চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শান্ত সাহস শেখ হাসিনা

বিশ্ব ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ২০১৯ এর শেষ থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ এক কঠিন সময় পার করেছে। এই পরিস্থিতির নাম করোনা পরিস্থিতি। তবে এর মাঝেও জনগণকে মানসিকভাবে ধরে রাখা, এগিয়ে নেয়া এক বিশেষ যোগ্যতা ও সামর্থ্যের স্বাক্ষর। বেদনার বিষয়, এমন বিপর্যয়েও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কী করে, এককথায় মজা দেখার মতলবে অনেকে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

আনন্দের বিষয়, এমন পরিস্থিতিতেও দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিকভাবে নজির সৃষ্টি করেছে। নিজেদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে বৈশ্বিক বাজারের সাথে যোগাযোগ ও সরবরাহ বজায় রেখেছে। এসব সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার চিন্তা ও ডিজিটাল বাংলার রুপকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের কর্মকৌশলের কারণে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সব কিছু বন্ধ রেখেও ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছানো, টেলিমেডিসিন সেবা চালুসহ মৌলিক বিষয়গুলোকে অব্যহত রাখা গেছে।

Reneta June

উল্টোদিকে এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বহু বাঘা বাঘা দেশও নাজেহাল বনে গেছে। এশিয়ার অর্থনীতিতে ফুলেফেঁপে উঠা দেশ শ্রীলংকা তো নিজেদের দেউলিয়াই ঘোষণা করেছে। মূলত করোনা পরিস্থিতির কারণে পর্যটন ব্যবসায় ধস ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সীমাহীন ভোগ, বিলাস, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, এসবই তাদের অচলবস্থার কারণ।

বিজ্ঞাপন

অন্যের দুরাবস্থা থেকে আনন্দ নয় শিখতে হয়। সেই শেখার জায়গা থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে। মানুষ এখন বিশ্বাস করে যতদিন শেখ হাসিনার হাতে দেশ আছে ততদিন তাদের দেশ পথ হারাবে না। যার প্রমাণ হেনরি কিসিঞ্জার কর্তৃক অপবাদ দেয়া তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা হটিয়ে দেশ উদ্বৃত্ত অর্থ ও খাদ্য রপ্তানির দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে এগোচ্ছে।

বৈশ্বিক যুগের অংশীদার হিসেবে এশিয়ার শ্রীলংকা ও আফ্রিকার সোমালিয়াকে ঋণ সুবিধা দিয়েছে। এর মাঝে প্রবল সংকট ও দুরাবস্থার কারণে সোমালিয়ার ঋণ মওকুফ করেছে। যারা এদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং অভ্যুদয়কে হেয় সম্পন্ন দৃষ্টিতে দেখেছে, চক্রান্ত করেছে, করছে তাদের জন্য এ বিষয়গুলো রুপকথার গল্পের মত, অবিশ্বাস্য। কিন্তু এসবই আসলে সত্য, সুন্দর। বিদেশী আগ্রাসী, দখলদারি ব্রিটিশ, পাকিস্তানি উপনিবেশকারীরা চুষে খাবলে শুধু ছোবড়া রেখে গেলেও সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা অদম্য শেখ হাসিনা।

তার নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে চলার সমস্ত বৈশ্বিক সূচকে উন্নতি করেছে। ২০০৫-০৬ সালেও যেখানে মানুষের গড় আয়ু ৫৯ বছর ছিল সেটি এখন ৭৩ বছর। শিশু মৃত্যুহার কমে প্রতি হাজারে ৮৪ থেকে ২৮ এবং মাতৃমৃত্যু হার প্রতি লাখে ৩৭০ থেকে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুত উৎপাদন সক্ষমতা ৪,৯০০ মেগাওয়াট থেকে ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুত সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ থেকে ১০০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রফতানি ৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৮-০৯ বছরের ৭ দশমিক চার-সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে এ হার প্রায় ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অন্য উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য উদাহরণস্বরূপ। ধান উৎপাদনে বিশ্বে ৩য় এবং মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও এখন স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেশী দেশের সাথে সূচকের তুলনা করলে বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট হয়। দারিদ্র্যের হার যেখানে পাকিস্তানে ৩৯.২০ বাংলাদেশের ২০.৫। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন, পাকিস্তানের ২৪ বিলিয়ন। টাকার মান হিসেবে বাংলাদেশের এক টাকা সমান পাকিস্তানের ২ টাকা ১২ পয়সা। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর, পাকিস্তানের ৬৭ বছর। বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাপর্ব শেষ করছে ৯৮ শতাংশ শিশু, পাকিস্তানে ৭২ শতাংশ।

এসবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবিরাম পথচলার কারণে। বাংলার মানুষের উন্নয়নের জন্যে মৃত্যুকে পরোয়া না করে তিনি কাজ করে চলেছেন। সেই কাজগুলোকে এখন জনমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো প্রয়োজন। এজন্য ছাত্রসংগঠনকে বিশেষভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। কারণ এদের প্রায় সকলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন, এদের অনুসারী সংখ্যাও কম নয়। কাজেই এই বিষয়টিকে কাজে লাগাতে হবে।

পাশাপাশি ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে সব সংগঠনকে কিছুদিনের জন্য হলেও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং বন্ধ করে বাঙ্গালির শান্ত সাহস শেখ হাসিনার কর্মপরিধিকে তুলে ধরতে হবে, প্রচার করতে হবে। কারণ একক শেখ হাসিনায়-ই সামষ্টিক স্বপ্ন, সামষ্টিক উন্নয়ন।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)