চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শাকিব ভাইয়ের জন্য একমাস ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি: মাহি

‘ভালোবাসা আজকাল’ এর পর আবার শাকিব খানের সঙ্গে ছবি করছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। অনন্য মামুনের পরিচালনায় শাকিব-মাহির এবারের মিশন ‘নবাব এলএলবি’। সঙ্গে অর্চিতা স্পর্শিয়া। নির্মাণাধীন এ ছবির মাধ্যমে করোনাকালীন প্রথম কোনো ছবির শুটিংয়ে নেমেছেন  এ ‘অগ্নিকন্যা’। এফডিসির শুটিং সেটে মাহির সঙ্গে চ্যানেল আই অনলাইনের মিনিট দশেক কথা হয়। সেই আলাপে কিছু অংশ থাকলো এখানে…

কতদিন পর সিনেমার শুটিংয়ে ফিরলেন?
ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ‘স্বপ্নবাজি’র শুটিং করেছিলাম। করোনার মধ্যে ‘অক্সিজেন’ নামে একটি শর্টফিল্ম করেছি। সিনেমা ধরতে গেলে ‘স্বপ্নবাজি’র পরে ‘নবাব এলএলবি’ মাধ্যমেই কাজ শুরু করেছি।

বিজ্ঞাপন

করোনার মধ্যে শুটিংয়ে ভীতি কাজ করছে না?
সিনেমার শুটিংয়ে এতো মানুষ জড়িত থাকে যে খুব বেশি নিয়ম মানা সম্ভব হয় না। তারপরও আমাদের শুটিংয়ে মোটামুটি সবাই নিয়ম মানার চেষ্টা করছেন। তবে আমার মধ্যে করোনা নিয়ে কোনো ভয় কাজ করছে না। যদি মনে ভয় রাখি, তাহলে ক্যামেরার সামনে এক্সপ্রেশন বা অভিনয় ডেলিভারি দিতে সমস্যা হবে। তাই নির্দ্বিধায় আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করেই শুটিংয়ে নেমেছি।

বিজ্ঞাপন

আপনাকে আইনজীবীর পোশাকে দেখা যাচ্ছে। ‘নবাব এলএলবি’-তে আপনার চরিত্র সম্পর্কে বলুন…
আমি পুরোপুরি আইনজীবী নই। একজন বড় আইনজীবীর সহকারীর চরিত্রে কাজ করছি। এ চরিত্রটি এবারই প্রথম করলেও এখানে আহামরি কিছুই নেই। খুবই সাধারণ, চ্যালেঞ্জের কিছুই নেই। দর্শক আমাকে ভিন্নভাবে দেখে অনেককিছু পাবে এমনটাও না। জাস্ট আরেকটা নায়িকা। নায়িকার যতটুকু থাকা দরকার, আমিও তাই।

‘নবব এল এল বি’ তে শাকিবের সঙ্গে মাহি

ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি পাবে ‘নবাব এলএলবি’। ওটিটিতে সিনেমা মুক্তি দেয়া বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
এটা আসলে যুগের সঙ্গে তাল মেলানো। তবে আমার এটা ভালো লাগে না। সিনেমা যেদিন মুক্তি পাবে সেদিন হলে হলে দর্শকদের ঢল, আনন্দ, উল্লাস করা এই জিনিসগুলো আমাকে বেশি টানে। এছাড়া বড় স্ক্রিনে সিনেমার ব্যাপারটাই আলাদা। শাকিব ভাইয়ার সঙ্গে অনেক বছর পর কাজ করছি, ছবিটা যদি হলে মুক্তি পেত খুব শান্তি পেতাম। তবে সিনেমা হল বাঁচানোর জন্য সরকার এগিয়ে আসছেন, আমার মনে হয় ছবিটা হলেও মুক্তি দেয়া হবে।

প্রায় ৭ বছর পর শাকিব খান ও আপনি একসঙ্গে শুটিং করছেন। এবার প্রথম শুটিং সেটে দেখা হয়ে দুজনার মধ্যে কী আলাপ হল?
৭ বছর আগে যখন শুটিং করেছি তখন শাকিব ভাই অনেক ফানি ছিলেন। তাকে দেখে যতটা চুপচাপ, সিরিয়াস মনে হয় উনি আসলে এমন না। উনি খুবই মজার মজার কথা বলতেন। কিন্তু এখনকার শাকিব খান সামথিং মোর দেন আদার্স। তাকে মেগাস্টারই বলা যায়। এতো বড়মাপের শিল্পী হলেও তার সঙ্গে কাজ করতে গেলে মনেই হয় না। এবার প্রথমদিন সেটে শাকিব ভাইয়াকে বললাম, ‘আপনি এত শুকাচ্ছেন কেন! আপনার তো এতো শুকানোর দরকার নেই। আপনার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। আপনার জন্য একমাস ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। এজন্য আমার আত্মা কষ্ট পাচ্ছে।’ সত্যি কথা বলতে শাকিব ভাই এখন জিম করে পুরো ফিট হয়ে গেছেন। এজন্য আমাকেও ডায়েট করতে হচ্ছে।

আগামীতে শাকিব-মাহি জুটিকে নিয়মিত পাওয়া যাবে?
এটা আসলে বলা যায় না। এটা তো ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। শাকিব ভাইয়া তার মতো করে সুপারস্টার ইমেজে নিয়ে কাজ করেন। তার উপর নির্ভর করা গল্পতে কাজ করেন। আবার আমিও চেষ্টা করি গল্পটা যেন আমার উপর নির্ভর করে হয়। মানুষ যেন আমার নিজের পরিচিতিতে চেনে। তবে ‘নবাব এলএলবি’ করেছি শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে অনেকদিন কাজ হয়না বলে। তাছাড়া দর্শকও চাচ্ছিলেন আমি যেন তার সঙ্গে কাজ করি।