা পেতো, তৃপ্তিটা পরিতৃপ্তি হয়ে উঠতো। কিন্তু হেরে যাওয়ার কষ্টে কোথায় যেনোসবকিছু গুলিয়ে ফেলছি আমরা। টেস্টে পাকিস্তান এখনও বিশ্বের সেরা তিন দলের একটি, আর বাংলাদেশের অবস্থান ঠিক বিপরীত।

এক টেস্ট ড্র, টি-টুয়েন্টিসহ একদিনের চার খেলায় বাংলাদেশের টানা জয় দেখে যেমন সারপ্রাইজড হয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব- ততোটাই বা তারও চেয়ে বেশি সারপ্রাইজিং হতো পাকিস্তান টেস্ট সিরিজে হেরে গেলে বা জিততে না পারলে। মোট কথা পাকিস্তান যোগ্যতর দল হিসেবেই টেস্টটা জিতেছে। আমাদের দল এই টেস্টেও ড্র করতে পারেনি একটা দিন খারাপ খেলে ফেলায়, তার থেকেও আগে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকায়।

টেস্ট ম্যাচ কিভাবে জিততে হয়, ড্র করতে হয়, সেশন বাই সেশন এগিয়ে যেতে হয়, মাঠের ভিতরে গেইম প্ল্যান, ট্যাকটিক্স, স্ট্র্যাটেজিতে পরিবর্তন আনতে হয়, ব্যাটসম্যান হিসেবে কোন ধরনের শট খেলা থেকে বিরত থাকতে হয়, বোলার হিশেবে ওয়ানডের মাইন্ডসেট থেকে কিভাবে বেরিয়ে এসে টেস্ট খেলতে হয়– এই সবই এখনও শিখছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে ম্যাচিউরিটি পেতে হলে আমাদেরকে আরো অনেক বেশি খেলার সুযোগ দিতে হবে। আর সুযোগ পেলে এই বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের সেরাদের কাতারে যে যাবে তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

আমরা খুব বেশি কথা বলে ফেলছি মুশফিকের টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে। হয়তো সিদ্ধান্তটা ভুল ছিলো। কিন্তু সিদ্ধান্তটা ঠিক হলেই যে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে বিপদে ফেলে দিতো বা ম্যাচটা জিতে যেতো, ড্র করে ফেলতো– এমন অযৌক্তিক ভাবনা কেনো আমাদের!

বিজ্ঞাপন

মুশফিকের সিদ্ধান্ত মুশফিক যে একা নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না তা কি খেলাশেষের মন্তব্যগুলো থেকে বোঝেননি? সিদ্ধান্তটা ভুল ছিলো এ কথার সঙ্গে ক্রিকেটাররা একমত না। আরেকটা ব্যাপার নিশ্চই লক্ষ্য করেছেন আপনারা: টসে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এতোটাই চাপ, সমালোচনা, তিরস্কার, বাজে মন্তব্যের মধ্যে পড়েছিলেন মুশফিক যে স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে তার খেলায়। ব্যাট হাতে দাঁড়াতেই পারেননি টেস্টে আমাদের এই সেরা ব্যাটসম্যান!

কাম অন বাংলাদেশ! অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সাথে সাথে ব্যাটসম্যান মুশফিককেও যদি হারিয়ে ফেলি আমরা… আখেরে অনেক পস্তাতে হবে!

সাড়ে তিনদিনে প্রায় সাড়ে তিনশ’ রানে হেরে যাওয়া মিরপুর টেস্টে যতোটা ভুল করেছে আমাদের দল তারচে’ বেশি ভুল ধরেছি আমরা। এটা ভালো লক্ষণ না। ধৈর্যশীল হতে হবে আমাদেরও। খেলোয়াড়দের ভুল করাটাকেও মেনে নিতে হবে সময় সময়, দলের দুই-একটা খারাপ দিনকেও স্বাভাবিক ধরে নিতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে আসলে একদিনের খেলার মতো দ্রুত প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির জায়গা নেই।

আমার কাছে একটুও মনে হয় না এক টেস্টে পাকিস্তানের কাছে হেরে ‘মহাভারত অশুদ্ধ’ হয়ে গেছে। তবে খোদ মহা ভারতই যে আমাদের পরবর্তি অতিথি। তার জন্যে ভালো একটা ওয়ার্ম আপ, বুস্ট আপ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। সুতরাং পাকিস্তানের বিপক্ষে টোটাল সিরিজটাকেই সঞ্জীবনী হিশেবে দেখতে পারি আমরা।

ভারত আসুক। একদিনের খেলায় জ্বলে উঠুক বাংলাদেশ। টেস্টেও নতুন অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাক। জমজমাট হোক বাংলা-ইন্ডিয়া সিরিজ।

ওহ হো …ভুলেই গেছিলাম, টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে ভারত এখন ৭ নাম্বার দল, আমরা ৯। টেস্ট ম্যাচেওতো ফাইট হওয়ারই কথা… কি বলেন?

ফরহাদ টিটো: বাংলাদেশে আধুনিক ক্রীড়া সাংবাদিকতার পথিকৃৎদের একজন। এখন কানাডাপ্রবাসী।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন