চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘লক্ষ্মী’ রিভিউ: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছবিটি দেখার ধৈর্য ধরে রাখা কঠিন

তৃতীয় লিঙ্গের বেশে অক্ষয় কুমার, লাভ জিহাদের উসকানি, হিন্দু সংগঠনের চোখ রাঙানির মাঝেই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হটস্টার-এ মুক্তি পেল ‘লক্ষ্মী’। ছবিটি কেমন হলো? ‘লক্ষ্মী’র সাজে কি দর্শকদের মন জয় করতে পেরেছেন অক্ষয়? রিভিউ লিখেছেন ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সিনিয়র সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র সমালোচক শুভ্রা গুপ্ত।

পরিচালক- রাঘব লরেন্স
অভিনয়ে- অক্ষয় কুমার, কিয়ারা আদভানি, শারদ কেলকার, অশ্বিনী কালসেকার, আয়েশা রাজা মিশ্র, রাজেশ শর্মা

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি লক্ষ্মীর গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ছবি। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছবিটি দেখার ধৈর্য ধরে রাখা কঠিন।

ছবি যখন শুরুতে অক্ষয় কুমার আসিফ নামের এক মুসলিম পুরুষের চরিত্রে থাকেন। বিয়ে করেন রেশমি (কিয়ারা আদভানি) নামের এক হিন্দু মেয়েকে। সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন।

এক শিশু শিল্পীকে বলতে শোনা যায়, ‘এখনও হিন্দু মুসলিমেই আঁটকে আছেন।’ কিন্তু ছবির গল্প ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে নয়। এটি হরর-কমেডি, ২০১১ সালের ‘কাঞ্চনা’র হিন্দি রিমেক। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করার মিশন নেয়া আসিফকে দেখা যায় অদ্ভুত আচরণ শুরু করতে।

অক্ষয়ের ‘ভুল ভুলাইয়া’ ছবিটিও ছিল হরর-কমেডি। কিন্তু সেই ছবির গল্প এবং নির্মাণ ভালো ছিল। কিন্তু লক্ষ্মী ছবিটি একেবারেই অগোছালো মনে হয়েছে। ছবির মূল চরিত্রকে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন তান্ত্রিকের কাছে যেতে। এমনকি খারাপ আত্মার উপস্থিতিতে তিন চোখযুক্ত নারিকেল নড়তেও দেখানো হয়েছে। এসব বিষয় ছবিটিকে হাস্যকর করে তুলেছে।

গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকেও বের হতে পারেনি সিনেমাটি। তৃতীয় লিঙ্গের চরিত্রের হাতে তালি দেয়া, আগুনের পাশে নাচ- এসবে কোনো নতুনত্ব নেই।

এই ছবিতে আসলে কেউই সফল নন, এমনকি অক্ষয়ও না। অক্ষয়কে দেখেও মনে হয়েছে তিনি এই চরিত্রটি নিয়ে তেমন না ভেবেই অভিনয় করেছেন। ছবিতে শুধু নজর কেড়েছে শারদ কেলকারেরর অভিনয়।

আমরা দর্শক। এই দুই ঘণ্টা কখনই ফিরে আসবে না।