চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও: টাইটানিকে বদলে যাওয়া জীবন

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও’র ৪৫তম জন্মদিন:

১৯৭৪ সালের ১১ নভেম্বর আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মেছিল একটি শিশু। নাম লিওনার্দো উইলহিল্ম ডিক্যাপ্রিও। তখনও কেউ ধারণা করেনি যে এই শিশুই বড় হয়ে দাপটের সাথে হলিউড কাঁপিয়ে বেড়াবে!

ডিক্যাপ্রিওর বেড়ে ওঠা খুব একটা সুখের ছিল না। তিনি বেড়ে উঠেছেন লস অ্যাঞ্জেলস এর খুব সাধারণ এক পরিবারে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ সইতে হয়েছে তাকে। যেই পরিবেশে তিনি থাকতেন, সেটা ছিল ড্রাগ এবং পতিতাবৃত্তির স্বর্গরাজ্য। শৈশবে আশেপাশের মানুষদের নেশা করতে দেখায় কখনই ওইপথে যাওয়ার ইচ্ছে হয়নি তার। ভয় ঢুকে গিয়েছিল মনে।

বিজ্ঞাপন

অন্ধকার এই জগত ছেড়ে যখন হলিউডের পথে পা বাড়িয়েছিলেন ডিক্যাপ্রিও তখন তা ছিল পার্কে বেড়ানোর মতো আনন্দের। শৈশবের স্মৃতিগুলো থেকে পালানোর মাধ্যম ছিল অভিনয়।

ডিক্যাপ্রিওর কর্মজীবন শুরু হয় পাঁচ বছর বয়সে কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্র ও শিক্ষামূলক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। ছোট বেলায় স্কুলে বুলিং-এর শিকার হয়েছিলেন ডিক্যাপ্রিও। এরপরেই তিনি তার মাকে বলেছিলেন অভিনয়ের ক্লাসে ভর্তি করে দেয়ার জন্য। তার বয়স যখন ১৫, তখন মাকে জানান যে তিনি অভিনেতা হতে চান।

১৯৯০ সালে ডিক্যাপ্রিও প্রথম টেলিভিশনে অভিনয়ের সুযোগ পান। ডিক্যাপ্রিওর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৯১ সালে কমেডি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ক্রিটারস ৩ দিয়ে। এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন ভূস্বামীর সৎ ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ডিক্যাপ্রিওর অভিনয় জীবনের প্রথম বড় সুযোগ আসে ১৯৯২ সালে যখন ৪০০ শিশু শিল্পী থেকে তাকে রবার্ট ডি নিরো নিজে দিস বয়’স লাইফের জন্য বাছাই করেন।

১৯৯৩ সালে তিনি হোয়াট’স ইটিং গিলবার্ট গ্রেপ-এ জনি ডেপের মানসিক বিকারগ্রস্ত ছোট ভাই আর্নি গ্রেপ চরিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করে এবং ডিক্যাপ্রিও পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউ পুরস্কার লাভ করেন এবং একাডেমি পুরস্কার ও গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।

এরপর ধীরে ধীরে মূল ধারায় চলে আসেন ডিক্যাপ্রিও। ১৯৯৬ সালে ডিক্যাপ্রিও উইলিয়াম শেকসপিয়র রচিত প্রণয়-বিয়োগাত্মক নাটক ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ এর আধুনিক চিত্রনাট্যে ব্যাজ লুরমানের পরিচালনায় রোমিও + জুলিয়েট চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এতে তার বিপরীতে জুলিয়েটের ভূমিকায় অভিনয় করেন ক্লেয়ার ডেইন্স। ছবিটি ব্যবসাসফল হয় এবং বিশ্বব্যাপী ১৪৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে।

তবে ডিক্যাপ্রিওর জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দিয়েছিল ‘টাইটানিক’। ১৯৯৭ সালে ডিক্যাপ্রিও জেমস ক্যামেরন পরিচালিত টাইটানিক চলচ্চিত্রে ২০ বছর বয়সী জ্যাক ডসনের ভূমিকায় অভিনয় করেন। প্রথমে এই চরিত্রে অভিনয় করতে না চাইলেও ক্যামেরনের আত্মবিশ্বাসের কারণে এই চরিত্রে অভিনয় করতে অনুপ্রাণিত হন তিনি। চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ১.৮৪৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে। যা ২০১০ সালের পূর্ব পর্যন্ত হলিউডের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় নাম লেখায়।

এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি ডিক্যাপ্রিওকে। মার্টিন স্করসিস, জেমস ক্যামেরন, রিডলি স্কট, স্টিভেন স্পিলবার্গ, ক্লিন্ট ইস্টউড, ক্রিস্টোফার নোলান, কোয়েন্টিন টারেন্টিনোর মতো বিখ্যাত নির্মাতারা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর কথা ভেবে চরিত্র সৃষ্টি করেন তাদের ছবিতে। ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দ্য অ্যাভিয়েটর, দ্য ডির্পাটেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট, দ্য গ্রেট গ্যাটসবি, ইনসেপশন, রেভিন্যান্ট, ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড চলচ্চিত্রের মতো সাড়া জাগানো ব্যবসা সফল ছবি উপহার দিয়েছেন ভক্তদের। এর মধ্যে রেভিন্যান্ট ছবির জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে প্রথমবার অস্কার জিতে নেন এই তারকা।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি লিওনার্দো একজন সমাজসেবক। পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই অবদান রেখে চলেছেন এই অভিনেতা। তার দাতব্য প্রতিষ্ঠান আর্থ অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে ১৯৯৮ সাল থেকে বিশ্বের ৪০টি দেশে পরিবেশ রক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে কাজ করছেন। সর্বশেষ আমাজনে আগুন লাগার পর বিশাল এই বনের পরিবেশ রক্ষায় কাজ করার জন্য ৪২ কোটি ৩২ লাখ টাকা (৫ মিলিয়ন ডলার) দান করেছেন।

কোয়ান্টিন টারান্টিনোর আলোচিত ছবি ‘ওয়ান্স আপন অ্যা টাইমন ইন হলিউড’-এর পর বর্তমানে এই অভিনেতার হাতে আছে অন্তত চারটি ছবির কাজ। এরমধ্যে মার্টিন স্করসিসের ‘কিলারস অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ এব স্টিফেন টেটলি’র ‘দ্য ব্ল্যাক হেন্ড’ উল্লেখযোগ্য।

Bellow Post-Green View