চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

শাকিব বললেন ‘আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে’, প্রমাণ চাইছেন দিলরুবা

‘পাগল মন’ গান নিয়ে বিতর্ক…

Nagod
Bkash July

‘পাসওয়ার্ড শুটিংয়ের সময় মেকআপ রুমে বসেই ফোনে কথা হয় দিলরুবা খানের সঙ্গে। তখন ইকবাল, মালেক আফসারী, আবদুল্লাহ জহির বাবু প্রত্যেকেই সেখানে ছিলেন। তারাও লাউডস্পিকারে শুনেছেন। সাক্ষী আছে আমি দিলরুবা খানের কাছ থেকে ‘পাগল মন’ গানের ফিউশনের জন্য অনুমতি নিয়েছি। তখন তিনি খুশি হয়েছিলেন। আমাকে দোয়া দিয়েছিলেন। এখন কেন অস্বীকার করছেন? তিনি সিনিয়র শিল্পী হিসেবে নিজের সম্মানটাই নষ্ট করলেন। এখন মিথ্যে বলে আমাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করছেন।’

মুঠোফোনের ওপাশ থেকে কিছুটা বিরক্তিমাখা কণ্ঠে একনাগাড়ে কথাগুলো বলছিলেন দেশের তারকা অভিনেতা ও প্রযোজক শাকিব খান।

Sarkas

সম্প্রতি কপিরাইট অমান্যের অভিযোগ তুলে একটি মুঠোফোন সেবাদানকারী কোম্পানি ও শাকিব খানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ দায়ের করেছেন ‘পাগল মন’ খ্যাত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খান।

তার গাওয়া গান ‘পাগল মন’-এর দুলাইন ফিউশন হিসেবে শাকিব খান প্রযোজিত ‘পাসওয়ার্ড’-এ ব্যবহার করায় দিলরুবা খান অভিযোগ এনে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। মৌখিক অনুমতি দেয়ার পরও এমন অভিযোগ দায়ের করায় দিলরুবা খানের আচরণে ক্ষিপ্ত শাকিব।

মঙ্গলবার বিকেলে শাকিব খান চ্যানেল অনলাইনকে বলেন, দিলরুবা খান অনুমতি না দিলে আমি কেনই বা ওই গানটি নিবো, তাও মাত্র দুলাইন? শুধু অনুমতি না, সঙ্গে তিনি আমাকে অনেক দোয়া করেছিলেন সেদিন। বলেছিলেন, নতুন করে গান হলে রিকল হবে। আরও মানুষের কাছে পৌঁছুবে। এখন উনি মিথ্যে বলে আমার সাথে প্রতারণা করছেন। এটা শ্রেফ ব্ল্যাকমেইল।

‘পাসওয়ার্ড’ মুক্তি পেয়েছে গেল বছর রোজার ঈদে। মুক্তির আগেই ইউটিউবে গান প্রকাশ হয়েছিল। বছর পার হওয়ার পর কেন দিলরুবা খান কপিরাইট নিয়ে সোচ্চার হলেন, এমন প্রশ্ন রেখে শাকিব খান বলেন, যখন গান রিলিজ হয়েছিল তখন উনি কেন চুপ ছিলেন? তখন যদি উনি অভিযোগ করতেন তাহলে তো গান রাখতামই না। এমন তো না যে ‘পাগল মন’-এর দুই লাইন না রাখলে ছবির ক্ষতি হতো!

দিলরুবা খান ‘পাগল মন’ গানটি বিক্রি করে দেন তোজাম্মেল হক বকুলের কাছে। তিনি আবার গানটি তার চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেন। ওই চলচ্চিত্রটি অনুপম মিউজিকের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। সেই হিসেবে গানের মালিক অনুপম মিউজিক বলে জানায় প্রতিষ্ঠাটির উর্দ্ধতন কর্মকর্তা।

শাকিব খান বলেন, ‘পাসওয়ার্ড’ ছবির পার্টনার ইকবাল এবং পরিচালক মালেক আফসারী দুজনেই অনুপম মিউজিকের অরজিনাল গান থেকে অনুমতি নিয়েই গানের দুলাইন নিয়েছেন। তারপর ব্যবহার করা হয়েছে। বরং আমি ভদ্রতা ও সম্মান প্রদর্শন করে চিত্রনাট্যকার আবদুল্লাহ জহির বাবুর মাধ্যমে দিলরুবা খানের সাথে কথা বলে অনুমতি নিয়েছিলাম। উনি কি সেই সম্মানটা রাখলেন? এতদিন পর কেন এই কাহিনী?

যোগ করে শাকিব খান বলেন, করোনার আগে গান বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি ওয়েস্টিনে আসতে বলি। তা না করে উনি মোহাম্মদপুরে এক বাসায় আমাকে যেতে বলেন। তারপরেও আমি গিয়েছিলাম। বলেছিলেন, একবছর কেন গান নিয়ে কথা উঠছে? দিলরুবা খান তখন বলেছেন, এ বিষয়ে তার আইনজীবী কথা বলবেন। উনি কিছুই বলবেন না। উনি এখন যেটা দাবি করছেন সেটা ছবির বাজেটের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। তার এই দাবি, পুরোপুরি অবান্তর।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে শিল্পী দিলরুবা খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চ্যানেল আই অনলাইনকে এই শিল্পী বলেন, আমার কাছ থেকে যে তারা অনুমতি নিয়েছেন তার কোনো ডকুমেন্ট থাকবে না? সেগুলো তারা দেখাক। তাহলেই তো ঝামেলার সমাধান হয়ে যায়।

দিলরুবা খান আরো বলেন, রেশারেশি কিংবা দ্বন্দ্বের কিছু হয়নি। তারা বলছেন, ‘পাগল মন’ গানের সত্ত্ব আমি তোজাম্মেল হকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি, তো তারা কপিরাইটের সেই দলিল আমাকে দেখাক। প্রমাণ করুক যে, গানের মেধাসত্ব আমি বা এই গান সংশ্লিষ্টরা বিক্রি করে দিয়েছিলাম!

উল্টো প্রশ্ন রেখে এই শিল্পী বলেন, মৌখিক অনুমতি কি কপিরাইট বা এসবে চলে? কপিরাইট আইন ভঙ্গ করে মুঠোফোন সেবাদানকারী প্লাটফর্মে গানটি নিয়ে তারা কেন ব্যবসা করতে গেল?

এরআগে দিলরুবা খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালক মালেক আফসারী বলেন, এফডিসিতে‌ পাসওয়ার্ড ছবিটির শুটিং চলছিল। আমরা চার নম্বর মেকআপ রুমে গান নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম।সেখোনে ছিলেন ছবির প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল, আমি, শাকিবসহ অনেকে। সে সময় ইকবাল বলেন, ‘গানের পারমিশন তো নিয়ে আসলাম।’ ‘পাগল মন’ ছবির প্রযোজক নাদের খান ও পরিচালক তোজাম্মেল হক বকুলের কাছে গানটি দিলরুবা খান বিক্রি করেছিলেন। ইকবাল নাদের খানের কাছে পারমিশন নেন। শাকিব তখন বলেছিলেন, ‘না যিনি এর গায়িকা তার পারমিশনও নেবো’। দিলরুবা খানকে সম্মান দেওয়ার জন্য শাকিব নিজেই ফোন দেন। আমরা ইঙ্গিত করি, ফোনটা লাউড স্পিকারে দেওয়ার জন্য। ফোনটি ধরে কী যে খুশি হয়েছিলেন দিলরুবা খান।

মালেক আফসারী আরও বলেন, তিনি খুশি মনে গানটি দিয়েছিলেন। শাকিব বলেছিলেন, ‘আপনি একটু প্যাডে লিখে দিন।’ দিলরুবা খান বলেছিলেন, ‘প্যাড-ট্যাড লাগবে না। বোনের গান ভাই নেবে, সমস্যা কী!

দিলরুবা খানকে উদ্দেশ করে এই পরিচালক বলেন, ‘২০১৯ থেকে আপনি কোনও কথা বললেন না। এক বছর পর কথা বললেন। কারণ গানটি অন্য একটি প্লাটফর্মে গেছে বলে? শাকিব কিন্তু আপনাকে সম্মানীর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘যদি মন চায়, বলেন, আমি কিন্তু লিখিত চাই’। শাকিব ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

পাসওয়ার্ড ছবির চিত্রনাট্যকার চিত্রনাট্যকার আবদুল্লাহ জহির বাবু বলেন, আমার অফিস কলিগ সুমনের ফোন থেকেই শাকিব খান ভদ্রতার খাতিরে দিলরুবা খানের কাছে ফোন দিয়েছিলেন। উনি শুধু অনুমতি নয়, দোয়াও দিয়েছিলেন। এখন দিলরুবা খান মিথ্যে বলছেন। আর গানের রাইটস তোজাম্মেল হক বকুলের বউ এবং অনুপম মিউজিক দুই জায়গা থেকেই আমরা নিয়েছি। দিলরুবা খান হান্ড্রেড পারসেন্ট মিথ্যে বলে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছেন। উনি যেভাবে আইনের শরণাপন্ন হচ্ছেন ওটা আইনের তো শেষ মাথা নয়। আমরাও আইনি ভাবে আগাবো।

BSH
Bellow Post-Green View