চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিরোপা বিদেশে যাক চায় না বসুন্ধরা-চট্টগ্রাম আবাহনী

চট্টগ্রাম থেকে: ২০১৫ সালে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপা জিতেছিল ঘরের দল চট্টগ্রাম আবাহনী। দুই বছর বাদে দ্বিতীয় আসরে নাকের ডগা দিয়ে শিরোপা নিয়ে যায় মালদ্বীপের দল টিসি স্পোর্টস। তৃতীয় আসরে আর সেটা হতে দিতে চায় না বাংলাদেশের দুই দল চট্টগ্রাম আবাহনী ও বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। নিজেদের মাঠে নিজ টুর্নামেন্টের কাপ হাতছাড়া হতে দিতে নারাজ এ দুই জায়ান্ট।

১৯ অক্টোবর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসর। এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে মোট আট দল। গ্রুপ ‘এ’তে স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গী মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস, ভারতের মোহনবাগান ও লাওসের ক্লাব ইয়ং এলিফেন্ট। গ্রুপ ‘বি’তে লড়বে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, ভারতের চেন্নাইয়িন এফসি ও মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গুনা এফসি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের আরেক জায়ান্ট ঢাকা আবাহনী এই গ্রুপে খেলার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় ভারত থেকে তাড়াহুড়ো করে আনা হচ্ছে গোকুলম কেরালা এফসিকে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম আবাহনী ও টিসি স্পোর্টসের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের আসর।

অংশগ্রহণকারী বিদেশি ছয় দল মোটামুটি খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাংলাদেশে এখনো শুরু হয়নি এই মৌসুমের পেশাদার লিগ। এখনো অনেক ক্লাবই ব্যস্ত শেষ সময়ে নিজেদের দল গোছাতে। ঠিক এ কারণেই নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে জায়ান্ট আবাহনী। বসুন্ধরা-চট্টগ্রামের অবস্থাও খানিকটা নড়বড়ে।

আসরের স্বাগতিক হওয়ায় চট্টগ্রাম আবাহনী চেষ্টা করেছে খানিকটা নিজেদের গুছিয়ে নিতে। আরামবাগ কোচ মারুফুল হক আসরে থাকবেন দলটির ডাগআউটে। কেবলমাত্র এই আসরের জন্য দলটিতে খেলছেন বাংলাদেশ ও সাইফ স্পোর্টিং অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তবে এরইমধ্যে ছয় বিদেশিকে উড়িয়ে এনেছে ক্লাবটি। যার মধ্যে আছেন ইউরোপা লিগে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তিনজন। মন্টেনেগ্রো থেকে আছেন লুকা, আইভরি কোস্ট থেকে আনা হয়েছে মিডফিল্ডার দিদিয়েরকে। বসনিয়ান ডিফেন্ডার পিটার দানিলেরও আছে ইউরোপা খেলার অভিজ্ঞতা।

তবে আক্রমণভাগে এক চমক উপহার দিয়েছে চট্টগ্রাম। উড়িয়ে আনা হয়েছে ঘানার ফরোয়ার্ড প্রিন্স টেগোকে। ২০১০ সালে ঘানার হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন ক্লাব আফ্রিকার এ খেলোয়াড়।

শক্তিশালী বিদেশি খেলোয়াড় থাকলেও চট্টগ্রাম প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহ। দলটির জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও ছিলেন টানা খেলার মাঝে। এরমধ্যে একেকজন খেলোয়াড় একেক ক্লাবের হওয়ায় সমন্বয়ের অভাব থেকে যাবে কিনা এমন প্রশ্নও রয়েই যায়!

বিজ্ঞাপন

তবে মারুফুল হক এমন কথা মানতে নারাজ। চট্টগ্রাম কোচের ভাষ্য তার সকল খেলোয়াড়ই পেশাদার, ‘এটা কখনোই ১০০ শতাংশ সম্ভব না। জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছে, বিদেশি দলের খেলোয়াড় আছে। সময়ও খুব কম ছিল। তবে খেলার আসল লক্ষ্য হল গোল করা আর গোল না খাওয়া। এদিক দিয়ে সবার মাঝে একটা সমন্বয় তৈরির চেষ্টা করেছি। দলে যে ছয় বিদেশি আছে তারা সবাই পেশাদার। যেকোনো পরিবেশেই খাপ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা তাদের আছে।’

‘আমি মোটামুটি দুই-তিনটা দলের খেলা দেখেছি। বেশিরভাগ দলই লিগের মাঝে আছে। একটি দল আট সপ্তাহ ধরে প্রাক-মৌসুমে অনুশীলন করেছে। এখন আমাদের প্রথম লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার করা। আগে আমরা সেমিফাইনালে পৌঁছাতে চাই।’

একই লক্ষ্য বসুন্ধরা কিংসেরও। তবে দলটিতে বিদেশি মাত্র দুজন, যার মধ্যে কোস্টারিকার হয়ে বিশ্বকাপ দলে খেলা তারকা ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসের হাতে উঠেছে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। গত মৌসুমে প্রথমবার পেশাদার লিগে খেলেই চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা এই দল নিয়েই জিততে চায় নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও। প্রতিপক্ষ দলগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তাদের স্প্যানিশ কোচ বলেছেন আরেকটি শিরোপা জিততে প্রস্তুত তারা।

‘এমন মর্যাদার এক টুর্নামেন্টে যেকোনো একটি মাত্র দল শিরোপা জিতবে। এতসব শক্তিশালী ক্লাব নিয়ে হওয়া টুর্নামেন্টকে মোটেও প্রীতি টুর্নামেন্ট বলা চলে না। আমাদের লক্ষ্য হল আসরে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেয়া। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ কী খেলেছে সেটা সবাই দেখেছে। আমরাও সেরকম একটাই খেলা দিতে চাই। আমরা প্রস্তুত। আমরা কাউকেই ভয় পাই না।’

দলবদলে জাতীয় দল থেকে সেরাদেরই দলে টেনেছে বসুন্ধরা। নতুনদের নিয়ে ছন্দপতন ঘটবে না বলে বিশ্বাস বসুন্ধরা কিংস কোচের। একইসঙ্গে এই আসর দিয়ে নতুন রিক্রুটদের অবস্থাও জানা হবে, ‘খেলোয়াড়দের অবস্থা আগে বুঝে নিতে চাই। তাদের দর্শনও জানা প্রয়োজন। আমরা চাই ফাইনালে উঠতে। শিরোপা জিততে পারলে ভালো। তাহলেই আমাদের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।’

আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়ে এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দল মোহনবাগান। দলে আছে পাঁচ স্প্যানিশ খেলোয়াড়, আছে ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর জাতীয় দলের একজন ফুটবলারও। নতুন করে দল সাজিয়ে পূর্ণশক্তি নিয়েই চট্টগ্রামে এসেছেন বলে জানিয়েছেন মোহনবাগান কোচ কিবু ভিচুনা।

আসরের সবচেয়ে তরুণ দল লাওসের ইয়ং এলিফেন্টের। মাত্র চারবছর আগে গঠিত এ ক্লাবটি খেলছে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও। দলে দেশটির জাতীয় দলের আছেন চার খেলোয়াড়। ১৮ থেকে ২৩ বছরের খেলোয়াড়দের নিয়ে দলটি প্রস্তুত নিজেদের সেরাটা দিতে। আসরে তারাই একমাত্র দল যাদের বহরে নেই কোনো বিদেশি খেলোয়াড়!

২০১৭ সালে যে দল নিয়ে আসরের দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল টিসি স্পোর্টস এবারের দলটা তা থেকে সম্পূর্ণ নতুন বলে জানালেন ম্যানেজার আবির। দুই বছর আগের দলের দুই-তিনজন আছে বর্তমান স্কোয়াডে। তবে লিগ খেলার মধ্যে থাকায় দলটা বেশ গোছানো এবং শিরোপা ধরে রাখতেও প্রস্তুত বলে জানালেন টিসি ম্যানেজার।

Bellow Post-Green View